Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

ড. সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা-প্রতিবাদ ড. প্রদীপ রন্জন করের

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 157 বার

প্রকাশিত: August 10, 2020 | 2:17 PM

ড. প্রদীপ রন্জন কর. নিউইয়র্ক : সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ড. সিদ্দিকুর রহমানের দেওয়া স্বাক্ষাৎকার দু’টি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। স্বাক্ষাৎকারে ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বরণ দিবস নিয়ে মিথ্যাচারসহ অনেক বিষয়ে অসত্য ও ভূল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। আমি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বরণ দিবসের মত স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ড. সিদ্দিকুর রহমান

১) ড. সিদ্দিকুর রহমান উল্লেখ করেছেন তার নেতৃত্বে ‘৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসংহে শত শত ছাএ, কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, মিছিল শেষে সমাবেশ, ওয়ারেণ্ট ইস্যু, এ খবরে আর্মি এসে তাকে তুলে নেয়া, গ্রেফতার ও দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে। তার এ সকল বক্তব্য সম্পুর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ‘৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে কোন প্রকার প্রতিবাদ মিছিল হয় নাই; তিনি গ্রেফতার বা তার নামে কোন প্রকার ওয়ারেন্ট ইস্যুও হয় নাই। আমি ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ড. সিদ্দিকুর রহমানের এ সকল বক্তব্য ভূয়া, ভিত্তিহীন ও কল্পনা প্রসূত। আমি ‘৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই ছিলাম।সে সময় আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল ছাএলীগ শাখার সভাপতি ছিলাম। ‘৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট সকাল বেলাতেই তৎকালীন বিরোধী ছাএ সংগঠনের উৎশৃখল ও সএাসী একটি দল অকস্মাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার আবাসিক হলের ব্লকে ঢুকে হামলা চালায় ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। তাদের গালাগালি ভাষায় প্রথম জানতে পারি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। কিনতু আমরা ঐ সময় বিশ্বাস করতে পারি নাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। অকস্মাৎ এই হামলার ফলে আমরা কিছুটা ছএভঙ্গ হয়ে পরি এবং সত্যি বলতে কি ঐদিন বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসে কোন প্রতিবাদ মিছিল করা সম্ভাপর হয় নাই। কিনতু জেল হত্যার পর বঙ্গবন্ধু ও জেল হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসে বড় ধরনের প্রতিবাদ মিছিলের অন্যতম আয়োজক ছিলাম। ‘৭৫ এর ১৫ই আগষ্টে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসে কোথাও কোন মিছিল হয়নি, আর্মিও আসেনি এবং কাউকে গ্রেফতারও করেনি। সিদ্দিকুর রহমানের এ সকল কল্প কাহিনী আমি আগে কখনও শুনিনি। যারা দলে হাইব্রিড হিসাবে ঢুকেছে তারাই নিজেদের পদ-পদবী ধরে রাখার জন্য এ ধরনের নানা কল্পকাহিনী তৈরী করে যাচ্ছে। সিদ্দিকুর রহমান কোনদিন কোন ছাএ সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না। তাছাড়া উনি নিজে উল্লেখ করেছেন উনি ’৭৩ সালে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন। তা হলে উনি কিভাবে ছাএদের ডাক দিলেন এবং শত শত ছাএ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, মিছিল শেষে সমাবেশ, ওয়ারেণ্ট ইস্যু, এ খবরে আর্মি এসে তাকে তুলে নেয়া ও দফায় দফায় নির্যাতিত হলেন? এ সমস্ত ভূতুরে গল্প ছাড়া আর কিছু নয়। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, তিনি যদি প্রমান করতে পারেন, ১৫ই আগষ্ট তিনি এসব করেছেন। তা হলে আমি যে কোন শাস্তি নিতে প্রস্তুত থাকবো আমি ।

২) ড. সিদ্দিকুর রহমান উল্লেখ করেছেন ’৭৩ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকে বাকসু’র দেয়া সংবর্ধনা অনুঠান তিনি পরিচালনা করেছেন। যা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রকৃত সত্য হলো- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীৄয় ছাএ সংসদ বাকসু’র আমন্ত্রনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় এলে বাকসু’র পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুায়ী সংবর্ধনা সভায় বাকসু’র সভাপতি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য সভাপতিত্ব এবং তদানিন্তন বাকসু’র সাধারন সম্পাদক ও বর্তমানে মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সভাটি পরিচালনা করেছিলেন। ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বাকসু’র কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়ে কি ভাবে তিনি ঐ সভা পরিচালনার দাবী করতে পারেন? তাই বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। বঙ্গবন্ধুর সংবর্ধনা অনুঠান পরিচালনা নিয়ে তিনি আবারোও মিথ্যাচার করলেন! বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বরণ দিবস ও বঙ্গবন্ধু সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে যিনি এতবড় মিথ্যাচার করতে পারেন, তিনি কি সত্যিকার আওয়ামীলীগার কিনা? সেটাই সবার মনে প্রস্ন!

৩) ডঃ সিদ্দিকুর রহমান ইতিপূবে উল্লেখ করেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যার তথাকথিত প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বদান করায় বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে চাকুরী চ্যুত করার প্রসিডিং নিয়েছিল এবং তিনি পালিয়ে আমেরিকা আসেন। তার এ বক্তব্য সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিওিহীন। সিদ্দিকুর রহমান ১৯৭৭ সালে কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৃওি ও জিয়া সরকারের জিও নিয়ে প্রথমে লন্ডন যান এবং ’৭৯ দেশে ফিরে এসেই মাএ ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় বৃওি ও জিয়া সরকারের জিও নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকায় আসেন। সুতরাং উনার বিরুধে কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে চাকুরী চ্যুতির যে মনগড়া গল্প তিনি তৈরী করেছেন তা সম্পূন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।এছাড়া পচাওুরের ১৫ই আগষ্ট এর পর যে সময়ে স্বৈরাচার খুনি জিয়া সরকার অসংখ্য সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য সহ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের অসংখ্য নেতা কর্মীদেরকে খুন, গুম,জেল জুলুম, অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছিল এবং কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় ছাএলীগের অন্যতম নেতা শওকত মোমেন শাহজাহানকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরন করেছিল। সেই কঠিন সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার তথাকথিত প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বদানকারী, ওয়ারেণ্টের মাধ্যম আর্মির দ্বারা গ্রেফতারকৃত, চাকুরী চ্যুতির প্রসিডিং শুরু হওয়া ব্যক্তি বগুড়া চ্যানেলে জিয়ার সাথে সম্পর্ক ও সখ্যতা ছাড়া কিভাবে ‘৭৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৃওি ও জিয়া সরকারের ছাড়পএ বা জিও নিয়ে প্রথমে লন্ডনে এবং ’৭৯ দেশে ফিরে এসেই মাএ ছয় মাসের মধ্যে ব্যবধানে পুনরায় বৃওি ও জিয়া সরকারের জিও নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমালেন? তাই সবার মনে প্রস্ন, মুজিব সৈনিক হিসাবে দাবীদার ডঃ সিদ্দিকুর রহমান স্বৈরাচার খুনি জিয়া সরকার কাজ থেকে এত সব উপহার কিসের বিনিময়ে পেলেন! কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল ভাবে জনশ্রুতি ও সবার মনে প্রস্ন, ডঃ সিদ্দিকুর রহমান উপযুক্ত বয়স থাকা সত্যেও একাওুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে কেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করলেন না? পক্ষান্তরে, একাওুরে তিনি পাকিস্থান সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কিভাবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ করলেন, পরীক্ষা দিলেন, এমনকি পাকিস্থান সরকারের দেয়া ষ্টাইপেন্ডও গ্রহন করলেন।

আমি ৭৩ সালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। প্রথম বর্ষে থাকালীন আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল ছাএলীগ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হই। পরবওীতে ’৭৭ সালে আমি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাএলীগ শাখার সাধারন সম্পাদক এবং ’৭৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাএ সংসদ (বাকসু’র) নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক ছিলাম। এছাড়া বাংলাদেশ ছাএলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলাম এবং ’৮১ তে বাকসু’র নির্বাচনে ছাএলীগ থেকে ভিপি পদে মনোনয়নও পেয়েছিলাম। আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তৎকালীন স্বৈরাচার জিয়া সরকার অস্থির হয়ে উঠেছিল। কিডন্যাপ, মার্ডার করার সব চেস্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে বাকসু’র জিএস পদ থেকে সড়ানোর জন্য অন্যায় ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তার স্পেশাল ক্ষমতা বলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে রাজ টিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। আমি ’৭৩ থেকে ’৮২ পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এই ১০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এক মুহুর্তের জন্যেও কোন সভা,সমাবেশ, মিছিল মিটিং এ ড. সিদ্দিকুর রহমানকে দেখি নাই। এমন কি ’৭৫ বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠনের ঘোষনার পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানানো জন্য দুইটি বাস বোঝায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী ও ছাএদের নিয়ে আমরা ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সাথে স্বাক্ষাত করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। সেই অনুঠানেও সিদ্দিকুর রহমানকে দেখা যায় নাই। অথচ তিনি এখন বড় আওয়ামীলীগার সেজে যা খুশী তাই বলছেন ও করছেন। মিডিয়াতে তিনি গল্প তৈরী করে এও বলছেন আমাকে নাকি হাত ধরে আওয়ামীগ মিটিং এ বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা তিনি করেছেন। এসব বনোয়াট কথা শুনলে অবাক হতে হয়! একজন শিক্ষিত মানুষ দলের পদ পদবী ধরে রাখার জন্য কিনা করছেন ও বলছেন!

৪) অতি সম্প্রতি বগুড়া -১ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রয়াত এমপি জননেতা আব্দুল মান্নানের সহধর্মিনীকে মনোনয়ন দিয়েছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা এবং ইতিমধ্যেই ঐ আসনে নির্বাচনে আব্দুল মান্নানের সহধর্মিনী জয়ী হয়েছেন। ঐ আসনে ড. সিদ্দিকুর রহমানের প্রাথী আবেদন বিবেচিত না হওয়ায় জননেএী গৃহীত সিন্ধান্ত অমান্য করে বিভিন্ন অপপ্রচার ও বিতর্ক ছড়াচ্ছেন। জননেএীর সিন্ধান্তে ড. সিদ্দিকুর রহমানের মনোনয়ন বিবেচিত না হওয়ার দায় তিনি কৃষিবিদ/কৃষি বিজ্ঞানী, আমার নাম ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্ধের নাম জড়িয়ে মিডিয়াতে অপপ্রচার ও দোষারোপের মাধ্যমে নেএীর প্রদেয় সিন্ধান্ত অমান্য করে চলেছেন। যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। ড. সিদ্দিকুর রহমানের এধরনের কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

৫) বিগত ০৯ বছরে ড. সিদ্দিকুর রহমান যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগের ৫টি ভিন্ন ভিন্ন কমিটি তৈরী করেছেন এবং সর্বশেষে দলের গঠনতন্ত্রের সকল নিয়মনীতি অমান্য করে বিভিন্ন পদে অতিরিক্ত ৭৩ জনকে একযোগে কমিটিতে অন্তরভূক্তিসহ অসংখ্য অসাংগঠনিক/ অসাংবিধানিক বা অনৈতিক কর্মকান্ড করে সংগঠনকে বিপথে পরিচালিত করছেন। এতদভিন্ন, ঐ সকল অনৈতিক কর্মকান্ড সমুহ ঢাকার অনুমোদনক্রমে করেছেন বলে তিনি দাবী করে আসছেন। যা সম্পূন মিথ্যা। এই ভাবে তিনি নিজের অপকর্ম সাথে কেন্দ্র(ঢাকা) বা হাই কমাণ্ডকে জড়িয়ে বিতর্কিত করে চলেছেন। ড. সিদ্দিকুর রহমানের এ সকল অপকর্মের ফলে জননেএী শেখ হাসিনা গত সেপ্টেম্বরে নাগরিক সংবর্ধনা অনুঠানে ড. সিদ্দিকুর রহমান ও যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগের সকল সদস্যকে স্টেজ থেকে নিচে নামিয়ে জননেএী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ও ইউএন বাংলদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধির সঞ্চালায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের কনভেনশন (প্রথা) অনুযায়ী কোন উর্ধতন কমিটির সভাপতি যখন নিন্মতম কমিটির কোন সভার সভাপতিত্ব করে, তখন অটোমেটিক্যালি নিন্মতম কমিটি অবলুপ্ত হয়ে যায়। সুতবাং আওয়ামী লীগের কনভেনশন (প্রথা) অনুযায়ী যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগ কমিটির কোন ভ্যালিডিটি আর নাই। বর্নিত অবস্হায় জাতির জনকের আদর্শের দল, জননেএী শেখ হাসিনার গঠিত দল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে স্বমর্যাদায় ফিরিয়ে আনার জন্য দলের সকল নেতা-কমীদের এক হয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।

৬) ড. সিদ্দিকুর রহমান সাহেব তার সাথে আমার বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি বলতে চাই, ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমানের সাথে আমার কোন দ্বন্ধ বা বিরোধ নাই। উনার সাথে আমার মতপার্থক্য একান্তই রাজনৈতিক। আমি কখনই ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমান বা তাঁর পরিবারের সদস্য নিয়ে কোথাও কোন দিন কোন কথা বলি না। অথচ ড. সিদ্দিক বারংবার আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানাবিধ বক্তব্য ও মন্তব্য দিয়ে আমার সামাজিক মযাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যা মোটেই শোভনীয় নয়। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ইস্যু ব্যবহার করলে তা কারো জন্যই সুখকর ও নিরাপদ হবে না। তিনি যদি এ প্রক্রিয়া অব্যহত রাখেন তাতে তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাছাড়া ড. সিদ্দিকুর রহমান কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড, আচার-আচরন, জ্ঞান-প্রজ্ঞা নিয়েও আজ অনেকেরই প্রশ্ন? কেউ রাজনৈতিক দলের পদে থাকলেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়না। রাজনীতিতে সততা, নীতি আদর্শ, ত্যাগ ও দেশপ্রেম ইত্যাদিই মুল বিষয়। কিন্তু ড. সিদ্দিক ইতিমধ্যে প্রমান করেছেন তিনি ভোগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমি ভোগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল একটি সংগঠন। ড. সিদ্দিক এ সংগঠনের সভাপতি থাকাকালীন এ সংগঠনের চরিএ পাল্টে দিয়ে কর্পোরেট চরিএে রূপান্তরিত করেছে। দল পরিচালনায় তার চরম অনিয়ম, অসাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, অসততা ও দলের ফান্ড নিয়ে অস্বচ্ছতা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগকে আজ এক চরম সংকটাপন্ন অবস্হায় ফেলেছেন। তিনি এ সংগঠনের অনেক বড় ক্ষতি করেছেন। ড. সিদ্দিকুর রহমানের হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগকে মুক্ত করে স্বমর্যাদায় ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। সুতরাং ড. সিদ্দিকুর রহমানের সাথে আমার দ্বন্ধ একান্তই রাজনৈতিক। ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমান বা তার পরিবারের সাথে আমার কোন বিরোধ নাই। এছাড়া চরম মিথ্যার উপর ভর করে তিনি চলেন। তার কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে উনি হিটলারের গোয়েবলস তত্ত্ব অনুসরন করে চলেছেন। অর্থ্যাৎ অসত্যকে বার বার মানুষের সামনে এনে সত্যে রুপ দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু সিদ্দিকুর রহমান হয়তো জানেন না, বর্তমান ইন্টারনেট যুগে সময়ের সাথে সাথে হিটলারের গোয়েবলসের এই তত্ত্ব ক্রমেই তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে। মানুষের তথ্য পাওয়ার ক্ষেএ যত বিস্তৃত হচ্ছে গোয়েবলসীয় তত্ত্বের কার্যকারিতা ততই কমছে। মিথ্যা দিয়ে সাময়িক ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা গেলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সত্যের কাছে অসত্য পরাজিত হচ্ছে। সুতরাং মিথ্যাকে সত্য বলে চালানোর বাসনা কখনই পূর্ন হওয়ার নয়। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বরণ দিবসের মত স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে মিথ্যাচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য ড. সিদ্দিকুর রহমানের প্রতি সবিনয় অনুরোধ রইল।

-ড. প্রদীপ রন্জন কর, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক জিএস, বাকসু’ ৭৯ ও আওয়ামী লীগ নেতা।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV