খালেদার ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সফর :নেতাকর্মীরা হতাশ
লোটন একরাম: বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল হয়নি বলে মনে করেন দলের গরিষ্ঠসংখ্যক নেতাকর্মী। এ জন্য তারা হতাশ। দলের সফরসঙ্গী নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ তারা। তাদের মতে, সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ করতে না পারা সম্মানজনক হয়নি। মোটা অঙ্কের অর্থে লবিস্ট নিয়োগ করেও এ ব্যর্থতার জন্য দেশে ফিরলে তোপের মুখে পড়তে পারেন খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল সমকালকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে খালেদা জিয়ার এ সফর আরও ফলপ্রসূ হতে পারত। খালেদা জিয়াকে নিয়ে যখন চীন সফরে গিয়েছিলাম তখন বিরাট সাফল্য এসেছিল। এবার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো তা সম্ভব হয়নি। আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও দাতা
সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। সফরকালে দু’দেশের সরকারের প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে না পারার বিষয়টি মানতে পারছেন না দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী।
বিএনপির বেশ কয়েক নেতা সমকালকে জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ‘অযোগ্যতা’র কারণেই দু’দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়নি। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের যেসব প্রভাবশালী নেতার ভালো যোগাযোগ রয়েছে তাদের কাজে লাগাননি খালেদা জিয়া। তিনি নেতাদের চেয়ে সাবেক আমলাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় এ পরিস্থিতি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বা কূটনীতিকরা তাদের ‘সমমানের’ ব্যক্তিদের সঙ্গেই খালেদা জিয়ার বৈঠক আয়োজনে সক্ষম হয়েছেন।
খালেদার সফরসূচি নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন_ বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক কূটনীতিক সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা ড. এম ওসমান ফারুক, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংবাদিক শফিক রেহমান প্রমুখ। তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সুসম্পর্ক রয়েছে মনে করে সফরসূচি তৈরির দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। অবশ্য দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অনেক লবিং-তদবির ও দৌড়ঝাঁপ করেছেন তারা। খালেদা জিয়ার সফরের আগে তারা দফায় দফায় দেশ দুটি সফর করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের বিষয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তার সঙ্গেও সাক্ষাতের ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
অবশ্য অভিযোগ খণ্ডন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে হিলারি ক্লিনটনের কর্মসূচি থাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে হিলারির সুসম্পর্ক রয়েছে এবং থাকবে।
বিএনপি সূত্র জানায়, প্রভাবশালী দুটি দেশে খালেদা জিয়ার সফর সফল করতে সাবেক আমলাদের পাশাপাশি মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ নেতাদের কাজে লাগানো যেত।
১৮ বছর পর গত ১৪ মে যুক্তরাজ্য যাত্রা করেন খালেদা জিয়া। ১৯৯২ সালের পর এবারের সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাজ্য সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান, বিরোধীদলীয় নেতা মিলিব্যান্ড, বিরোধীদলীয় উপনেতা হ্যারিয়েট হ্যারমেন, পররাষ্ট্র দফতর বিয়ষক মন্ত্রী হেনরি বেলিং হ্যাম, অল পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মানবাধিকার নেতা লর্ড এভিবারি, হাউস অব কমন্সের কয়েকজন সদস্য, ব্রিটেন-বাংলাদেশ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ও প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কিছু সময় কাটান তিনি।
লন্ডন থেকে ২১ মে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান বিরোধীদলীয় নেতা। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রেসিডেন্ট স্টিফেন এম সুইলি খালেদা জিয়াকে সম্মাননা দেন। আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাঙ্কের সেমিনারে যোগদান করেন তিনি। সেমিনারে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা ক্যাথলিক ক্রাউলি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ক্রেমারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান যোসেফ ক্রাউলির নেতৃত্বে চার কংগ্রেস সদস্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনসহ সরকারের নানা ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন বলেও দু’দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের জানান খালেদা জিয়া।
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ : বিএনপি হাইকমান্ড মনে করে, ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনায় পশ্চিমা প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ ও সংস্থার কূটনীতিকদের সমর্থন ছিল। এমনকি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতাসীন হওয়ার ক্ষেত্রে ওইসব দেশ ও সংস্থা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে। ওয়ান-ইলেভেনকে কেন্দ্র করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিএনপির যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চাইছে দলটির হাইকমান্ড। এ বিশ্বাস থেকেই মূলত বহির্বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্র সচিবসহ পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে যেসব নেতার সুসম্পর্ক রয়েছে তাদের ব্যাপক তৎপরতা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে তারা প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকায় অভিজাত এলাকায় কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের ব্রিফ করেন তারা। একটি ইংরেজি বুলেটিন প্রকাশেরও উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে সফরের উদ্যোগ নিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ বছরই ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাবেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে চান তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক কূটনীতিক সাবিহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের পর নিয়মিত তারা কূটনীতিকদের চা চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করছেন।সমকাল
সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। সফরকালে দু’দেশের সরকারের প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে না পারার বিষয়টি মানতে পারছেন না দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী।
বিএনপির বেশ কয়েক নেতা সমকালকে জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ‘অযোগ্যতা’র কারণেই দু’দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়নি। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের যেসব প্রভাবশালী নেতার ভালো যোগাযোগ রয়েছে তাদের কাজে লাগাননি খালেদা জিয়া। তিনি নেতাদের চেয়ে সাবেক আমলাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় এ পরিস্থিতি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বা কূটনীতিকরা তাদের ‘সমমানের’ ব্যক্তিদের সঙ্গেই খালেদা জিয়ার বৈঠক আয়োজনে সক্ষম হয়েছেন।
খালেদার সফরসূচি নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন_ বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক কূটনীতিক সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা ড. এম ওসমান ফারুক, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংবাদিক শফিক রেহমান প্রমুখ। তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সুসম্পর্ক রয়েছে মনে করে সফরসূচি তৈরির দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। অবশ্য দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অনেক লবিং-তদবির ও দৌড়ঝাঁপ করেছেন তারা। খালেদা জিয়ার সফরের আগে তারা দফায় দফায় দেশ দুটি সফর করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের বিষয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তার সঙ্গেও সাক্ষাতের ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
অবশ্য অভিযোগ খণ্ডন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে হিলারি ক্লিনটনের কর্মসূচি থাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে হিলারির সুসম্পর্ক রয়েছে এবং থাকবে।
বিএনপি সূত্র জানায়, প্রভাবশালী দুটি দেশে খালেদা জিয়ার সফর সফল করতে সাবেক আমলাদের পাশাপাশি মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ নেতাদের কাজে লাগানো যেত।
১৮ বছর পর গত ১৪ মে যুক্তরাজ্য যাত্রা করেন খালেদা জিয়া। ১৯৯২ সালের পর এবারের সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাজ্য সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান, বিরোধীদলীয় নেতা মিলিব্যান্ড, বিরোধীদলীয় উপনেতা হ্যারিয়েট হ্যারমেন, পররাষ্ট্র দফতর বিয়ষক মন্ত্রী হেনরি বেলিং হ্যাম, অল পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মানবাধিকার নেতা লর্ড এভিবারি, হাউস অব কমন্সের কয়েকজন সদস্য, ব্রিটেন-বাংলাদেশ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ও প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে কিছু সময় কাটান তিনি।
লন্ডন থেকে ২১ মে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান বিরোধীদলীয় নেতা। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রেসিডেন্ট স্টিফেন এম সুইলি খালেদা জিয়াকে সম্মাননা দেন। আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাঙ্কের সেমিনারে যোগদান করেন তিনি। সেমিনারে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা ক্যাথলিক ক্রাউলি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ক্রেমারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান যোসেফ ক্রাউলির নেতৃত্বে চার কংগ্রেস সদস্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনসহ সরকারের নানা ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন বলেও দু’দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের জানান খালেদা জিয়া।
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ : বিএনপি হাইকমান্ড মনে করে, ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনায় পশ্চিমা প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ ও সংস্থার কূটনীতিকদের সমর্থন ছিল। এমনকি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতাসীন হওয়ার ক্ষেত্রে ওইসব দেশ ও সংস্থা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে। ওয়ান-ইলেভেনকে কেন্দ্র করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিএনপির যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চাইছে দলটির হাইকমান্ড। এ বিশ্বাস থেকেই মূলত বহির্বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্র সচিবসহ পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে যেসব নেতার সুসম্পর্ক রয়েছে তাদের ব্যাপক তৎপরতা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে তারা প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকায় অভিজাত এলাকায় কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের ব্রিফ করেন তারা। একটি ইংরেজি বুলেটিন প্রকাশেরও উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে সফরের উদ্যোগ নিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ বছরই ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাবেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে চান তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক কূটনীতিক সাবিহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের পর নিয়মিত তারা কূটনীতিকদের চা চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করছেন।সমকাল
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








