মহামারির এই সময়ে রামাদ্বানের শেষ দশক এবং ঈদ উল ফিতর
দারুল ইফতা, শরিয়াহ বোর্ড, নিউইয়র্ক : রামাদ্বানুল মুবারাক আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। এই অবস্থায় রামাদ্বানের শেষ দশকের ই’তিকাফ, সাদাকাতুল ফিতর, লাইলাতুল ক্বাদর এবং ঈদ উল আজহা সংক্রান্ত জরুরি কিছু কথা।
শেষ দশক
রামাদ্বানের শেষ দশক হচ্ছে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এই দশদিন বেশি ইবাদতে মশগুল হয়ে যেতেন। বর্ণিত আছে এই সময়ে নবিজি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সারারাত ইবাদত করতেন। এই দশদিনের প্রতিটি দিন ও রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি মুহূর্তও অবহেলায় নষ্ট করা উচিত নয়।
লাইলাতুল ক্বদর
মহান আল্লাহ প্রদত্ত সবচেয়ে মহিমান্বিত রাতটি হলো ক্বদরের রাত বা লাইলাতুল ক্বদর, যে রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এই একটি রাতের ইবাদত এক হাজার রাত বা ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। নবিজি আমাদেরকে রামাদ্বানের শেষ দশকে, বিশেষত শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে ক্বদর তালাশ করতে বলেছেন। আমাদের উচিত রামাদ্বানের এই শেষ দশটি দিন বেশি বেশি করে নফল নামাজ, তেলাওয়াতে কোরআন, জিকির-আজকার এবং দুরুদ পাঠসহ অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে শবে কদরের ফজিলত অর্জন করে ভাগ্যবান হওয়ার চেষ্টা করা।
শবে ক্বদরের বিশেষ কোনো নামাজ নেই। অন্যান্য নফল নামাজের মতোই এই দশকের নামাজ। আম্মাজান আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহা নবিজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি যদি শবে ক্বদর পেয়ে যাই তাহলে কোন দু’আ পড়ব? নবিজি বললেন, তুমি পড়বে,
‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউ-উন তুহিব্বুল আফউয়া ফা’ফুৃ আন্নী’।
হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন। আমাকে ক্ষমা করে দিন।
করোনা মহামারির কারণে আমরা এখন ঘরেই থাকছি। সুতরাং এই সময়টা কাজে লাগানো দরকার। বিশেষত রামাদ্বানের এই শেষ দশককে।
ই’তিকাফ
রামাদ্বানের শেষ দশকে মহল্লার মসজিদে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে অন্তত একজন পরুষের ই’তিকাফ করা জরুরি। একজন করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু কেউ না করলে সবাইকে গোনাহগার হতে হবে। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রামাদ্বানের শেষ দশকের ই’তিকাফের সওয়াব দুই হজ্জ ও দুই উমরার সওয়াবের সমান।
বর্তমান মহামারির সিচুয়েশনে যেহেতু ব্যাপকভাবে ই’তিকাফ করার সুযোগ নেই, তাই এই অবস্থায় মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে অন্তত একজন বা দুইজন মুসলমানের উচিত সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বিধির প্রতি লক্ষ রেখে মসজিদে ই’তিকাফ করার চেষ্টা করা।
মহিলারা নিজ নিজ ঘরে সুন্নাহ ই’তিকাফ করতে পারেন, তবে পুরুষের জন্য ঘরে ই’তকাফ করার সুযোগ নেই। তবে বর্তমান বাস্তবতায় যেহেতু নারী-পুরুষ সবাইকেই ঘরে অবস্থান করতে হচ্ছে, তাই ঘরের পরিবেশকে ই’তিকাফময় করে ইবাদত-বন্দেগি করা যেতে পারে।
সাদাকাতুল ফিতর
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে বর্ণিত, নবিয়ে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রোজাদারের রোজার ঘাটতি পুরণে সাদাকাতুল ফিতর। প্রত্যেক রোজাদারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, এবং এই সাদাকাহ ঈদের নামাজের আগে আগে আদায় করে ফেলতে হবে। ঈদের নামাজের পরে আদায় করলে সাদাকাতুল ফিতর আদায় হবে না, সেটা নরমাল সাদাকাহ হিসাবে গন্য হবে এবং ফিতরা আদায় না করার গোনাহ থেকে যাবে।
এই বছর সাদাকাতুল ফিতরের সর্বনিম্ন হার হলো পার পারসন $৭. তবে সামর্থবান মুসলমানের উচিত $১৫, $৪০, বা $৪২ করে ফিতরা আদায় করার চেষ্টা করা।
ঈদ উল ফিতর
২২ মে শুক্রবার হবে ২৯ রামাদ্বান। সেদিন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ২৩ মে শনিবার হবে প্রথম শাওয়াল তথা ঈদ উল ফিতর। আর চাঁদ দেখা না গেলে সেক্ষেত্রে ২৪ মে রবিবার ঈদ উল ফিতর উযযাপিত হবে। চাঁদ সংক্রান্ত আপডেটের জন্য সেন্ট্রাল হিলাল কমিটি অব নর্থ আমেরিকার ওয়েবসাইট িি.িযরষধষপড়সসরঃঃবব.ড়ৎম, সাবস্ক্রাইভ করে রাখুন। টুইটারে আপডেট জানতে যুক্ত থাকুন @ঈবহঃৎধষঐরষধষঈসঃ
বর্তমান বাস্তবতায় ঈদের নামাজ জু’মার নামাজের মতোই কমপক্ষে চারজন মুসল্লি মিলে ঘরে আদায় করা যাবে। ঈদের নামাজের টাইম হলো সূর্যোদয়ের ২০ মিনিট পর থেকে জুহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত। ঈদের নামাজের প্রথম রাকাতে সুরায়ে ফাতিহার পূর্বে অতিরিক্ত ৩ তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে আরো ৩ তাকবির বলতে হবে এবং প্রতিটি তাকবিরের সাথে হাত উঠাতে হবে। ইমাম উচ্চস্বরে সুরা কিরাআত এবং তাকবির বলবেন। নামাজের শেষে ইমাম জুমার খুতবার মতো দুটি খুতবাহ দিবেন। ইদের নামাজে আজান ইকামাত হবে না। বর্তমান সিচুয়েশনের কারণে যাদের পক্ষে ঈদের নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে না, তাদের উচিত ঈদের নামাজের টাইমে ৪ রাকাত সালাতুজ-জ্বোহা আদায় করে নেওয়া (অতিরিক্ত তাকবির ছাড়া)।
ঈদের নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রেও লোকাল হেলথ অথরিটির স্বাস্থ্যবিধি এবং সোশ্যাল ডিসটেন্সিং নিয়ম ফলো করতে হবে। নিজের, পরিবারের এবং অন্যদের সেফটির ব্যাপারটি নিশ্চিত রাখতে হবে। এটা সম্ভব না হলে ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই ঈদ উযযাপন করা উচিত।
আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে রামাদ্বানের রহমত বারাকাত এবং মাগফিরাত দ্বারা কামিয়াব করুন এবং আমাদের জন্য একটি আনন্দ ও নিরাপদ ঈদের ব্যবস্থা করে দিন। আমিন।
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








