ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

কাজী সোহাগ: শেষ পর্যন্ত ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন ক্যাটিগরি-২ মানের হওয়ায় তারা এ আপত্তি জানান। এরই মধ্যে তারা জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ যে ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ওই বিমান নামানোর অনুমতি দেয়া যাবে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশনের (ফা) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর শেষে এ আপত্তি জানিয়েছেন। এদিকে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তির বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তারপরও ফা-এর পক্ষ থেকে অনমনীয় মনোভাব জানানো হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেন-দরবারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য আগামীকাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অপর সদস্যরা হলেন- সাবেক বিমানমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এই কমিটির সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল, মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান। সফরে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন খুব শিগগিরই ক্যাটিগরি ১-এ পৌঁছানোর যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। গতকাল মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আশা করি যে জটিলতা তৈরি হয়েছে আমাদের সফরের মধ্য দিয়ে তার সমাধান সম্ভব হবে। এদিকে আগামী মাসেই বিমান বহরে যোগ হতে যাচ্ছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল নতুন প্রজন্মের দু’টি উড়োজাহাজ ৭৭৭-৩০০ ই আর। ওই দু’টি বিমান কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৩০৯ মিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে সরকার ১১৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। এ অবস্থায় উড়োজাহাজ দু’টিকে বসিয়ে রাখলে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হবে। এ ধরনের ব্যয় থেকে রক্ষা পেতেই আগামী মাসে উড়োজাহাজ দু’টি পাওয়ার পর পরই যেন ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালু করার ব্যবস্থা নেয়া যায় সে চেষ্টা করবে প্রতিনিধি দল। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন ক্যাটিগরি ২-তে থাকায় আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন (এফএও) সেখানে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে ইউরোপের আকাশেও বিমান তাদের রুট বাড়াতে পারবে না। গত বছরের শেষের দিকে ইউরোপীয় এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইসা)-র প্রতিনিধি দল সিভিল এভিয়েশন পরিদর্শনে এসে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন (আইকাও)-এর এসএসসি তালিকাতেই রেখে গেছে। ফলে ইউরোপের আকাশও বিমানের জন্য খোলা নেই। সিঙ্গাপুর সিভিল এভিয়েশন বিমানের পুরনো ডিসি-১০ ও এয়ারবাস তাদের আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করেছে। সূত্র মতে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক এ উড়োজাহাজ দু’টি কেনার চুক্তি হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার জানানো হয়- ওই দু’টি উড়োজাহাজ ঢাকা-ম্যানচেস্টার-নিউ ইয়র্ক রুটে চলাচল করবে। তবে তার আগে নিউ ইয়র্কে নামার অনুমতি পেতে হলে আন্তর্জাতিক সংস্থার শর্ত মেনে সিভিল এভিয়েশনকে ক্যাটিগরি-২ থেকে ক্যাটিগরি ১-এ উন্নীত করতে হবে। ক্যাটিগরি ১-এ পৌঁছতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলছে এমনটা বার বারই দাবি করা হলেও শর্ত অনুযায়ী এখনও অনেক কাজ শুরু করা হয়নি। গত ২৮ শে জুলাই অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের আগে এ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এদিকে গতকাল কমিটির বৈঠকে ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালু না হওয়ায় সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন বার বার তাগাদা দেয়ার পরও সিভিল এভিয়েশনকে ক্যাটিগরি-১ উন্নীত করা হচ্ছে না। অনেকদিন ধরে যাত্রীদের ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালুর আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। একাধিকবার ফ্লাইট চালুর সময় নির্ধারণ করেও পিছিয়ে যেতে হয়েছে। এ নিয়ে ওই রুটের যাত্রীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, বোয়িং থেকে ৩০৯ বিলিয়ন ডলার দিয়ে উড়োজাহাজ দু’টি কেনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ঠিকমতো এবং সময়মতো চালাতে না পারলে মোটা অঙ্কের সুদ গুনতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাটিগরি-১ উন্নীত হওয়ার আগেই যেন এ ফ্লাইট চালু করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো। ইতিমধ্যে সেখানে একটি কারিগরি দল সফরে আছে। আমাদের উদ্দেশ্য হবে কারিগরি নয়, রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত আদায় করা।মানবজমিন
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity