সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতিত সহকারী অধ্যাপক রুমানা মঞ্জুর:হাসান বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন করেছে
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: হাসান বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন করেছে। মিথ্যা সন্দেহে বারবার মারধর করেছে। প্রতিবারই নির্যাতন সহ্য করেছি। ওর মিথ্যা ছলনায় কনভিন্সড হয়েছি। কারণ ওকে ভালবেসেছিলাম। গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতিত সহকারী অধ্যাপক রুমানা মঞ্জুর এসব কথা বলেছেন। এদিকে রুমানার নিপীড়ক স্বামী হাসান সাঈদকে গতকাল তৃতীয় দফায় দু’দিনের রিমান্ডে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। নির্যাতনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
ওদিকে রুমানার ওপর নির্যাতনকারী হাসান সাঈদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বিভিন্ন নারী সংগঠন। সংবাদ সম্মেলনে রুমানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ওকে বারবার বিশ্বাস করে ভুল করেছি। ও আমার সব শেষ করে দিয়ে এখন মিথ্যা কথা বলছে। আমি এত বছর যেখানে পড়াশোনা করেছি, শিক্ষকতা করছি- সেখানকার কেউ এমন অভিযোগের কথা বলতে পারবে না। তার সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং ছোট্ট বাচ্চা ও পরিবারের কথা ভেবে আমি থিসিস সম্পন্ন না করেই দেশে ফিরে এসেছি। বাকি কাজ ই-মেইলে সম্পন্ন করার জন্য সুপারভাইজারকে বুঝিয়েছি। থিসিসের কাজের জন্য ইন্টারনেটে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছি। সেদিন ছিল হরতালের দিন। স্বামী সাধারণত ঘরেই থাকে। কিন্তু ওইদিন দুপুরের আগেই সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আমি তখন বাচ্চাকে বিছানার ওপর বসিয়ে ছবি অঙ্কন শিখাচ্ছিলাম। একইসঙ্গে ইন্টারনেট থেকে থিসিসের কিছু নোটপত্র ডাউনলোড করছিলাম। আমার কম্পিউটারটি ছিল দরজার উল্টো দিকে মুখ করা। এর মধ্যে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে যায়। আমি আছরের নামাজ পড়ে মাত্র কম্পিউটারে বসেছি। হঠাৎ পেছন দিকে কোন একজনের পায়ের আওয়াজ শুনতে পাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর এক হাত দিয়ে আমার চুলের মুঠি অন্য হাত দিয়ে কণ্ঠনালি টিপে ধরে। টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় বিছানায়। সর্বশক্তি দিয়ে জাপটে ধরে ওর দাঁত দিয়ে আমার হাত কামড়াতে থাকে। হুঙ্কার দিয়ে বলতে থাকে ‘তুই আমার সঙ্গে থাকবি না। আমি তোকে বাঁচতে দেবো না।’ তখন আমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। বাঁচার জন্য অনুনয়-বিনয় করেছি। আকুতি করেছি। কিন্তু ওর শরীরে তখন অসুরের শক্তি। ওর মধ্যে দেখেছি বর্বর দানবের মূর্তি। চোখের পলকেই ওর হাতের দুটি আঙুল আমার দু’চোখের মধ্যে তীরের বেগে ঢুকিয়ে দেয়। আমি তখন পাগলের মতো চিৎকার করে উঠি। বাঁচার জন্য ছটফট করেছি। ও তখন ওর হাতের আঙুলগুলো আমার চোখের মধ্যে চাপ দিয়ে ঘুরাতে থাকে। মনে হচ্ছিল- সে অক্ষিগোলক উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। মৃত্যুকে খুব কাছে মনে হচ্ছিল। ওকে একটু দয়া করার জন্য কতভাবেই না বুঝিয়েছি। ইশারা-ইঙ্গিত করে মিনতি করেছি, আমাকে মেরে ফেলো না। একসময় আমার ছোট্ট মেয়েটির চিৎকারের শব্দ কানে আসে। ওই কান্না শুনে বারবার জীবন ভিক্ষা চেয়েছি। বাবাকে ডেকেছি। মাকে ডেকেছি। বাচ্চাও আমাকে বাঁচানোর জন্য কাজের বুয়াকে ডেকেছে। তখন সে আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। রক্তাক্ত হাত আমার মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে কণ্ঠনালি ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। শত কাকুতি করেও সাহায্য না পেয়ে একপর্যায়ে পালানোর জন্য সর্বচেষ্টা করি। কিন্তু ততক্ষণে নিজের রক্তে রক্তাক্ত পিচ্ছিল মেঝেতে পিছলে পড়ে যাই। অচেতন হয়ে ঢলে পড়ি সেখানেই। কিন্তু তাতেও সে দমেনি। বর্বর কায়দায় ওই পিশাচ আমার গাল, নাকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে কামড়ে কামড়ে মাংস তুলে নেয়। ওই যন্ত্রণায় আমার চেতন ফিরে আসে। আমি তখন আর্তনাদ করে সবাইকে বলেছি, আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। শুধু অন্ধকার। ও আমার বাচ্চাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ও আমাকে বাঁচতে দেবে না। পৃথিবীর আলো কেড়ে নিয়েছে। তোমরা আমাকে বাঁচাও। রুমানার ওপর গত ৫ই জুনের এমন নির্যাতনের বর্ণনায় পিনপতন নীরবতা নেমে আসে ল্যাবএইড হাসপাতালের ৮ম তলার লেকচার রুমে। স্বামী হাসান সাঈদের বর্বর নির্যাতনের কথা রুমানার জবানিতে শুনে সেখানে উপস্থিত তার পিতা, স্বজন, সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। আর হতবাক হয়ে সেই কথা শুনছিলেন। রুমানা যেন আর বলতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে পাশে বসা পিতা মেজর (অব.) মঞ্জুর হোসেনের দিকে ঢলে পড়েন। মঞ্জুর হোসেন কন্যাকে জড়িয়ে ধরে কিছু একটা বলে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেও আর পারেননি। অবশেষে দু’জনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের কান্না থামিয়ে কোন একজন সাংবাদিক হাসান সাঈদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেয়া হাসান সাঈদের বক্তব্য সত্য না মিথ্যা বিষয়টি সম্পর্কে রুমানার বক্তব্য জানতে চাইলে নামপরিচয়হীন কিছু লোকজন ‘শেম শেম’ বলে হট্টগোল শুরু করেন। তখন কয়েকজন নারীনেত্রী উঁচু কণ্ঠে বলতে থাকেন, এটিই আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য। যেখানে আঘাত করার কথা সেখানে না গিয়ে সাংবাদিকরা শুধু গসিপ লিখতে পছন্দ করে। এ জন্যই কোন নির্যাতিত নারী সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলতে চায় না। এ বক্তব্যেরও জোরালো বিরোধিতা শুরু হয়। সাংবাদিকরা দাবি করেন- তাদের কারণেই রুমানার বর্বর নির্যাতনের বিষয়টি বিশ্ব জেনে গেছে। একপর্যায়ে নারীনেত্রী এলিনা খান সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে রুমানার কাছে মাইক তুলে দেন। তিনি বলেন, আপনারা আমার ভাইয়ের মতো কাজ করেছেন। আপনারা প্রেশার সৃষ্টি করতে পেরেছেন বলেই বিষয়টি এত দূর এসেছে। তাই আমি এত কষ্টের মধ্যেও আপনাদের সামনে এসেছি। আপনারা ওর বানোয়াট কথা বিশ্বাস করবেন না। আশা করি, জাতির বিবেকের কাজ করবেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্জুর হোসেন বলেন, চেন্নাই শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাকালীন রুমানার থিসিস সুপারভাইজার পিটার ডেভান আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কের একজন বিখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা মিল্টনের মাধ্যমে পণ্ডিচেরীর অরবিন্দ আই হসপিটালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. ভ্রিঙ্কাটেশকে দেখাতে বলেছিলেন। কিন্তু ওই দুই হাসপাতালের ৫ জন বিশেষজ্ঞের সবাই বলেছেন, রুমানার দু’টো চোখই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অলৌকিক কিছু না ঘটলে রুমানা আর চোখ ফিরে পাবেন না। তিনি আরও বলেন, আমার এখন দু’টো দাবি। এক. আমি সবার দোয়া চাই। আমার মেয়ে একটি ছোট্ট শিশু কন্যার মা। ও যেন তার ছোট্ট শিশুর মুখ আবার দেখতে পায়- বাবা হিসাবে সেই আকুতি আপনাদের কাছে। দুই. যে ওর জীবনকে এমন দুর্বিষহ করে তুলেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুর হোসেন ও স্বজন ছাড়াও ঢাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক, সহকর্মী, নারীনেত্রী এলিনা খান, খুশি কবীর, সারা যাকের, ব্যারিস্টার সারা হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ঢাবির আন্তর্জাতিক বিভাগের আশঙ্কা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা মঞ্জুরের ওপর তার স্বামী হাসান সাঈদ কর্তৃক পৈশাচিক ও বর্বর নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চলছে বলে ওই বিভাগের শিক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, অনেকেই রুমানার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। নিজের অপরাধকে আড়াল করার জন্য অপরাধী বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটিয়ে রুমানাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। তার দু’টি চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ায় তিনি পৃথিবীর আলো থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ ও ভারতের চিকিৎসকরা তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় রুমানা ও তার শিশু সন্তানের ভবিষ্যতে অন্ধকার নেমে এসেছে। তাই তাদের পাশে দেশ ও দেশের বাইরে সব মহলকে রুমানা ও তার পরিবারের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে এহেন ঘৃণ্য ও বর্বর হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
রুমানার উপর নির্যাতনের মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইবুনালে নেয়ার দাবি
রুমানা মনজুরের উপর নির্যাতনের মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। গতকাল বিভাগের একাডেমিক কমিটির এক বৈঠকে এ দাবি করা হয়। বৈঠকে রুমানার উপর নির্যাতনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়ার রুমানার দুঃসময়ে তার পাশে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রুমানার উপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা মেনে নেয়া যায় না। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি যাতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করা হয় ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
রুমানাকে নির্যাতনের প্রতিবাদে নারী সংসদ সদস্যদের মানববন্ধন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমানা মনজুরের উপর নির্যাতন চালানোর প্রতিবাদে আজ দুপুর ২টায় ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করবে জাতীয় সংসদের নারী সংসদ সদস্যরা। নারী সংসদ সদস্যদের পক্ষে এডভোকেট তারানা হালিম প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তিনি আরও জানান, এই মানববন্ধনে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমিন উপস্থিত থাকবেন। বিবৃতিতে সংসদের সব নারী সংসদ সদস্যকে এই মানববন্ধনে যোগদানের আহবান জানানো হয়।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








