Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উৎসব আমেজে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত : করোনামুক্ত পৃথিবী সহ বিশ্ব মানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 38 বার

প্রকাশিত: July 31, 2020 | 11:39 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : করোনামুক্ত পৃথিবী সহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে নিউইয়র্ক সহ যুক্তরাষ্ট্রে ৩১ জুলাই শুক্রবার উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। করোনাকালের এ ঈদে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই অধিকঅংশ মসজিদেই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোথাও কোথাও খোলা মাঠে এবং সড়কের ওপরও ঈদের জামাত হয়েছে। ত্যাগের মহিমা নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত মুসলমানগণ এদিন স্বপরিবারে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন।
সর্বত্রই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এবার অধিকাংশ ঈদ জামায়াত সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাললাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণ।
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, বাংলাবাজার জামে মসজিদ, পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, মসজিদ আল আমান, আল আমিন মসজিদ, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, আসসাফা ইসলামিক সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, মসজিদ আবু হুরায়রা, দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ, আল ফোরকান জামে মসজিদ, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, গাউছিয়া মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার, পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার

নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি)-এ এবার ঈদুল আযহার ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দিন জেএমসি-তে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জেএমসি’র খতিব ও ইমাম মওলানা মির্জাআবু জাফর বেগ। এছাড়াও সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা, সাড়ে ৯টা এবং সকাল সাড়ে ১০টায় আরো ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন ইমাম শামসে আলী আর চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ রফিকুল ইসলাম। জেএমসি ভবন ছাড়াও মসজিদ সংলগ্ন ‘জেএমসি ওয়ে’তে খোলা রাস্তার উপরও মুসল্লীরা নামাজে অংশ নেন।
জেএমসি’র ঈদের জামাত চলাকালীন সময়ে নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর জন ল্যু ও স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জেএমসি পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদে ৫টি ঈদ জামাত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লী স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে স্থানীয় সময় ৩১ জুলাই শুক্রবার মসজিদে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লী স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। মসজিদের ভিতরে এবং পার্শ¦বর্তী পার্কিং লটে সকাল ৭:৩০ মিনিটে, সকাল ৮:৩০ মিনিটে, সকাল ৯:১৫ মিনিটে, সকাল ৯:৩০ মিনিটে এবং সকাল ১০:০০ মিনিটে এ সকল ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাবাজার জামে মসজিদে সকাল ৭:৩০ মিনিটে ১ম জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া। বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ গিয়াস উদ্দিন সহ করোনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়।
২য় জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন সিংগেরকাচ আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা এ কে এম আবদুন নুর। ৩য় জামাতে ইমামতি করেন হাফিজ বদরুল আলম, ৪র্থ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের মোয়াজ্জিন আব্দুল হক এবং ৫ম জামাতে খুৎবা পাঠ করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া।

জামাতের আগে বাংলাবাজার জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক লালন আহমেদ মসজিদের সংক্ষিপ্ত কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সকলের সহযোগিতায় মসজিদটি ঋণ মুক্ত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুসল্লীদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মসজিদটিকে আরো বৃহৎ পরিসরে গড়ে তোলার জরুরী হয়ে পড়েছে। মসজিদ কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এজন্য সকলের আর্থিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

লালন আহমেদ জানান, মসজিদের আগামী ৬ মাসের ইলেক্ট্রিক এবং গ্যাস বিল আল আকসা সুপার মার্কেট ও আল আকসা রেষ্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী শাহীন প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মসজিদের হোম ইনস্যুরেন্স এবং মসজিদের ইনস্যুরেন্সের এক বছরের প্রিমিয়াম ডা. মুহম্মদ হেলাল উদ্দিন, মসজিদের এক বছরের ফোন বিল এ অ্যান্ড এস ডিসকাউন্ট স্টোরের শামীম উদ্দিন এবং এক বছরের পানির বিল মসজিদ ফান্ডরেজিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আবদুস সবুর প্রদান করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।

নামাজ শেষে মুসল্লীদের মাঝে ঈদের মিষ্টি ও পানি বিতরণ করা হয়। মিষ্টি স্পন্সর করেন ডা. আবদুস সবুর। ঈদের নামাজে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মসজিদ কমিটির বাংলাবাজার জামে মসজিদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইলিয়াস আলী, সহ সভাপতি মো. এমদাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. লালন আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ হোসেন তুষার, কোষাধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন, সহ কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু সাঈদ, কার্যকরী সদস্য মো. আহসান রাসুল নাসির, ওয়ালিউর রহমান, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামিম উদ্দিন ও সোহেল চৌধুরী।

মসজিদ কমিটির দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল সংখ্য মুসল্লী সামিল হন এসব ঈদ জামাতে।
ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদে তিনটি ঈদ জামাত

নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের প্রাচীনতম মসজিদ পার্কচেস্টার জামে মসজিদে ৩১ জুলাই শুক্রবার মসজিদে ৩টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল ৮টায়, সকাল ৯ টায় এবং সকাল ১০টায় এসব ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লী জামাত তিনটিতে পৃথকভাবে নামাজ আদায় করেন।

১ম জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম ও খতিব মাওলানা মো: মাসহুদ ইকবাল। দোয়া মুনাজাতে মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভ, করোনামুক্ত পৃথিবী সহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করা হয়।
২য় জামাতে ইমামতি করেন হাফিজ আব্দুল মান্নাফ এবং ৩য় জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম। দ্বিতীয় জামাতে মসজিদের তৃতীয় তলায় মহিলারা নামাজ আদায় করেন। দোয়া মুনাজাতে মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভ, করোনামুক্ত পৃথিবী সহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করা হয়।
জামাতের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পার্কচেস্টার জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।

মসজিদ কমিটির দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ঈদের জামাত তিনটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি জামাতেই বিপুল সংখ্য মুসল্লীর সমাগম ঘটে। দূর-দূরান্ত থেকেও মুসল্লীরা সামিল হন এসব ঈদ জামাতে।

ঈদ জামাতের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, সহ সভাপতি হারুন আলী, মো: আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক আম্বিয়া মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক শেখ মজনু মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মাজলুল আহমেদ, সহ কোষাধ্যক্ষ আব্দুস

শহিদ, কালচারাল সেক্রেটারী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, ফিউনারেল সেক্রেটারী মোঃ নুরুল আহিয়া, মেইনটেনেন্স সেক্রেটারী মোঃ ফটিক মিয়া, এডুকেশন সেক্রেটারী মো: আব্দুল গফুর, কার্যকরী সদস্য : সোহান আহমদ, তারেক আহমদ, কামরুল হাসান ও মোহাম্মদ রুখান খান।

নিউইয়র্ক ঈদগাহ

জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টার ও নিউইয়র্ক ঈদগাহ’র পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যূম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে নামাজের কাতার গঠন ইসলামী শরীয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার কারণে নিউইয়র্ক ঈদগাহ এবারও ফেসবুক লাইভস্ট্রিমে ঈদুল আযহার জামাতের ব্যবস্থা করে। শুক্রবার সকাল ৯টায় মোহাম্মদী সেন্টার থেকে সরাসরি ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারিত ঈদের জামাতে মুসল্লীরা অংশ নেন। তিনি বলেন, যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স্বাস্থ্যবিধি পালনের নিয়ম মসজিদের ছফ বা কাতারে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের অনুমতি নেই। ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে একই সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুসল্লিরা নামাজে না দাঁড়ানো পর্যন্ত নবীজী নামাজ শুরুই করাতেন না। নামাজের আগে জোরে বলে দিতেন, কাতার সোজা করে নাও। কাতারের মাঝখানে কোন ফাঁক রাখা যাবেনা। কাতার ঠিক হলেই কেবল নামাজ সুন্দর ও শুদ্ধ হবে। সেজন্য দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা) নবীজীকে এই ব্যাপারে আপোসহীন দেখার পর নবীজী ও হজরত আবু বাকারের ইন্তেকালের পর মসজিদে একটি ছড়ি নিয়ে যেতেন এবং কেউ কাতারের মাঝখানে একটু খানি ফাঁক রেখেছে দেখলেই ছড়ি দিয়ে মুসল্লির দু’পায়ে বেত্রাঘাত করতেন। সেই ধারাবাহিকতাই চলে আসছে আজ থেকে ১৩’শ ৮৮ বছর আগে থেকে। ইমাম কাজী কায়্যূম বলেন, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারনে শরীয়তের বিধি লংঘিত হয়, তাই নিউইয়র্ক ঈদগাহর সকল মুসল্লী তাদের নতুন প্রজন্ম ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুদ্ধভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঈদুল আদহার ঐতিহাসিক এই নামাজটি আদায় করে দারুণ আত্মতৃপ্তি লাভ করেছেন। এবারের খুতবায় প্রবাসে কুরবানী করা নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ঈদের দিন কুরবানী না করতে পারলেও পরের দিন অথবা তার পরের দিন আসর পর্যন্ত কুরবানীর সময় থাকে। ১৩ই জিলহজের আসর পর্যন্ত সবাইকে তাকবীরে তাশরীক চালিয়ে যাবার পরামর্শ প্রদান করেন। ইমাম কাজী কায়্যূম বলেন, যতদিন পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মসজিদগুলোতে নামাজ শুরু করা যাবেনা, ততদিন ফেসবুক লাইভস্ট্রিমে জুমুমা চলতে থাকবে।
আরাফা ইসলামিক সেন্টার
জ্যামাইকার আরাফা ইসলামিক সেন্টারে পবিত্র ঈদুল আযহার ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় । মসজিদ সেন্টারেই প্রথম ঈদের জামাত হয় সকাল ৬টায়। এরপর সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায় আরো ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নামাজীদের মধ্যে কে কোন জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন তার জন্য মসজিদ কমিটির কাছ থেকে সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ করতে হয় এবং জায়নামাজ সাথে নিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের নাজাজ আদায় করতে হয়।
মসজিদ মিশন


জ্যামাইকার ‘হাজী ক্যাম্প মসজিদ’ নামে পরিচিত মসজিদ মিশনে পবিত্র ঈদুল আযহার ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৬টায়, সকাল ৮টায় ও ৯টায় এসব জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম হাফেজ রফিকুল ইসলাম। দ্বিতীয় জামাতে ইমামমতি করেন মওলানা মঞ্জুরুল করীম। আর তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ তানভির। এই মসজিদে দ্বিতীয় নামাজের আগে নিউইয়র্কের ষ্টেট সিনেটর জন ল্যু মুসল্লীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম সাব্বির। মসজিদে মিশনের তিনটি জামাতেই উপস্থিত মুসল্লীদের মাঝে ফ্রি মাস্ক বিতরণ করা হয়।
দারুস সালাম মসজিদ
জ্যামাইকার দারুস সালাম মসজিদে ঈদুল আযহার ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায়, পৌনে ৮টায়, সাড়ে ৮টায়, সোয়া ৯টায়, ১০টায় এবং সকাল পৌনে ১১টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
আমেরিকান মুসলিম সেন্টার
জ্যামাইকার আমেরিকান মুসলিম সেন্টার (এএমএস)- উদ্যোগে ঈদুল আজহার চারটি জামাত সকাল সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা ও সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টার নামাজের বয়ান করেন এএমএস’র চেয়ারম্যান ও জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ।

ইমামতি করেন মদিনা মসজিদের সেক্রেটারী মাওলানা মোহাম্মদ জুলকীফিল।
আল আমীন জামে মসজিদ
এস্টোরিয়ার আল আমীন জামে মসজিদ এন্ড ইসলামিক সেন্টার-এ ঈদুল আযহার ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায়। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই মসজিদের ভিতরে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

বায়তুল জান্নাহ মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার
ব্রুকলীনের বায়তুল জান্নাহ মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে ঈদুল আযহার ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তীতে আধা ঘন্টা বিরতি দিয়ে বাকী আরো ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া নিউইয়র্কে আরো বেশ ক’টি ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন মসজিদে। এদিন সকাল বেলায় মুসলিম পরিবারের সদস্যরা নানা রঙের পাজামা, পাঞ্জাবি, শাড়ী, সালওয়ার কামিজ পরে নিকটস্থ মসজিদ কিংবা খোলা মাঠে হাজির হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বিশেষ পোষাক পরিধান করে একত্রে বিপুল সংখ্যক মুসল্লীর ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি ভীন দেশীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ম্যারিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহিও, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোরিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, এরিজোনাসহ প্রভৃতি স্টেটে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব স্টেটে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এলাকার মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মসল্লীরা ঈদের দিনের চিরায়িত ‘কোলাকুলি’ না করে মুখে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেকে জামাত শেষে কাজে যোগ দেন। আবার অনেকে কোরবানী দিতে ফার্মে যান। কেউ কেউ ঘনিষ্টজন আর বন্ধুদের বাসায় গিয়েও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রবাসীদের অনেকে গরু ও খাশী কুরবানি দেন। কিন্তু দেশের মতো পশু কিনে নিজ বাড়িতে নিয়ে কোরবানি করার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ প্রবাসী অবশ্য আগে থেকেই স্থানীয় গ্রোসারী ও হালাল পল্ট্রি ফার্মে কোরবানীর অর্ডার দিয়ে রাখেন। সুবিধামত সময়ে গ্রোসারী ও পল্ট্রি ফার্ম থেকে প্রবাসীরা তাদের পশু কোরবানীর মাংস নিয়ে যান। তবে গ্রোসারী ও পল্ট্রি ফার্ম অধিকাংশ কোরবানীর মাংস সরবরাহ করে ঈদের পরদিন। কিন্তু দেশের মতো পশু কিনে নিজ বাড়িতে নিয়ে কোরবানি করার সুযোগ না থাকায় উতসবের ঘাটতির কথা জানালেন কেউ কেউ। তারা জানালেন, দেশের মতো ঈদ আনন্দ পাওয়া যায় না প্রবাসে। অনেকে আবার পবিত্র ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় করতে পেরে ভীষণ খুশী। বললেন, অনেকটা দেশের মতই লাগছে। তবে দেশে থাকা মা-বাবা, পরিবারকে খুব করে মনে পড়ার কথা জানালেন তারা। ঈদের নামাজ শেষে ঘরে ফিরেই ফোনে বাংলাদেশে স্বজনদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাইয়ের নিয়ম না থাকায় কোরবানির পশু জবাই করা হয় খামারে বা হালাল স্লটার হাউজে। তবে অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন গ্রোসারির মাধ্যমে পশু কোরবানি দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং সিটি প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করার মত। জামাতের আশপাশেই ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং থাকায় দূর দূরান্ত থেকে নির্বিঘেœ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন। ২৮ শতাধিক মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি গ্রোসারি/সুপার মার্কেট সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসলিভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যানসাস, আরিজোনা প্রভৃতি স্টেটে প্রায় ৫০ হাজার পশু কোরবানি দেন বাংলাদেশিরা। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দেশে কোরবানি দেন বলে জানা গেছে।
ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষ প্রবাসী স্বজনের সাথে ঈদ করার জন্যে বাংলাদেশে গেলেও করোনার কারণে এবার সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV