Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

কেন একজন জাতীয় সাংবাদিক নয়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 68 বার

প্রকাশিত: October 2, 2011 | 12:39 AM

 

মতিউর রহমান চৌধুরী: ‘বাচ্চোকে বোলাও’ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ঢাকায় নেমে একথা যাঁকে বলতেন তিনি তখনকার একজন তরুণ সাংবাদিক। ‘টেলিভিশন বুঝতে হবে না, আমারে বুঝো তো, তাহলেই চলবো।’
পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন ১০ই জানুয়ারি। পরদিনই প্রেস সেক্রেটারি আমিনুল হক বাদশার মাধ্যমে
ওই তরুণ, তখনকার পরিপক্ব যুবাটির তলব পড়লো।
তোকে বিটিভি’র মহাপরিচালক হতে হবে। রাতারাতি তিনি মহাপরিচালক বনে গেলেন। ক’দিন বাদে বঙ্গবন্ধু বললেন, তোমাকে ডুবন্ত ‘মর্নিং নিউজে’র হাল ধরতে হবে। তিনি তা-ই ধরলেন।
এলো ১৯৭৩। উপরের দু’টি না হয় তাঁর আশৈশবের লালিত স্বপ্নের সিম্ফনির সঙ্গে একতারে বাঁধা ছিল। কিন্তু এবার তাঁর পিলে চমকালো।
বঙ্গবন্ধু বললেন, তোকে এবারে নির্বাচনে দাঁড়াতে হবে। ফেনী থেকে দাঁড়াবি। বিশ্বের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন রেকর্ড। আপাদমস্তক এক সাংবাদিক প্রার্থী হলেন। না, সাফল্য তাঁকে বিমুখ করেনি। হলেন সুনির্বাচিত আইনপ্রণেতা।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর হুমকির মুখে দেশ ছেড়েছিলেন। মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে পালালেন তিনি। প্রথমে কয়েকদিন গিয়ে বিএমডিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক আবু আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেন। ছ’দিন বাদে পাড়ি জমালেন লন্ডনে। অসহায়, গিয়ে উঠলেন বন্ধুবর আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর বাসায়।
’৭৬ সালের শেষাশেষি ফিরলেন মাতৃভূমির টানে। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের অনুরোধে ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে যোগ দিলেন। ওই সময়ে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউনেপ) ব্যাংকক আঞ্চলিক অফিসে রিজিওনাল ডিরেক্টর, ইনফরমেশন পদের জন্য যোগ্য লোক খুঁজছিল। বন্ধু এস এম আলী তখন ম্যানিলায় প্রেস ফাউন্ডেশন এশিয়ার পরিচালক (পরে ‘ডেইলি স্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক)। তাঁর ঐকান্তিকতায় ’৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্যাংককে গিয়ে যোগ দিলেন জাতিসংঘের চাকরিতে। শুধু বেতনই ছিল দুই হাজার ডলার। হেড কোয়ার্টার ছিল কেনিয়ার নাইরোবিতে। ২৩টি দেশ নিয়ে কাজ করতে হতো তাকে। কোরিয়া থেকে ইরান  পর্যন্ত বিস্তৃত এসব দেশের বেশির ভাগই ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র। ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, নাউরু ইত্যাদি চষে বেড়ান তিনি।
এরই মধ্যে একবার ব্যাংককে গেলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর প্রেস এডভাইজার বন্ধু দাউদ খান মজলিশ তাঁকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন তাঁর সঙ্গে। জিয়াউর রহমান তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এখানে কি করছেন। সব শুনে মাথা নেড়ে বললেন, ‘উঁহু, আপনি দেশে চলে আসুন। দেশে আপনার মতো লোকদের দরকার আছে।’
আড়াই বছর পরে জাতিসংঘের চুক্তিটি আর নবায়ন করলেন না তিনি। ওই বছরই প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর ফের দেখা। জিয়াউর রহমান অবাক হলেন। তিনি যে দেশেই আছেন এটা তাঁর এই প্রথম জানা হলো। ক’দিন বাদেই দেখা গেল তিনি প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হয়ে গেছেন। পরে বাসস-এ।
বিটিভি ও মর্নিং নিউজ-এর চাকরি যেভাবে পিআইবি ও বাসস-এর পদায়নও সেভাবে। ব্যবধান শুধু বঙ্গবন্ধু থেকে জিয়াউর রহমান।
ব্যতিক্রম শুধু জেনারেল এরশাদ। তাঁর অনীহা ও চাপে তিনি ১৯৮৭ সালে বাসস থেকে অবসর নেন। এর তিন বছর না যেতেই বাংলাদেশ প্রবেশ করে দুই নেত্রীর শাসনপর্বে। আর তাঁকে দেখা যায় তিনি রাজনীতি থেকে শত হস্ত দূরে। সংসদ নির্বাচন আর কোন দলের পদ-পদবি তাঁকে আর টানেনি। তিনি কার্যত পরিণত কিংবা আপনা-আপনি রূপান্তরিত হলেন এক অবিসংবাদিত কিংমেকারে। রাজনীতি তাঁর কলমে নতুন করে প্রাণ পায়, তাঁর কলম হয়ে ওঠে তুলি। সেই তুলিতে প্রতিদিনই চিত্রিত হচ্ছে বাংলাদেশ।
ষাটের দশকেই মূসার নাম সীমান্ত পেরিয়ে ডানা মেলেছিল আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অঙ্গনে। দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি ছিলেন পরিচিত একটি নাম। বিবিসি, টাইমস, লন্ডন সানডে টাইমস ও দি ইকোনমিস্ট-এর মতো জাঁদরেল গণমাধ্যমে কাজের বিরল সুযোগ ঘটেছিল তাঁর। সেই সুবাদে সানডে টাইমস-এর প্রখ্যাত সম্পাদক (১৯৬৭-৮১) স্যার হ্যারল্ড ম্যাথিউ ইভান্সের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠেছিল। দুজনে প্রায় সমবয়সী। ম্যাথিউ তাঁর চেয়ে বছর তিনেকের জ্যেষ্ঠ। ২০০৪ থেকে ম্যাথিউ গার্ডিয়ান ও বিবিসি’র একজন প্রদায়ক। যুদ্ধের পরে তিনি সানডে টাইমস, লন্ডন টাইমস ছাড়াও বিশ্বখ্যাত নিউ ইয়র্ক টাইমস ও লস অ্যানজেলেস টাইমসের সংবাদদাতা হন। তবে তাঁর সবচেয়ে বেশি আনন্দ ও সুখ-স্মৃতি সানডে টাইমস ও টাইমসকে ঘিরে। আর তার মূল কারণ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের রিপোর্টগুলো জম্পেশ করে ছেপেছিলেন তারা।
পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার প্রতি তিনি নন, সম্পাদক পদই বারংবার তাঁর উপরে আছড়ে পড়ে। ’৯১ সালে নিউজ ডে নামে একটি ইংরেজি দৈনিকে সম্পাদক হিসেবে কাজ করলেন বছরখানেক। এরপর ২০০৪ সালে ভাইয়া গ্রুপের তাগিদে ‘নিত্যদিন’ নামে পত্রিকার ডিক্লারেশনের জন্য আবেদন করলেন তিনি। কিন্তু ‘রাজনৈতিক কারণে’ তিনি বিমুখ হলেন। ক্ষুব্ধতা নিয়ে দোর বন্ধ না করে দোর খোলার লড়াইয়ে যুক্ত হলেন। জয়ী হলেন। প্রেস কাউন্সিল রায় দেন যে, ডিসি অনুমতি না দিলে তাদের রায়ই ধরে নিতে হবে ডিক্লারেশন। এটার একটা মাইলফলক ঘটনা। সংকোচ নিয়েও দীর্ঘ বিরতিতে ২০০৪ সালে ‘যুগান্তরে’র সম্পাদকের দায়িত্ব নেন।
এদেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা চড়াই-উৎরাইয়ের নীরব সাক্ষী তিনি। ১৯৬৫তে তাসখন্দ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান যোগ দেন। কিন্তু তাদের শান্তিচুক্তির পরে ওই দিন রাতেই লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মারা যান। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৩টা। তিনি তখন অবজারভারের বার্তা সম্পাদক। বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। পত্রিকার এক সুপারভাইজার বেতারে খবর শুনে তাঁকে টেলিফোন করেন। ততক্ষণে নগর সংস্করণও ছাপা শেষ। তবু সংবাদের গুরুত্ব বুঝে তিনি অফিসে ছুটে এসে নগর সংস্করণ আবার নতুন করে ছাপলেন। প্রথম পাতায় তাসখন্দ চুক্তির ফিরিস্তি। আলাদা করে ছাপলেন শাস্ত্রীর মৃত্যুর খবর। ঢাকায় দ্বিতীয় নগর সংস্করণ বিলি হলো। ওই সংবাদ সেদিন উপমহাদেশে শুধু অবজারভারই দিতে পেরেছিল। জেনেভার ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট (আইপিআই) এজন্য তাঁকে পুরস্কার দিয়েছিল।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ছাপার ‘অপরাধে’ পাকিস্তান অবজারভার বন্ধ হয়ে যায়। তিনি তখন যোগ দেন সংবাদে। ’৫২ থেকে ’৫৪ সংবাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ ছিলেন। ’৫৪-তে অবজারভার ফের প্রকাশিত হয়। সেখানে ফের সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দিলেন। পরে রিপোর্টারও হন। এবারে পত্রিকার সম্পাদক আবদুস সালাম। তাঁর অন্যতম আইডল। তাঁর হাতেই তিনি ’৫৭-র দিকে বার্তা সম্পাদক হন।
পত্রিকার মেকআপ, গেটআপ বদলে দিতেও তাঁর ভূমিকা অসামান্য। ১৯৬১ সালে কমনওয়েলথ প্রেস ইনস্টিটিউটের বৃত্তি নিয়ে লন্ডনে যান তিনি। সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা করেন অক্সফোর্ডে কুইন এলিজাবেথ হাউসে। ফিরে এসে অবজারভারের চেহারা পাল্টান। অনধিক ছয় হাজার সার্কুলেশনের অবজারভার ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে বিক্রি হতো ১০ হাজার কপি। উল্লেখ্য, আজ স্বাধীন বাংলাদেশেও ইংরেজি দৈনিকের সার্কুলেশন কার্যত তাঁর ক্যারিশমাকে ছাড়িয়ে যায়নি বলা যায়। অবিভক্ত পাকিস্তানের সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিকের রূপকার ছিলেন তিনিই।
একাত্তর সাল পর্যন্ত অবজারভারের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ইউনিয়নবাজিও তিনি কম করেননি। আইয়ুব খানের সঙ্গে পিণ্ডিতে গিয়ে বৈঠক করলেন সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েই। ১৯৬২ সালে প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অধ্যাদেশ নিয়ে ১৭ দিন সমগ্র পাকিস্তানে পত্রিকা বন্ধ ছিল। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের জেনারেল সেক্রেটারি। আমাদের জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম তিনি। শুধু তাই নয়, বিশ্বে মেধাবী সাংবাদিকতার পাশাপাশি একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তাঁর সুনাম আকাশ ছুঁই-ছুঁই। সেটা হয়তো গিনেস বুকের রেকর্ডের সঙ্গে তুল্য। জাতীয় প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে বহুকাল আগে যে রেকর্ড গড়েছেন তা সহজে আর কেউ ভাঙতে পারবেন না। মানিক মিয়া জেলে বসে যখন প্রেসক্লাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেসিডেন্ট হন তখন তিনিও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের সাংবাদিকতার পেলে কিংবা পিসি সরকার। জন্ম তার ১৯৩১ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি। ফেনীর পরশুরাম থানার ধর্মপুর গ্রামে। ওটা ছিল তার নানাবাড়ি। ছেলেবেলার উল্লেখযোগ্য সময় নানাবাড়িতেই কাটিয়েছেন। পিতা আশরাফ আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তবে ঘরের পরিবেশ কিংবা মায়ের অনুপ্রেরণা ১৯ বছরেই সাংবাদিকতায় আসতে তাকে সাহায্য করেছে। আর একাশিতে পা রেখে আজ তিনি তার কলামের স্টাইলের জন্য তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, নিউজের জন্য সৈয়দ নুরুদ্দীন, কলাম লেখার জন্য মতিউর রহমান ও টিভিতে টকশো’র জন্য মতিউর রহমান চৌধুরীকে স্মরণ করেন। তবে প্রবাসী বন্ধু ইভান্স তার বড় আইডল।
দুই নেত্রীর জমানায় তিনি কোন পদ-পদবি নেননি। ওয়ান ইলেভেন নিয়ে তার কলাম-চিত্র প্রমাণ করে দেয় তিনি আমাদের জাতীয় কিংবদন্তি। তিনি আমাদের টানাপড়েন ও দলাদলির পরিবেশে বেড়ে ওঠা এক আশ্চর্য চরিত্র। তিনি অজাতশত্রু। তাই রাজনীতির কোন মহলের কাছেই তিনি চরম বৈরী নন। এমনকি জামায়াতও তাকে লক্ষ্য করে কখনও কটুকাটব্য করেনি।
মাইনাস টু পর্বে তার শুভাকাঙ্ক্ষা আশ্চর্যরূপে স্পর্শ করেছিল তিন পরস্পরবিরোধী প্রধান চরিত্রকে। শেরেবাংলা নগরে বন্দি থাকা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে তার কথা হয়। বেগম জিয়াই তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি তাকে পরামর্শ দেন বিদেশ না যেতে। আর কানাডা প্রবাসী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দেন, শিগগিরই দেশে আসো। তোমার অনুপস্থিতিতে খালি মাঠে বেগম জিয়া তো গোল দিচ্ছে। আর একই সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল মইনকে বলছেন, তোমরা যেন কথার বরখেলাপ না করো।
জেনারেল এরশাদের তিনি সমালোচক। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার মূল্যায়ন- পিতার সমালোচনা সন্তানদের মানায় না। তাই মুজিবের কোন নিন্দা তার কাছে নেই। তবে একদল তথা বাকশাল যিনি করেছিলেন তিনি ছিলেন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী- যার সমালোচনা তিনি করেন। তিনি অকুণ্ঠচিত্তেই অবশ্য বলেন, জিয়ার সমালোচনা তিনি কখনও করেননি। কারণ তিনি মনে করেন জিয়া রাজনীতিক হিসেবে মন্দ ছিলেন। কিন্তু উত্তম প্রশাসক ছিলেন। যথা দায়িত্বে যথা ব্যক্তিকে স্থান দিতে তিনি ভুল করেননি।
তিনি অজাতশত্রু- এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি ভাবতে পারেন যে, তিনি সনাতনী বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
যাই হোক আজ যে কারণে লিখছি তার পেছনে অন্য কোন কারণ নেই। কারণ বলতে পারেন একটিই। আর তা হলো আমাদের জাতীয় কবি, জাতীয় অধ্যাপক আছেন- জাতীয় ফল-ফুল পশু-পাখি, মাছ-গাছও আছে- কিন্তু এটুকুর মধ্যেই আমাদের জাতীয় গৌরব ও অহঙ্কারকে সীমাবদ্ধ রাখা কেন? আমাদের সমাজে বিভিন্ন পেশায় আছেন অনেক কীর্তিধন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁরা জাতির সম্পদ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ- পথপ্রদর্শক। তাদের জীবন ও কর্ম উদ্দীপ্ত করে আমাদের, অনুপ্রাণিত করবে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, চিকিৎসা, ক্রীড়া, সাংবাদিকতা প্রভৃতিকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে যারা জীবনব্যাপী সাধনার মাধ্যমে উন্নীত করেছেন জাতীয় মর্যাদাকে- তাদেরকে সম্মানিত করে আমরা নিজেদেরও পারি সম্মানিত করতে। একজন সাংবাদিক হিসেবে উপলব্ধি করি, এমন একটি সম্মান সাংবাদিক সমাজের বড় প্রয়োজন। এ প্রয়োজন জাতির। জাতীয় কবি, জাতীয় অধ্যাপকের মতো একজন জাতীয় সাংবাদিক তাই করা যাবে না কেন? আর এতক্ষণ যার কথা বলছি তিনি তো এ দেশের সাংবাদিকতার জগতে এক জীবন্ত কিংবদন্তি। গোটা সাংবাদিক সমাজের অভিভাবক। নাম তার এবিএম মূসা। সবার প্রিয় মূসা ভাই।
আজ তিনি চিকিৎসার জন্য দিল্লি যাচ্ছেন। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। অন্য অনেকের সঙ্গে একুশে পদক তিনি পেয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ মনে করে তাকে অধিকতর সম্মানিত করে জাতি হিসেবে নিজেদের আরও সম্মানিত করার সুযোগ এখনও অবারিত।মানবজমিন

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV