Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে তিনবাংলা ইউএসএ’র ‘বাংলাসাহিত্য কর্মশালা’ ও মাস্ক-সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা: ‘সেরা তিরিশ’ থেকে বিজয় পেলেন ভারতবাংলা’র কবি সৌমিত বসু

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 116 বার

প্রকাশিত: October 8, 2020 | 12:13 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক. নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে নতুন রেকর্ড গড়লো তিনবাংলা, ইউএসএ। প্রথমবারের মতো নিবেদন করলো ‘বাংলাসাহিত্য কর্মশালা’। সঙ্গে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক ‘মাস্ক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ২০২০’। জ্যাকসন হাইটসের ৭২ স্ট্রিটস্থ ‘ইটজি প্রাঙ্গনে’ ছিলো দিনমান অনুষ্ঠানমালা। করোনাকালকে সাহিত্যচর্চা ও পাঠের মাহেন্দ্রকাল বলা হলো। নিবেদিত হলো সামাজিক সচেতনতাবৃদ্ধির জোর আহ্বান। কবিতা ও কথাসাহিত্যে শুদ্ধতা রক্ষার দাবিও উঠলো। কর্মশালায় ছিলো শুদ্ধতাবাদী চর্চার দিক-নির্দেশনা। ‘মাস্ক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা’র প্রদর্শনীতে ছিলো তিরিশটি সেরা অবয়ব। সেখান থেকে বিচারকবৃন্দ প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় নির্বাচন করেন। প্রয়াত ৬ জন কৃতবিদ্য ব্যক্তিত্বকে স্মরণও করা হয়। ছিলো নতুন বই-এর মোড়ক উন্মোচন, গান-কবিতা-হাস্যগল্প।

চার অক্টোবরের রৌদ্র-করোজ্জ্বল সকাল সাড়ে এগারটায় কার্যক্রমের শুরু। সামগ্রিক কর্মকান্ড শুরু হয় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে। তিনবাংলা’র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট কবি-কথাকার সালেম সুলেরী ছিলেন উদ্বোধক। উন্মোচিত হয় ‘মাস্ক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ‘সেরা ৩০ অবয়ব’ প্রদর্শনী। কার্যক্রমটি সমন্বয় করেন তিনবাংলা, ইউএসএ সভাপতি নার্গিস আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন কর্মশালা সাব-কমিটির আহ্বায়ক আজিজুল হক মুন্না। ‘মাস্ক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা’ সাব-কমিটির আহ্বায়ক সাহিত্যিক নাসরিন চৌধুরী। ব্যবস্থাপনায় লেখক মিজান রহমান, সাহিত্যিক শরীফ মাহবুবুল আলম। কবি ভায়লা সালিনা, শামসাদ ফাতিমা পলাশও দায়িত্বে ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তিনবাংলা’র সহ-সভাপতি মুহম্মদ আলী বাবুল। বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হয় মঞ্চভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা। সভাপতিত্ব করেন তিনবাংলা, ইউএসএ-এর প্রথম সভাপতি নার্গিস আহমেদ। ‘গেস্ট অব অনার’ ছিলেন দু’জন তরুণ কৃতবিদ্য। মূলধারার রাজনীতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মেরি জোবায়দা। জাতিসংঘে কর্মরত বিশিষ্ট কবি-গদ্যশিল্পী কাজী জাহিরুল ইসলাম। সাম্প্রতিককালের প্রয়াতদের শ্রদ্ধাতর্পণে ছিলো এক মিনিট নীরবতা। তিনবাংলা বিশেষভাবে স্মরণ করে ছয়জন গুণবান ব্যক্তিত্বকে। তিনবাংলা, বাংলাদেশ-এর সভাপতি সদ্যপ্রয়াত লেখক-সাংবাদিক রাহাত খান। অক্টোবরে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা কবি শামসুর রাহমান। তিনবাংলা, ভারতবাংলা’র প্রয়াত সভাপতি লেখক নবনীতা দেব-সেন। প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। নিউইয়র্কস্থ ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র সভাপতি প্রয়াত কামাল আহমেদ। ৩ আগস্ট প্রয়াত আলোড়িত কবি আলেয়া চৌধুরী। প্রত্যেকের স্মৃতিময় আলোকচিত্র ব্যানারে প্রদর্শিত হয়।

প্রথম পর্বেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। প্রবাসলেখক ড. ফারুক আজমের ‘তাদের চলে যাওয়ার গল্প’। বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের প্রয়াণপর্ব নিয়ে সদ্যপ্রকাশিত গ্রন্থ। মোড়ক উন্মোচন করেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সমন্বয়ে ছিলেন সংশ্লিষ্ট সাব-কমিটির আহ্বায়ক লেখক মিজান রহমান।

কর্মশালা পর্বে প্রধান মডারেটর ছিলেন কবি-কথাকার সালেম সুলেরী। ভীষণ উপভোগ্য ও প্রাণবন্ত ছিলো পুরো পর্বটি। ‘বাংলায় বিশ্বমানের গদ্য-পদ্য রচনার কৌশল’ ছিলো প্রধান আলোচ্য। বাক্যে ‘সিঁড়ি বৈশিষ্ট্য’ ও সিঙ্গেল ডিজিটের শব্দ-প্রয়োগ বোঝান। কবিতায় ছন্দ-প্রয়োগের সহজ কৌশলও বুঝিয়ে দেন। স্বরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্ত-অক্ষরবৃত্ত ছন্দ আয়ত্তে রাখতে দেখান নতুন ছক। কর্মশালার প্রায় সবারই নাম দিয়ে ছন্দ-বিশ্লেষণ করেন। ফলে ছন্দ-ব্যকরণ-প্রকরণ বোঝার বিষয়টি সহজতর হয়ে ওঠে। পর্বটি উৎসর্গ করা হয় তিন প্রবাস-প্রধান কবিকে। সর্বকবি অমিয় চক্রবর্তী, শহীদ কাদরী, সুরাইয়া খানম।

কর্মশালার প্যানেল বক্তা কাজী জহিরুল ইসলামও ছিলেন সপ্রতিভ। শব্দকে ভেঙে বা জুড়িয়ে ছন্দ-মাত্রা-পর্ব বিষয়ে বলেন। খোলা আর বদ্ধ শব্দে ছন্দ-প্রয়োগের জটিলতারও সমাধান দেখান। যুক্তির সপক্ষে প্রামাণ্য কবিতাপাঠ– পর্বটিকে মনোগ্রাহী করে। সাম্প্রতিক বিশ্ব-কবিতাধারা বিষয়ে বলেন কবি-গবেষক ড. মাহবুব হাসান। অনুষ্ঠানে হাসির গল্প পরিবেশন করেন নাট্যনির্দেশক শহীদ উদ্দিন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ছিলেন কবি জেবুন্নাহার জ্যোৎস্না, মিজান রহমান।

মধ্যাহ্নভোজের পর শুরু হয় তৃতীয় পর্ব। ‘মাস্ক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী। চারজন বিচারকের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় ফলাফল। নাকের পাশাপাশি মাথার চুল ঢেকে রাখাকেও গুরুত্ব দেন বিচারকবৃন্দ। পূর্বের বাছাইকৃত ‘সেরা তিরিশ’ থেকে তিনটি একক/ যৌথ আলোকচিত্র নির্ধারিত হয়। প্রথম হন ভারতবাংলা’র কবি সৌমিত বসু। দ্বিতীয় হন বাংলাদেশের প্রতিযোগী রোজানা সিমিন। তৃতীয় হয়েছে একছবির তিন সহোদর– জায়ান-আজান-আইমান। এই শিশু প্রতিযোগিদের বসবাস নিউইয়র্কে। বিচারক ছিলেন জাতিসঙ্ঘে কর্মরত লেখক মুক্তি জহির, আবৃত্তি ও যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী নাসিমা আখতার। বিশিষ্ট লেখিকা কামরুন আখতার। মাস্ক প্রতিযোগিতা সাব-কমিটির আহ্বায়ক লেখক নাসরিন চৌধুরীও। প্রতিযোগিতাটির সমন্বয়কারী ছিলেন লেখক-কণ্ঠশিল্পী জাহিদা আলম। তিনি জানান– দূরের বিজয়ীরা ঘরে বসেই বিজয়সনদ পাবেন। সেক্ষেত্রে ঠিকানা পাঠাতে হবে [email protected] ঠিকানায়। অথবা Tinbangla US ফেসবুক আইডি’র মেসেঞ্জারে।

স্মৃতিতর্পণ পর্বে প্রয়াত সংগঠক কামাল আহমেদ সম্মানিত হন। বিশেষ আলোকপাত করেন নিকটাত্মীয় মাসুম খান। তিনি বলেন, গ্রামে কামাল ভাই ও আমাদের বাড়ি পাশাপাশি। বৃহত্তর সিলেটের বিয়ানিবাজারের লাউতা গ্রামে। ওনার নতুন বাড়িতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে প্রবাসীদের জন্যে। বেড়াতে যাবেন, থাকবেন, স্মৃতিভেজা গ্রাম-প্রকৃতিকে দেখবেন। কবি সালেম সুলেরী বলেন, ২০১৭-তে সবটুকু দেখে এসেছি। কামাল ভাই নতুন বাড়িটি দেখে যেতে পারেন নি। আমার কাছে গল্প শুনেছেন, ছবি নিয়ে দেখেছেন। সবার সামনে বলতেন, আপনার চোখ দিয়েই বাড়িটিকে দেখি।

স্মরণসভায় কবি শামসুর রাহমানের কবিতা শোনান মিয়া জাকির। রাহাত খানের জীবনকথা শোনান অধ্যক্ষ আজিজুল হক। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা-কবিতা শোনান মুহম্মদ আলী বাবুল। অনুষ্ঠানে কবিতাপ্রধান গানে প্রশংসা কুড়ান কণ্ঠশিল্পী পাপীমনা। সভায় ‘গেস্ট অব অনার’ মেরী জেবায়দা বলেন, আমি অভিভূত। করোনা’র মুখেও ‘তিনবাংলা’ প্রতিরোধমূলক অনুষ্ঠান করছে। এর প্রতিটি কর্মী-সংগঠক যেন কোভিড- এর সন্মুখযোদ্ধা। প্রবাসের অধিকাংশ কবি-লেখক হয়তো ছন্দ-ব্যাকরণ জানেন না। তিনবাংলা’র কর্মশালা তাই শতভাগ কল্যাণমুখী উদ্যোগ। প্রবাসলেখকদের মান বাড়াতে এমন উদ্যোগের তুলনা নেই। প্রথম আন্তর্জাতিক ‘মাস্ক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা’টিও একটি মাইল ফলক।

অনুষ্ঠান-সভাপতি নার্গিস আহমেদ সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, শুদ্ধতাবাদী সাহিত্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতিতে সবার আগ্রহ বাড়ছে। নিউইয়র্ক তথা প্রবাসের তৃতীয়বাংলাও এখন অগ্রসরমান। করোনাকালের সীমিত আয়োজনকে বহুমাত্রিক বলেন তিনি। করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে ঘোষিত হবে নতুন সাংগঠনিক কমিটি। মাস্ক ব্যবহারসহ সবাইকে সচেতন প্রতিরোধ গড়তে অনুরোধ জানান। সবশেষে তিনবাংলা’র পক্ষে উচ্চারিত হয় করোনাকালের শ্লোগান– ‘হাত ধোয়া মাস্ক পরা সামাজিক ব্যবধান, অতিমারী প্রতিরোধে মেনে চলি ত্রি-বিধান’। নিউজব্যাংক

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV