Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

শুধু অংলোর চোখের নিরব অশ্রু; নদী উহানের ভাটার টানে মিশে যেতে থাকে-

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 133 বার

প্রকাশিত: July 18, 2020 | 1:14 PM

জুলি রহমান :

কাজ থেকে ঘরে ফিরে অংচু!
পাশের কক্ষে কন্যা অংলো।
প্রতিদিন কাজে যায় ছোট্ট নদী পাড়ি দিয়ে
ভাবলো, ঠান্ডা বাতাসে গা গরম-
তা-ছাড়া সী ফোডে ওয়ার্ক! ঠান্ডায় বসতি! রাত যত বাড়ে অংচুর শরীরে
যেনো সূচ ফোটেঃ মাথায় হাতুরীর আঘাত যা সহ্যের অতীত-

জ্বরে পোড়া তাওয়ায় ভাজা রুটিসম
অংচুর দেহপিন্ড পুড়ছে; তবুও কাজ!
স্কাজুয়্যাল মেইন্টেন শ্রমিকের দায়!
তাই নিয়েই কাজে যেতে হয় অংচুকে।
রাতে করোনা আশংকায় অংলোকে ডাকে না  মা। দারুন ছোঁয়াচে রোগ।
উহানে ইতিমধ্যে অনেকেই কভিড১৯
এ আক্রান্ত! কী এক অনু জীবানু শ্বাস
নালী সহ ফুঁসফুঁস খুবলে তোলে।

ভাবনার রজ্জুছিঁড়ে বোধহীন দেহ অংচুর!
চুরমার করে গলে পড়ে যেনো
স্যান্ডুইচের উপরে রাখা চিজের আকার!
লবিতে পড়ে থাকা জ্ঞাণহীন দেহে
সনাক্ত ভাইরাস করোনা ততক্ষণে
আসন পেতেছে। ফোন আসে ডাঃ এর।

অংলো ছুটে উদ্ভ্রান্ত হয়ে মাঝে নদী
হোয়াংহুর শাখা! চিকচিক সিলভার রুপ হয় তামাটে বিবর্ণ! মায়ের আদেশ,
অংলো আসবে না এপাড়ে! চিৎকারে তাঁর আকাশ হয় ভারী! না ডাঃ না!
মেয়েটা আমার ভালো থাক ওপাড়ে-

অদৃশ্য যুদ্ধ চলে অংচুর দেহাভ্যন্তরে!
যুদ্ধ চলে কন্যা অংলুর বুকের তলে হাজার বুলেট।
মা তাঁর জন্য নিজের দেহের ঘাম ঝরায় প্রতিদিন। পড়ালেখা থেকে শুরুর করে সব ঐ তো মা। অংচুর পার্টটাইম জবটা দরকার! কারণ বাবা তাদের ত্যাগ করার পর অংলুর মা ঘানির তেলের মতোই প্রতিনিয়ত পিশে যেতে থাকে। কাধে জোয়াল জীবন যাতনার। কখনো অংচুর এমন মনে হতো আর বুঝি তাঁরা বাঁচবে না।

উহানের নদীর ধারে বসে কলকল ধ্বণির আর বয়ে যাওয়া স্রোতের সাথে তাদের জীবনের বাঁক দেখে দেখে শক্ত হতো চোয়াল। আজ তার অংলো কলেজ পড়োয়া। শোক সন্তপ্ত জীবনে সুখের পরশ। অংচু ও পয়সার মুখ দেখেছে। নিজেদের একটা মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে বহু কষ্টে জমানো অর্থে। অপেক্ষা মেয়েটা একটা ভালো জব পাবে। তাদের জীবনের মোড় যাবে বদলে।এমনি আশায় যখন বুক বাঁধে ঠিক তখনই অণু ভাইরাস রাহুর মতোই গিলছে মানুষ।

মৃতের নগরী চীনের উহান; লাশের পাহাড়!
হাজার মানুষের লাশ। লাশের উপর লাশ। গন কবর হচ্ছে। গভীর জংগলপূর্ণ এলাকা এই অংচুর বাড়িটি। বহুজাতিক গুল্মে ঘেরা বাড়িটি। উঁচু টিলার উপর তাদের ঘর। সর্পিল ভঙ্গিতে শুয়ে আছে পথ। একটি পথের ভেতর আরেকটি পথ। যেনো একটি পথ পরম নিশ্চিন্তে জড়িয়ে আছে আরেকটি পথকে। এমনি পথের উপর বসে অংলু মায়ের উদ্বিগ্ন রোগা ক্লান্ত মুখটি বারবার চোখের রেটিনার সামনে তুলে ধরে ধরে ভয়ে আৎকে উঠছে। হাসপাতালের পাদপিঠ দূর থেকে একটা কোনা বের করে আকাশের ফালি চাঁদ হয়ে ঝুলে আছে।
চাঁদ যেমন দূর আকাশে অধরা। তেমনি দ্যাখে অংলো তাঁর মা ওখানে ঐ হাসপাতালে মৃত্যুর সংগে পান্জা লড়ছে। তাকে দেখা যাবে না। ছোঁয়া যাবে না। চোখ গলে গলে এক নদীর জল হলো।

এ্যাম্বোলেন্সের বিকট আওয়াজ বনভূমিতে ঝড় তোলে তোলে হাসপাতালের গেটে পৌঁছে নিরবে ঘুমিয়ে পড়ছে। প্রতিবার। আর সে শব্দের ডামাডোল অংলোর বুকের পাঁজর ভাঙছে হাতুরীর কঠিন আঘাতে।
পি পি ই পরিহিত ডাঃ নার্স অংচুর নিস্তেজ শরীরটা আরেক বার নাড়াতে চেষ্টা করলো।স্টেথোস্কোপ বসিয়ে বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা পোষা পাখিটার প্রাণবায়ু চেক করতেই মৃত বলে ঘোষণা করলো।

অংলো আর ভাবতে পারছে না। চতু্দিকে লকডাউন। সারাশব্দহীন ধূসর সন্ধা গিলে নিলো বন পাহাড় রাস্তা বাড়ি গাড়ি। অদূরে নিয়ন বাতির তীর্যক আলো বিচ্ছুরিত হয়ে হয়ে সবুজ পাতাদের করে বিবর্ণ পীত রঙ।উহানের নদী জলে সেই বাতির দ্যোতনা হীরক সম জ্বলে।অংলোর চোখের দৃষ্টিও স্রোতস্বিনী নদীর জলে বয়ে চলে। এমনি কালো রজনী এক সময় সূর্য রশ্নিতে আবারও উদ্ভাসিত হয়ে সকাল হলো।

হাসপাতাল কড়িডোর ডোম ঘর কেবলই লাশে লাশে ঠাঁসা।হঠাৎ অংলোর ফোন বজে ওঠে নিরব বাঙ্ময়তার ঢেউ উঠে কানে। অংলো অংলো -প্লিজ
উই কল্ড উহান হসপিটাল। উইর মাদার অংচু হ্যাভ পাস। উই সেন্ড ভিডিউ ফর ইউ। ইউ মাস্ট বি স্ট্রং সুইডি। ইউ মাস্ট বি স্ট্রং সুইডি।

অংলো নিরব। নিরবতা তাকে পেঁচিয়ে রাখলো। পেঁচিয়ে নিলো অংলোর শরীর দেহ মন। এবার তাঁর হাত ফসকে পড়ে গেলো ফোন।

অংলো ছুটে দিক ভ্রান্তের মতো উহান নদীর পাড়ে। তাঁর মায়ের আর্তনাদ-ইউ
ডোন্ট কাম অংলো-বারবার একই শব্দ তাঁর কর্নকোহর যখন দখল করে নিলো
তখনই সে দেখতে পেলো অসংখ্য অগনিত লাশের বহর। লম্বা মাটির গর্তে ফেলছে লাশ।কোনটি তাঁর মায়ের অন্তস্বার শূণ্য দেহ? কোনটি? না নির্বাচন করার কোন হদিস নেই।শুধু এটাই সত্য। তাঁর মা এ পৃথিবীর জন্জাল আবর্ত থেকে; এ পৃথিবীর কারাগার থেকে মুক্তি পেলো। দুই হাজার বিশের মার্চের বেজোড় সংখ্যার তিন তারিখটি ইতিহাস হয়ে রইলো।

অংলোর মন ছুটে চলে সেই সুদূর অতীতে। একটা সবুজ গাড়িতে তাঁর গ্র্যান্ডমা কফিনে লাশ।হরেক রঙের বেলুনে সাজানো গাড়ি। তাঁর পেছনে পেছনে আরো দশটা গাড়ি লাইন ধরে বের হলো ফিউনিরিয়ালের সদর গেইট ধরে। জ্যালোফোনের সুর বাজছে। বাজছে এস্রাজ। মা তাঁর মায়ের লাশটির সৎকার করতে ছুটে চীন শহরের কবরস্থানে।

আজ তাঁর মা? কী নিরুদ্দেশের যাত্রী? কেউ নেই? কোথাও কেউ নেই? কী গভীর শুনশান নিরবতা। বৃক্ষের একটি পাতাও নড়ছে না? তবে কী ওরাও হতবাক? বিমুহিত? করার কিচ্ছু নেই? কিচ্ছু নেই? বন পাহাড় ধীরে ধীরে ঢেকে দিলো শূণ্যতার চাদরে। শুধু অংলোর চোখের নিরব অশ্রু; নদী উহানের ভাটার টানে মিশে যেতে থাকে-

নিউইর্য়ক।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV