Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

রুমানার মুখে শুনেছি, মানুষের অমানুষ হওয়ার রূপান্তর কাহিনী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 120 বার

প্রকাশিত: June 16, 2011 | 12:38 AM

সুপন রায়: ১৩ই জুন। ৩৬ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন। দুপুরে বাসায় বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। নূসরাত নামে এক তরুণী ইংরেজি দৈনিক ‘নিউএজ’-এর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। তিনি জানতে চান, কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষিকা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সে খবরটি আমার জানা আছে কিনা। আমি তাকে আশ্বস্ত করার পর তিনি আমার তাৎক্ষণিক সহায়তা চান। শুরুতে আমি কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলাম। বুঝতে চেষ্টা করছিলাম, একজন সংবাদকর্মী কেন আমার কাছে সহায়তা চাইবেন! যেখানে তার নিজেরই সে সুযোগটি আছে! আমি আমার মতো করে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। তিনি আমাকে বলছিলেন, ‘আপনি নিশ্চয়, মানবজমিন-এ আজকের খবরটি দেখেছেন। আজ মানবজমিন-এ ঘটনাটি ছাপা হয়েছে।’ আমি বললাম, না আমার এখনও মানবজমিন দেখা হয়ে ওঠেনি। আমি তার কাছে সময় চাইলাম। বললাম, আমাকে সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে। বিশেষ করে যিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নূসরাত বললেন, আজ (১৩ই জুন) থেকে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের দেখা করার অনুমতি দিচ্ছেন। টেলিভিশনের অনেকে ইতিমধ্যে কথাও বলেছেন। আপনিও বলতে পারেন। তার কিছুক্ষণ পর নির্যাতিত শিক্ষক রোমানার বোন পরিচয় দিয়ে ঢাকার উত্তরা থেকে আরেক তরুণী আমাকে ফোন করেন। তাকেও আমি নূসরাতের মতো করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম। তিনি কিছুক্ষণ পর আমাকে রোমানার পিতা মেজর (অব.) মনজুর হোসেনের মোবাইল টেলিফোন নম্বরে এসএমএস করলেন।
দুপুরের খাবার খেয়ে আমি ল্যাবএইডে যাওয়ার জন্য মনঃস্থির করলাম। বাইরে কড়া রোদ। একটি রিকশা ডেকে সোজা চলে গেলাম হাসপাতালে। সঙ্গে আমার সহকর্মী রুবেল। ল্যাবএইড বিশেষায়িত হাসপাতালের নিচতলায় পরিচালক মেজর ডা. একেএম মাহবুব উল্লাহ’র সঙ্গে দেখা করলাম। ভাগ্য ভাল, আমাকে পরিচয় দিতে হয়নি। তারপর কোন পরিস্থিতিতে, কেন আমি রোমানা’র সঙ্গে দেখা করতে চাই, তার পটভূমিও ব্যাখ্যা করলাম। তিনি গুরুত্ব দিয়ে পুরো কথা শুনলেন। তারপর সংক্ষেপে পুরো ঘটনার আদ্যোপান্ত শোনালেন। কোন পরিস্থিতিতে রোমানা হাসপাতালে ভর্তি হলেন। তার শারীরিক অবস্থা তখন কোন পর্যায়ে ছিল। ৮ দিনে কি ধরনের চিকিৎসা তারা দিয়েছেন। মুখমণ্ডল, চোখ, গলা, হাতের কোন কোন অংশ মারাত্মক জখম হয়েছে। কেন তারা এতো দিন সংবাদ মাধ্যমকে রোমানার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। আজ (১৩ই জুন) হঠাৎ করে কেন সব মিডিয়াকে একসঙ্গে ডেকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হলো। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, রোমানা কথা বলার মতো অবস্থায় আছেন কিনা। তিনি আশ্বস্ত করলেন। তারপর রোমানার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাশেদ নামে একজন ডাক্তারকে আমার সঙ্গে দিলেন। লিফট দিয়ে ছয়তলায় তার রুমের সামনে যেতেই দেখা হলো মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন ও রোমানার সহকর্মী অধ্যাপক আমেনা মহসীনের সঙ্গে। ভেতর থেকে জানানো হয়, রোমানার বাবা বাইরে আছেন। তিনি এলে কথা বলা যাবে। আমি তাদের আশ্বাস দিয়ে বলি, কথা বলার মতো পর্যায়ে না থাকলে আমি ভেতরে যেতে চাই না। আমাকে ফোন করে অনুরোধ করা হয়েছে বলেই আমি এসেছি। কিছুক্ষণ পর একজন ভদ্রমহিলা ভেতর থেকে এলেন। তিনি নিজেকে রোমানার খালা বলে পরিচয় দিলেন। জানালেন, তার মেয়ের বন্ধু এবং মেয়ে আমাকে ফোন করেছে। হামিদা হোসেন ও আমেনা মহসীনকে বাইরে রেখে আমি ভেতরে ঢুকলাম।
তারপরের দৃশ্য অবর্ণনীয়। বীভৎস। জঘন্য। একজন মানুষকে এমনভাবে আক্রমণ করা যায়, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। পেশাগত জীবনের ১৭ বছরে পারিবারিক নির্যাতনের এমন বীভৎস দৃশ্য আর দেখেছি কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে মনে করতে কষ্ট হয়েছে। আমি সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। রোমানা শুয়ে আছেন। চোখ দু’টি ফুলে বেগুনের মতো হয়ে আছে। নাকের সামনের অংশে মাংস নেই। ব্যান্ডেজ লাগানো। মুখমণ্ডলে কামড়ের দগদগে ক্ষতচিহ্ন। ডান হাতে কামড়ের বীভৎস ছোপ। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। কক্ষের একপাশে রোমানার ফুফু। আরেক পাশে খালা। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। আর ডা. রাশেদ। সবাই যে যার মতো দাঁড়িয়ে। আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে রোমানার ফুফু হঠাৎ বলে ওঠেন, আপনার নাম বলেন। রোমানার পাশে দাঁড়িয়ে আমি নিচুস্বরে বললাম, সুপন রায়।
যন্ত্রণায় কাতর রোমানার মুখে হালকা হাসির ছায়া দেখতে পেলাম। কাঁপা কাঁপা স্বরে তিনি বলে উঠলেন, আমি ওনাকে কত দেখেছি। টিভিতে উনি কত রিপোর্ট করেছেন। কত মানুষের উপকার করেছেন। কত জনের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি ওনাকে ভাল করে চিনি। এরকম কথার প্রতি উত্তরে সাধারণত ধন্যবাদ বলতে হয়। কিন্তু আমার মুখ দিয়ে বের হতে হতেও সে সময় ধন্যবাদ শব্দটি উচ্চারণ করতে পারিনি। কেন পারিনি জানি না। আমার মাথায় নানা রকম প্রশ্ন ঘুরতে থাকে! কেবলি মনে হতে থাকে, একজন মানুষ কেমন করে পারে?
আমাকে চুপ থাকতে দেখে কিছুক্ষণ পর রোমানাই বলে ওঠেন, ভাইয়া আপনি কি কোন প্রশ্ন করতে চান আমাকে? করতে পারেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে তাকে বললাম, এরকম মুহূর্তে কেমন করে কথা বলতে হয়, সেই সংবেদনশীল মন আমার আছে। আপনার এরকম অবস্থায় প্রশ্ন করতেই আমার খারাপ লাগছে। তারপরও কিছু নির্দয় প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে। আপনি অনুমতি দিলে করতে পারি। তিনি সম্মতি দিলেন। আমি জানতে চাইলাম, যত দূর শুনেছি; আপনাদের বিবাহিত জীবন ১১ বছরের। আপনারা পরস্পরকে পছন্দ করে বিয়ে করেছেন। যদি বোঝাপড়ায় কোন সমস্যাই থেকে থাকে, তাহলে তো অনেক বিকল্প পথ সামনে ছিল। আপনার মুখমণ্ডল, চোখ দেখে মনে হচ্ছে, প্রচণ্ড আক্রোশ থেকে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।  কেন হাসান সাঈদ আপনার চোখের ওপর এমন করে আঘাত হানলেন?
রোমানা বললেন, সাঈদ নিজেও ভাল করে চোখে দেখতে পান না। তার দৃষ্টিশক্তির আশি ভাগই নষ্ট। চশমা দিয়ে ডানে-বায়ে দেখতে পান না। তাই হয়তো আমার চোখের ওপর ওর যত আক্রোশ। আমি তখন কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। আমার পাশে বসে মেয়েটি ছবি আঁকছিল। ওই অবস্থাতেই পেছন থেকে হঠাৎ করে সে আক্রমণ করে বসে। আমার এ অবস্থা দেখে বাচ্চাটা চিৎকার দিয়ে কাঁদতে থাকে। তারপরও সে থামেনি।
আমি বললাম, তিনি তো ভাল করে দেখতে পান না। সাঈদের আক্রমণ থেকে কি কোনভাবে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না? রোমানা বললেন, সাঈদ তার সব শক্তি দিয়ে আমাকে পেছন থেকে আক্রমণ করে। আমি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পেছন থেকে সে আচমকা আমার চুলের মুঠি ধরে আমাকে ফেলে দেয়। আমি আমার রক্তে ফ্লোরে পিছলে পড়ে যাই।
এমন আক্রোশ কেন? আপনার নিজের কি মনে হয়? রোমানা বললেন, মনে হয়, সে এক ধরনের হীনমন্যতায় ভুগতো। আমি উচ্চতর পড়াশোনা করছি, এটা সে সহ্য করতে পারছিল না। সে চাইছিল না, আমি বাইরে যাই। পড়াশোনা করি। কিন্তু আপনিতো ভাল করে জানেন ভাইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে গেলে উচ্চতর পড়াশোনা ছাড়া হয় না। এটা আবশ্যিক। আমি ২০০৪ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি। ওর জন্য-ই এত দেরি হলো বাইরে যেতে।
আপনি কি কখনও তার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখেছেন? রোমানা বললেন, স্বাভাবিক মানুষ কি এ ধরনের কাজ করতে পারে? ও সব সময় আমাকে চাপের মধ্যে রাখতো। আমি সব মুখ বুজে সয়ে গেছি। আমাকে সে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। এসিড ছুড়ে মুখমণ্ডল নষ্ট করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। আপনারা আমাকে বাঁচান। আমার মেয়েকে বাঁচান। আমার পরিবারকে বাঁচান। আমি রোমানা, তার ফুফু, খালাকে বললাম, স্বাভাবিক-অস্বাভাবিকতার ব্যাপারটি আমাকে বলেছেন। আর কাউকে বলবেন না। আপনাদের বরাত দিয়ে এই তথ্যটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে আসামিপক্ষ এটিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। কক্ষে থাকা সকলেই আমার কথায় সম্মতি জানালেন।
তারপর আর কথা বাড়াতে মন চায়নি। আমি রোমানার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে আসি। মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন ও অধ্যাপিকা আমেনা মহসীন ভেতরে ঢোকেন। ল্যাবএইড বিশেষায়িত হাসপাতালের ডাক্তার রাশেদ আমাকে নিয়ে নিচে নামেন। আমি হাসপাতাল থেকে বিদায় নিতে চাইলে রোমানার কক্ষে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কথা আছে বলে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আমি রোগীদের অপেক্ষা করার একটি চেয়ারে বসে তার কথা শুনতে থাকি। তিনি আমাকে জানালেন, ম্যাডাম এয়ারপোর্টে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তার স্বামী সাঈদ তাকে উদ্দেশ্য করে নানারকম বাজে ইঙ্গিত (কানাডায় থাকা অবস্থায় বিশেষ সম্পর্ক) দিতে থাকেন। বাসায় আসার পর, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাঈদ ম্যাডামের গায়ে হাতও তোলেন। এই প্রথম ম্যাডাম তার বাবাকে গায়ে হাত তোলার ঘটনাটি খুলে বলেন। এরপর সাঈদ এক সঙ্গে অনেক ঘুমের ওষুধ খান। রোমানা এবং তার বাবা-ই সাঈদকে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। পাকস্থলি ওয়াশ করে সরাসরি রোমানাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় সাঈদকে। একপর্যায়ে সাঈদের প্রতি তাদের সহানুভূতিও জন্মায়। তারা ক্ষমা করে দেন। তারা ভুলে যেতে চেষ্টা করেন, গায়ে হাত তোলার ঘটনাটি। ক্ষমা করার সিদ্ধান্তটি ছিল ভুল। সে কথা মনে করে বারবার অনুশোচনায় ভেঙে পড়ছেন রোমানার বাবা। ঘটনা যখন, তখন রোমানার বাবা বাসার বাইরে, মা গ্রামের বাড়িতে। ঘরে অল্পবয়সী কাজের মেয়ে। সে সুযোগটি নিয়েছেন সাঈদ। ওই শিক্ষার্থী জানালেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সাঈদ আবারও রোমানাদের বাসায় যান। ছাদে ওঠেন। আত্মহত্যার ভান করেন। সে অবস্থায় সাঈদকে নিয়ে তার ছোট ভাই বাসা থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনা ঘটেছে ৫ই জুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে শিক্ষক নির্যাতনের টুকরো টুকরো খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির পর সংবাদমাধ্যমের কাউকে রোমানার কাছে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। ঘটনার ৭ দিন পর (১৩ই জুন) একসঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হলো সংবাদমাধ্যমকে। কেন?  এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর রোমানার কক্ষে পাইনি। রোমানার সামনেই আমি খালা, ফুফুর কাছে জানতে চাইলাম, সংবাদমাধ্যমের সহায়তা-ই যদি চাইতে হলো, তবে এত দেরি করে কেন? তারা বলেছেন, রোমানার বাবা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে চাননি। তিনি আসলে চাননি, ঘটনা জানাজানি হোক। সামাজিক সংস্কার, লোক লজ্জা, সম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি চুপ থেকেছেন। পরে হুমকি আসতে থাকায় তিনি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। আসলে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার কারণে এক ধরনের ওরিয়েন্টেশন পেয়েছেন তিনি। তাই হয়তো কাজ করেছে এ ক্ষেত্রে। এ রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ।  
সংবাদমাধ্যমে রোমানার আর্তনাদ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করেছে। অনেকে কেঁদেছেন। সমাজকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে ঘটনাটি। ১৪ই জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন, সমাবেশ ও মৌন মিছিল করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতি সাঈদকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। ছাত্ররা দিয়েছে ৭২ ঘণ্টার।    
রোমানার কক্ষ থেকেই শুনতে পাই, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য রোমানার পরিবারের ওপর প্রকারান্তরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যে কারণে তিনি অপরিচিত ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত ছিলেন। আমার কলটিও রিসিভ করেননি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ইঙ্গিতের পক্ষে আমি তথ্য-প্রমাণ দেখতে চাই। কিন্তু না। সে রকম কিছু-ই দেখাতে পারেননি কক্ষে থাকা সেই শিক্ষার্থী। বরং নিশ্চিত হওয়ার জন্য ধানমন্ডি থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয়। বলা হয়, সাঈদের পরিবারের সঙ্গে অন্তত দুই জন অত্যন্ত প্রতাপশালীর যোগাযোগ আছে। যে কারণে ধানমন্ডি থানায় মামলা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ৯ দিনেও সাঈদকে খুঁজে পায়নি। এ কথা সত্য, সংবাদমাধ্যমে একসঙ্গে রোমানার খবরটি প্রচার হওয়ার পরই মূলত এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। আমরা দেখতে পাই, ঘটনার ৯ দিন পর উচ্চ আদালত থেকে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি হতে। তৎপরতা লক্ষ্য করি, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের। গত ১৪ই জুন রাতে চট্টগ্রামে একজন আইনজীবীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি সাঈদকে। অবশেষে গতকাল (১৫ই জুন) বিকালের দিকে ঢাকার মুগদায় অভিযান চালিয়ে সাঈদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
রোমানার মুখমণ্ডলে দেখেছি নির্যাতনের বীভৎসতা। তার মুখে শুনেছি, মানুষের অমানুষ হওয়ার রূপান্তর কাহিনী। এখন সেই অমানুষের বর্ণনা শোনার অপেক্ষা। অনুমান করতে পারি, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তিনি কি ধরনের কথা বলতে পারেন। সভ্য সমাজের নাগরিক হয়ে, একজন উচ্চ শিক্ষিত প্রকৌশলী হয়ে, কর্মহীন হয়ে, হীনমন্য হয়ে যিনি তার স্ত্রীর চোখ তুলে ফেলার মতো জঘন্য কাজ করতে পারেন, তার কথা বিশ্বাস করার মতো রুচি আমার নেই।মানবজমিন

ট্যাগ:
Situs Streaming JAV