Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

লৈখিক শিল্পে চৌর্যবৃত্তি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 78 বার

প্রকাশিত: August 22, 2020 | 8:14 PM

ড. দিলারা বেগম : বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিগত উন্ন্য়নের বদৌলতে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। যদিও এ প্রযুক্তিগত উন্ন্য়নের সুফল যারা ভোগ করছে বেশীর ভাগ মানুষেই উচ্চ ও উচ্চমধ্য বিত্ত সমাজে বেড়ে উঠা মানুষ। বিভিন্ন্ দেশের নিম্ন ও হত দরিদ্র মানুষ যে এই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করছেনা তা কিন্তু নয়। তবে এরা সংখ্যায় সীমিত। এ প্রযুক্তির কল্যানেই সামাজিক সম্প্রচার, প্রচার, ও প্রকাশ মাধ্যম গুলোর ত্বরিত তৎপরতার কারনেই আজ পৃথিীবীর মানুষ যেন এখন সবাই একই ঘরে বসবাস করছে । একই সাথে এক নিমিষের মধ্যে একিই খবর, দৃশ্য, ছবি, ও ছায়াছবি, একই বই বা বিষয় বহু মানুষ একিই সাথে একই সময়ে দেখতে, জানতে, পড়তে ও শিখতে পারছে। এবং তাদের ভাললাগা, ভালবাসা, বিরক্ত, ঘৃণা, রাগ, ক্ষোভ, সকল ধরনের অনুভুতি ও অভিমতও এক নিমিষে পৌঁছে দিচ্ছে কেটিাকোটি মানুষের কাছে। মানুষ ঘরে বসে কেন-কাটা করেছে, তৈরী খাবার নিজে খাচ্ছে। অন্যকেও খাওয়াচ্ছে। আবার একদেশে বসে আর এক দেশকে ধ্বংসও করে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত সুফল ও কুফলের খেলা সমান্তরাল ভাবেই চলছে। এক ক্লিকেই অপছন্দের কাউকে শব্দের খেলায় ঘায়েল করেছ, আবার এক ক্লিকেই আজানা সমস্ত তথ্য সব জেনে নিচ্ছে। এ অতিরিক্ত জানার কারনে সমাজে তৈরী হচ্ছে রজনীতি না করেও রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিতে গবেষনা না করেও অথনীতিবিদ, ইতিহাসে গবেষনা না করেও ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞান র্চ্চা না করেও বিজ্ঞানী, সাহিত্য চর্চ্চা না করেও সাহিত্যিক, গবেষনা না করেও গবেষক। অকপটে জ্ঞানগর্ভ কথা বলতে পারলেই আর অন্যের ধার করা কিছু চমৎকার যুক্তিবাক্য আওরালেই তিনি হয়ে যাচ্ছেন প-িত ও বুদ্ধিজিবী। নাম-ডাকের জন্য, যশস্বী ব্যক্তি হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত পাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের কিছু কিছু মানুষ। অবশ্যই সকল পন্ডিত ও বুদ্ধিজিবীদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। অনেক পন্ডিত, বুদ্ধিজিবী, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ আছেন যারা তদের নামের সাথে এ ধরনের বিশেষন প্রচার পছন্দ করেননা।
মানুষ যেমন জ্ঞান আহরন করছে, তেমনি জ্ঞানের অপব্যবহারও করেছে । মানুষ মেধা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের স্বাভাবিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া জলাঞ্জলি দিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছে। বানাণ ভূলে যাচ্ছে। শিশুরা এখন হাতের কর ধরে গনণা করা শিখছেনা। ক্যালকুলেটর ব্যবহার করছে। সংগীতের ক্ষেত্রে হাতে বাজানো বাদ্য যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও অনেকাংশে কমে এসেছে। কন্ঠের স্বভাবিক স্বরও পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে গান রেকর্ড করে তা প্রকাশ ও প্রচারও করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো অবশ্য মনুষের ব্যাক্তিগত রুচিবোধ ও স্বাধীনতা। তবে অন্যের লেখা গান বা সুর কেউ নিজের বলে দাবী করতে পারবেনা। এ বিষয়ে মেধা চুরির জন্য মামলা কারার বিধান রয়েছে। ডিসেম্বর (২০০৯) প্রফেসর স্টিফেন মোরো Plagiarism (প্লেজিয়্যারিজ্ম্) কি তা বিশ্লষন করেত গিয়ে উদাহরন স্বরূপ তুলে ধরেন, ১৯৯৮ সালে মেগা পপ শিল্পী ম্যাডোনার একটি বিখ্যাত গান ‘‘ফ্রজেন” প্রচরের ৭ বছর পর (নভেম্বর ১৮, ২০০৫) গানটি রচনার আসল মালিক সালভাটোর এ্যাকুয়াভিভা তিনি ম্যাডোনার বিরুদ্ধে মামাল করে জিতেছিলেন।
লেখা চুরি (প্লেজিয়্যারিজ্ম্) হচ্ছে কারো লেখা নকল করে বা নিজের মত করে বাক্য ও শব্দ পরিবর্তন বা অনুবাদ করলে এবং অনুবাদে আসল অর্থের বা তথ্যের পরিবর্তন ঘটালে এটি অন্যের মেধা চুরি বলে গন্য করা হবে। যেটি ইংরেজীতে (ইন্টেলআ্যাকচুয়াল প্রপারটি থেপ্ট) বলা হয়। তবে চিরন্তন সত্য যেমন সূর্য কিরন ছড়ায়, পৃথীবীতে বাতাস বয়। কোন নির্দিষ্ট ঘটনার সাল তােিখর ক্ষেত্রে যেমন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তি যুদ্ধ শুরু হয়। এ তথ্যগুলি অন্যের লেখা থেকে নিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করলে এটি গ্রহণ যোগ্য। কিন্তু এই তথ্যের সাথে লেখকের আলোচনা বা বিষয়বস্তুর কোন অংশ উদ্ধৃতি করে কোটেশনের মাধ্যমে বা নিজের ভাষায় লিখে বা শব্দ পরিবর্তন করে লিখলেও আসল লেখকের লেখার সন, লেখকের নাম উল্লেখ না করলে এটি লেখা চুরি বলে গন্য হবে। এই নাম, সন লেখারও নিয়মাবলী রয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশের জন্য এক রকম, এ ক্ষেত্রে রেফারেন্স দিতে হয়না কিন্তু লেখক নিজর মত করে আসল লেখকের নাম, লেখার সন উল্লেখ করতে পারেন। গল্পে বা প্রবদ্ধের জন্য অন্য রকম, যেমন গল্পে গানের কলি সংযোজন করা দোষের নয়। গবেষনা ডিজার্টেশন লেখার েেক্ষত্রে আবার একেবারেই ভিন্ন রকম জঠিল পদ্ধতি। অনেক মনে করেন কোটেশন চিহ্ন দিলে আসল লেখকের লেখার সন, বা লেখকের নাম উল্লেখ না করল্ওে চলে। এটিও কিন্ত ঠিক নিয়ম নয়।
বিষয়টি কিন্তু এরকম নয় যে কেউ কারো লেখা পড়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে সেই লেখা থেকে কিছু অংশ নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে কোন প্রকাশ মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেনা। আসলে বিষয়টি হল সবার প্রথম যিনি বিষয়টি নিয়ে লেখেন । মেধার পরিশ্রম ব্যায় করেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তার মেধার মূল্য দেয়া। একটি লেখার মধ্যে যদি ১০০ জন লেখকের লেখার উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয় শুধুমাত্র রিসার্চ পেপার ছাড়া (রিসার্চ পেপারে নিৃর্দষ্ট নিয়মাবলী অনুসরন করতে হয়), নুতন লেখক তার নিজের মত করে কোটেশন চিহ্ন দিয়ে বা লেখার পুনরুক্তি বা শব্দ/বাক্য পরিবর্তন করে উপস্থাপন করলেও আগের বা প্রথম লেখকের নাম এবং লেখার সন উল্লেখ করবেন এটিই বাঞ্ছনীয়। অথবা বদ্ধনীর মধ্য বা লেখার শেষে সূত্র লিখে ওয়েব লিঙ্ক দিয়ে দিতে পারেন। কারন যদি কেউ বিষয়টি সম্পর্কে বিশদ ভাবে জানতে আগ্রহী হন তিনি সহজেই লেখাটি খুঁজে বের করতে পারবেন। এতে তিনি নুতন লেখকের লেখার মান সম্পর্কেও পাঠক ধারনা নিতে পারবেন।
উন্নত দেশের উচ্চমাধ্যমিক/মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যলয়ে কোন লেখা বা লেখার অংশ বিশেষ অনুকরন বা কপি-পেষ্ট করে কোন এ্যাসাইনমন্ট জমা দিলে এবং তা অটোমেটিক প্লেজিয়্যারিজ্ম্ ডিটেকশনে ধরা পরলে শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধন করে নিজের লেখা জমা দিতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষাথীঁকে সাময়িক বা স্থায়ী ভাবে বহষ্কিারও করা হয়ে থাকে।
লেখায় চৌর্যবৃত্তি এতটাই বেড়েছে যা সহজেই অনেকের দৃষ্টি গোচর হয়েছে বা হচ্ছে। যারা বিভিন্ন্ বিষয়ে বাড়তি পড়াশনা করেন বিষেশ করে তাদের দৃষ্টি কোন কোন লেখক কোন ভাবেই এড়াতে পারছেননা। লেখায় এ চৌর্যবৃত্তিকে উৎসাহিত না করে দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদ ও প্রতিহত করা উচিৎ।
সকলের অবগতির জন্য প্লেজিয়্যারিজ্ম্ এবং কপিরাইট এক নয় এ বিষয়টিও সংক্ষেপে তুলে ধরা হল। ওহাইও বিশ্ববিধালয়ের কপিরাইট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী কপিরাইট এবং প্লেজারিজম সম্পূর্ন আলদা বিষয়। কপিরাইটের নিধারিত সময়সীমা থাকে। এই সময়সীমার মধ্যে কপিরাইট করা আছে এমন কোন যে কোন ডিজাইন, বই, প্রবদ্ধ, গান যদি কেউ নিজের নামে প্রকাশ করে তবে কপিরাইট আইন অমান্য করার দায়ে প্রকৃত মালিক মামলা করতে পারেন। প্লেজিয়্যারিজ্মের ক্ষেত্রে কোন সময়সীমা নেই, যে কোন সময় প্লেজিয়্যারিজ্মের মামলা করা যেতে পারে কপিরাইট থাকুক বা না থাকুক।

সূত্র: https://library.osu.edu/document-registry/docs/587/stream

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV