বাংলাদেশে ওয়ান ইলাভেন পুনরায় ঘটবে না, দুর্ণীতিবাজদের শাস্তি ঘর থেকেই শুরু : নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভিডিও)
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/394706611447253/
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার আগে থেকেই দুর্ণীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে দেশে ওয়ান ইলাভেনের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোন অনিয়ম থেকে থাকে, আমি ব্যবস্থা নেব, আমরা ব্যবস্থা নেব এবং সে যেই হোক না কেন, এমনকি তারা আমার দলের হলেও। যদি আমি দুর্ণীতিবাজদের শাস্তি দিতে চাই, আমার ঘর থেকেই তা আগে শুরু করতে হবে।’ একবার যখন ধরেছি তখন অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে আমি এবার ভালভাবেই ধরেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে জাতিসংঘের ৭৪ তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিানিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে প্রতিবছর নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে তিনি গত আট দিনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদান, সাধারণ পরিষদে ভাষণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্প প্রস্তুতি থেকে শুরু করে প্রকল্পের কাজ পাওয়ার জন্য অর্থ বিতরণের সুযোগ নিয়ে কিছু লোক বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অর্থ চটের বস্তাতেও লুকিয়ে রাখা হচ্ছে এবং ওয়ান ইলাভেনের পট পরিবর্তনের পর আমরা এটা দেখেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘হঠাৎ করে যে সম্পদ আসে তা দেখানো কিছু মানুষের স্বভাব। আমাদের সমাজের এই অংশটিকে আঘাত করতে হবে।’
জনগণের জন্যই তাঁর রাজনীতি এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘আমি সব সময় জনগণের মঙ্গলের কথাই চিন্তা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আমার দল এবং সমাজের ওপর ক্ষতিকারক কোন প্রভাব পড়ছে কিনা সে বিষয়েও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমাকে সেটা মোকাবেলাও করতে হবে। যে কারণে আমি এই অভিযান চালাচ্ছি (দুর্ণীতি বিরোধী)।’
কিছু লোক এই অভিযান পরিচালনায় তাঁর ওপর অখুশি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু, আমি এটার পরোয়া করি না কেননা আমার ক্ষমতা এবং সম্পদের প্রতি কোন মোহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ণীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।’ যদিও এজন্য কোন বিশেষ কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্ণীতির কোন তথ্য পেলেই আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সেল গঠন করেছি এবং তাঁদের সময় মত নির্দেশনা প্রদান করছি। এই অভিযান চলতে থাকবে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান যে, দেশের প্রত্যেক মানুষের উন্নত ও সুন্দর জীবনযাপন করবে। এই সুযোগে কিছু সংখ্যক মানুষ সমাজকে বিষাক্ত করবে, এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আমি এই নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, দেশে খেলাধূলার উন্নয়নে ক্রীড়াসামগ্রীর আমদানী খুবই ভালো। কিন্তু এটা অকল্পনীয় যে, ক্রীড়াসামগ্রী আমদানীর নামে জুয়ার জিনিসপত্র আনা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যে কোন ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির তৎপরতা প্রতিরোধে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আমরা এই অভিযানে প্রায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে। এখন আমরা দুর্ণীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বহু প্রকল্প তৈরি ও এসব প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হবে এবং এসব কাজও সম্পন্ন হবে নির্বিঘেœ। এতে কোন অনিয়ম হলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। এর ফলে আমরা যেভাবে দেশের উন্নয়নের চিন্তা করছি, তা সম্পন্ন হবে না।
রোহিঙ্গা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, তারা যে কথাই বলুক না কেন, মিয়ানমারই এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকেই এর সমাধান দিতে হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদানকারী মিয়ানমারের নেতার বক্তৃতায় রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশের দাবীকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নাগরিক অন্য দেশের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে, এটা হচ্ছে মিয়ানমারের জন্য লজ্জা, অসম্মান এবং একই সঙ্গে তাদের দুর্বলতা।
তিনি বলেন, এটা আমাদের কাছে খুব বড় প্রশ্ন যে, কেন তারা তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে না।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে তাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপও সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলে, রোহিঙ্গাদের মাঝে মিয়ানমারের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা বাসভূমিতে ফিরে যায়। এটা মিয়ানমারের জন্য লজ্জা যে, নিজের দেশের ওপর তাদের কোন আস্থা নেই।
ট্রাম্পকে চিঠি প্রদান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন যে, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্ন ভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছেন।
এই চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী জাতির পিতার খুনীদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। মূলত এ বিষয়ে তাকে (ট্রাম্প) চিঠি দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় খুবই সোচ্চার। তাহলে কী করে এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) জাতির পিতা, নারী ও শিশু হত্যাকারীরা থাকতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন খুনী কানাডায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। আমরা সবাইকে খুনীদের ফেরত পাঠাতে অনুরোধ করেছি। এই খুনীরা ওইসব দেশের জন্যও নিরাপদ নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দেশগুলো বঙ্গবন্ধুর খুনীদের প্রত্যার্পণ করলে তখন বাংলাদেশের আদালতের রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে ঋণ খেলাপি চর্চা শুরু করেছিলেন।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমান বলেছিলেন যে, অর্থ কোন সমস্যা নয় এবং তিনি ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতি চালু করেছিলেন।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, এই সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করছে।
ব্যাংকে উচ্চ সুদের হারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের অধিক সুদের কারণে অনেকের পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে তারা ঋণ খেলাপি হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে মনে করেন যে, ঋণ পরিশোধ করার প্রয়োজন নেই। অনেক কোম্পানী রয়েছে যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু তারা ঋণ পরিশোধ করছেন না।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আপনারা দেখেছেন যে গ্রামীন ফোন কি করছে। তারা কর পরিশোধ করে না এবং যখন করের পরিমাণ বিপুল হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা বলে যে আসুন আলোচনা করি। আপনি একবার বা দু’বার তা করতে পারেন। কিন্তু বারবার তা করতে পারেন না।
শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি সমস্যা রয়েছে। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সময় অনেক ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপি হয়েছে। কারণ, তারা সেই সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন বা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে একটা সুযোগ দিয়েছিলাম যাতে তারা তাদের শিল্প কারখানা চালাতে পারেন এবং ব্যবসা বাণিজ্য বিঘিœত না হয় যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যাতে ঋণ খেলাপি সৃষ্টি না হয় সে লক্ষে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করছে।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ব্যাংকের সুদের হার এককের ঘরে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছি এবং রাষ্ট্রচালিত ব্যাংকগুলো এই নির্দেশ অনুসরণ করছে।
স্টক মার্কেট সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এতে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে।
তাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কোন শেয়ারগুলো লাভজনক আর কোনগুলো নয়। এসব বিবেচনা করেই তাদেরকে শেয়ার ক্রয় করতে হবে। সরকার শেয়ার বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনেকবার শেযার বাজারে ধস নেমেছে। তারপর বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহন করার পর সরকার বিভিন্ন দেশে মিশনের নিজস্ব ভবন নির্মানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা গ্রহন করেছিলেন এবং আমরা ওয়াশিংটনে চ্যান্সারী ভবন নির্মান করেছি। নিউইয়র্ক মিশনের জন্য আমরা একটি ভবন ক্রয় করেছি। নিউইয়র্কে আমাদের নিজস্ব ভবনে কনসুলেট অফিস স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এর আগে, লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহন, পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, জাতিসংঘ মহসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং থাই প্রধানমন্ত্রী প্রযুত ও-চা সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন।
এদিতে জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আট দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশে স্থানীয় সময় রবিবার রাতে নিউইয়র্ক ছেড়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট (ইওয়াই-১০০) স্থানীয় সময় রাত ১১টায় আবুধাবির উদ্দেশে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি হয়ে ১ অক্টোবর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন
সাংবাদিক সম্মেলন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বক্তব্য
নিউইয়র্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ :
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গত ২২-এ সেপ্টেম্বর আমি নিউইয়র্ক আসি। মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, মাননীয় বাণিজ্য মন্ত্রী, মাননীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় সংসদ সদস্যগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
এবারের অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল – জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়সমূহ। এছাড়া, সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট তথা এসডিজি ও সর্Ÿজনীন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টিও এবারের অধিবেশনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল।
২৭-এ সেপ্টেম্বর আমি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তৃতা করি। অন্যান্য বারের মত এবারও আমি বাংলায় বক্তব্য প্রদান করি। টানা তৃতীয় বার সরকার গঠনের পর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রণীত আমাদের ২১-দফা রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করি। বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের অভাবনীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলোও আমি তুলে ধরি। আমি আমার বক্তব্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও অর্জিত সাফল্যের বর্ণনা করেছি। এছাড়া, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, জলবায়ূ পরিবর্তন, শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা, জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক গৃহীত জাতিসংঘের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়সমূহ আমার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, এই অধিবেশন চলাকালে আমার নির্দেশনায় বাংলাদেশ পরমাণু অস্ত্র সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক চুক্তি অনুস্বাক্ষর এবং মানব পাচার সংক্রান্ত পালেরমো প্রোটোকলে অনুসমর্থণ করেছে। একই সঙ্গে আমি জাতিসংঘের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবগঠিত জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়ক ব্যবস্থার সংস্কারে গঠিত ফান্ডে অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছি।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সকলকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে আমি এ সমস্যা সমাধানে পুনরায় বেশকিছু প্রস্তাবনা পেশ করি। সর্বোপরি, একটি শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিতকরণে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করে যাওয়ার জন্য আমি আমার বক্তব্যে আহ্বান জানাই।
২৩-এ সেপ্টেম্বর আমি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘High Level Plenary on Universal Health Coverage’ সভার একটি প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই সভায় আমি সকলের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরি। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অসামান্য সাফল্য বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করি। এই প্যানেল আলোচনা ছাড়াও টহরাবৎংধষ ঐবধষঃয ঈড়াবৎধমব বিষয়ক এই সভার মূল প্লেনারিতে আমি বক্তব্য প্রদান করি।
একই দিন আমি Climate Action Summit শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করি। এই সভায় আমি জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী সাম্প্রতিক কালে সৃষ্ট সমস্যাবলীর কথা উল্লেখ করেছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়গুলো উল্লেখপূর্বক ইতোমধ্যে গৃহীত ডেল্টাপ্লান-২১০০ সহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের সার্বিক কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরি।
২৪-এ সেপ্টেম্বর আমি Global Commission on Adaptation- এর আয়োজনে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করি। এই সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যা এবং সকলের করণীয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আমি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ শূণ্যে নামানোর উদ্যোগ গ্রহণ এবং ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া দেশগুলোতে পর্যাপ্ত অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেছি। ঢাকায় Global Commission on Adaptation- এর একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছি।
২৪-এ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এবং ওআইসি-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘Rohingya Crisis: A Way Forward’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্টে আমি অংশগ্রহণ করি। এই ইভেন্টে ওআইসি-এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সভায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এবং ওআইসি’র মহাসচিবও বক্তৃতা করেন।
এ সভায় আমি নতুন করে আমার ৪-দফা প্রস্তাবনা পেশ করি যা পরবর্তীকালে সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায়ও পুনরাবৃত্তি করেছি। আমার ৪-দফা প্রস্তাবসমূহ হচ্ছে:
১। রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারে তাদের আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।
২। বৈষম্যমূলক আইন ও রীতিসমূহ বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।
৩। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উত্তর রাখাইন রাজ্যে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। এবং
৪। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
ঐদিন সন্ধ্যায় আমি মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘Leadership Matters- Relevance of Mahatma Gandhi in the Contemporary World’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে মূল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বেশ কয়েক জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এতে অংশগ্রহণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহাত্মা গান্ধীর অহিংসনীতি ও আদর্শের বিষয়টি তুলে ধরে আমি শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাই।
২৫-এ সেপ্টেম্বর আমি “খবধফবৎ’ং ফরধষড়মঁব ৪ ড়হ দখড়পধষরুরহম ঃযব ঝউএং” শীর্ষক সভায় অংশগ্রহণ করি। আমি এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে এই সভা পরিচালনা করেছি। এই সভায় আমি এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের অঙ্গীকার, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরি।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য Think Tank, Council on Foreign Relations (CFR) এর আমন্ত্রণে আমি এই সংস্থার সদস্যগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করি। আমি আমার বক্তব্যে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে অভাবনীয় উন্নয়নের বর্ণনা প্রদানের পাশাপাশি, শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান, ডিজিটাল বাংলাদেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করি। এ সময় আমি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার পাশাপাশি সকল আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির আহ্বান জানাই।
২৫-এ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ বছর রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুর উপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মোট চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
২৬-এ সেপ্টেম্বর আমি US Chamber of Commerce আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করি। বৈঠকে বাংলাদেশ হতে আগত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ীগণ এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আমি বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই।
২৭-এ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সূচনা ফাউন্ডেশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় “Sustainable Universal Health Coverage: Comprehensive Primary care inclusive of mental health and disabilities” শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্ট আয়োজন করে।
এই অধিবেশনে আমার সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। এই সভায় স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের নানাবিধ উদ্যোগ তুলে ধরার পাশাপাশি, সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে আমি তুলে ধরি। এছাড়া, আমি মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করার সুবিধা নিয়ে আলোচনা করি।
ইভেন্টের দ্বিতীয় পর্বে সূচনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা মিজ সায়মা ওয়াজেদ হোসেইন-এর সঞ্চালনায় একটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের খ্যাতনামা জনস্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
এবারের অধিবেশনকালে বিশ্ব সম্প্রদায় আমাকে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত করে। ২৩-এ সেপ্টেম্বর Global Alliance for Vaccination and Immunization (GAVI), বর্তমানে GAVI-The Vaccine Alliance নামে পরিচিত সংস্থাটি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ আমাকে ‘ঠধপপরহব ঐবৎড়’ সম্মাননা প্রদান করে। আমি বাংলাদেশের জনগণ বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করি।
২৬-এ সেপ্টেম্বর UNICEF এক অনুষ্ঠানে আমাকে ‘Champion of the skill development for the Youth’ সম্মাননা প্রদান করে। UNICEF এর নির্বাহী পরিচালক Ms. Henerieta Fore আমার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। বাংলাদেশের সকল নাগরিক ও শিশুসহ বিশ্বের সকল শিশুর উদ্দেশ্যে আমি এই সম্মাননা উৎসর্গ করেছি।
এবারের অধিবেশন চলাকালে আমি মোট ৯টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেই। তাঁরা হলেন জাতিসংঘের মহাসচিবের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক বিশেষ এডভোকেট Queen Maxima of Netherlands, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী Mr. Prayut Chan-o-cha, এক্সনম বিল এল এন জি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট এর চেয়ারম্যান Mr. Alex V. Volkov, গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের সভাপতি Ms. Irina Bokova, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চীফ প্রসিকিউটর Ms. Fatou Bensouda, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান Mr. Bill Gates, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার Mr. Filippo Grandi, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাতিসংঘের মহাসচিব Antonio Guterres।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আমি জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক সকল দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিয়েছি। এসময় আমার সঙ্গে একই টেবিলে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল। এছাড়া আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত অভ্যর্থনায় অংশগ্রহণ করি।
প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি সংবর্ধনা সভায় অংশগ্রহণ করেছি।
২৫-এ সেপ্টেম্বর Wall Street Journal, ২৭-এ সেপ্টেম্বর The Washington Post এবং আজ Voice of America-র বাংলা সার্ভিস আমার সাক্ষাতকার গ্রহণ করে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সক্রিয় অংশগ্রহণ বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃৃত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সবাইকে ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD
- নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
- নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








