যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টে আল জাজিরার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৫০ কোটি ডলারের মানহানি মামলা দায়ের (ভিডিও)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম: যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টে (মিশিগান স্টেট) আল জাজিরার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ মামলা দায়ের করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. রাব্বি আলম বাদী হয়ে আল জাজিরা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় সময় ১লা মার্চ সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ড. রাব্বি আলম জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ফেডারেল কোর্টে আল জাজিরার বিরুদ্ধে ফাইভ হান্ডেড মিলিয়ন ডলার (৫০ কোটি ডলার) এর মানহানি মামলা করা হয়েছে। ফেডারেল কোর্ট আল জাজিরা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। এই মামলার মূল পাঁচ আসামি ছাড়াও এর সঙ্গে জড়িতদের প্রমাণ করতে হবে, তাদের দেয়া পত্রটি মিথ্যা নয় সত্য।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাঈন উদ্দিন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. রাব্বি আলম, উপদেষ্টা হিন্দাল কাদের বাপ্পা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা কৃর্তক “অল দ্য প্রাইমমিনিষ্টার ম্যান” শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রমাণ্যচিত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকার এবং সেনাবাহিনীকে ঘিরে যে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবমাননাকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. রাব্বি আলম বাদী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টে (মিশিগান রাজ্য) আল জাজিরা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মহামান্য আদালতে গৃহীত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এটা কাঙ্খিত যে, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে সংবাদ প্রচার করবে। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে আল জাজিরা যা প্রচার করছে তা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ ও যথাযথ প্রমাণ ভিত্তিক হওয়া বাঞ্চনীয়। কিন্তু আল জাজিরার প্রচারিত তথ্যচিত্রে কতিপয় ব্যক্তির বক্তব্য প্রমাণ ব্যতিরেকে ‘মিউজিক ও স্পেশাল এফেক্ট’ ব্যবহার করে উপস্থাপন করা হয়। যা সংবাদ মাধ্যমটির ষড়যন্ত্রের যোগসূত্রতার প্রমাণ মিলে। এই প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস হিসেবে যাদের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অনেক দিন ধরেই আল জাজিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে। শুধু তাই নয় ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রগতিশীল ধর্ম নিরপেক্ষ নীতির বিরোধিতা করে আসছে। যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে অবস্থান পরিস্কার করে।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় যে, আল জাজিরার প্রকাশিত “অল দ্য প্রাইম মিনিষ্টার ম্যান” শীষক প্রতিবেদন চিত্রে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সন্ত্রাসী মদদপুষ্ট উগ্রপন্থি এবং তাদের সহযোগীদের উস্কাানীমূলক নোংরা ষড়যন্ত্রের নি¤œমানের অপপ্রচার। তাই বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ তা ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করে।
আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও নানান উদ্ভট ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বময় যে সুনাম ও মর্যাদা রয়েছে তা ক্ষুন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্রের অভিলাষ। যার ফলেই বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের এক বিবৃতিতে কঠোর ভাবে এর নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এটা পরিস্কার না; যাদের পূর্বে অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে তাদের সঙ্গে কিভাবে আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেল যুক্ত হলো। এটা একটা মৌলিক প্রশ্ন।
আল জাজিরা টেলিভিশন কর্তৃক মিথ্যা ও তথ্যপ্রমাণবিহীন নি¤œমান সম্পন্ন এই ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার ও তাদের ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যানের রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রতিফলন। কারণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযোদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা এবং সরকারী মৃত্যুর সংখ্যা চ্যালেঞ্জ করায় ডেভিড বার্গম্যানকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত করে। এটি লক্ষ করা যায় যে, আল জাজিরার অভিযোগের মূল উৎস হলো আল জাজিরা নিজেই তাকে সাইকোপ্যাথ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই মানসিকভাবে অস্থির একজন লোকের কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া একটি আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেলের জন্য বড় ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, জামায়াতে ইসলামীর মদদপুষ্ট কতিপয় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধী এবং কুখ্যাত ব্যক্তি তাদের চিরাচরিত ছকে যে ধরনের বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার চালায় এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিও সেই শ্রেণীর। এরা বিভিন্ন উগ্রপন্থী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও সংবাদ মাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাই মিথ্যা ও ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রচা করে গণতান্ত্রিক বিশ্বে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে আল জাজিরা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, এশিয়ার রাইজিং টাইগার। এই করোনা যুগেও ৭.২ জিডিপি ধরে রাখা এশিয়ার আর কোন দেশে সম্ভব হয়নি। একটার পর একটা মেঘা প্রজেষ্ট বাস্তবায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো সৎ, সাহসী, দেশপ্রেমী, নিরলস রাজনৈতিক নেতা বিশ্ব রাজনীতিতে এখন বিরল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের পৃষ্টপোষক ও পক্ষপাতদুষ্ট আল জাজিরার কাল্পনিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণই মিথ্যা ও বানোয়াট এবং অগ্রহণযোগ্য। আজকের এই সংবাদিক সম্মেলন থেকে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। আল-জাজিরার উচিত বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও সঠিক সংবাদ ভিত্তিক সঠিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এহেন ষড়যন্ত্রে এবং অপরাধ কর্মের সঙ্গে যুক্ত সকল অপরাধীকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের মহামান্য ফেডারেল আদালতের কাছে প্রার্থনা রইল।
সংবাদ সম্মেলনে ড. রাব্বি আলম জানান, তিনি ছাড়াও মামলার অন্যান্য বাদীদের মধ্যে রয়েছেন শেরে আলম, রিজভী আলম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু কমিশন্স নামের সংগঠন।
মামলার বিবাদীরা হলো আল-জাজিরা ইংলিশ, দেশত্যাগী সাংবাদিক কনক সারোয়ার, ইলিয়াস হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জুলকার নাইন সায়ের, ডেভিড বার্গম্যান ও আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক।
মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা যোগসাজশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই তৎপরতা বিদ্বেষপ্রসূত। এর মধ্যে দিয়ে বাদীর ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে, উল্লেখ করে তথ্যচিত্রটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য আদালতের আদেশ কামনা করা হয়েছে। এ ছাড়া মানসিক ক্ষতির দায় হিসেবে বিবাদীদের কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আদায়ের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা চলছে। যারা বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে, তাদেরকে প্রতিহত করার সব ধরনের প্রস্তুুতি চলছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসীদের স্ব স্ব জায়গা থেকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








