Sunday, 7 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

হজ্বের ধারাবাহিক কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 104 বার

প্রকাশিত: October 5, 2011 | 12:56 PM

Details

মাওলানা মুফাজ্জল হুসাইন খান : রাসূলুল্লাহ (স.) মানাসিকে হজ্ব বা   হজ্বের হুকুম আহকাম শরীয়ত সম্মতভাবে আদায় করার উদ্দেশ্যে হাদীস শরীফে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘‘তোমাদের হজ্ব কর্মসূচি আমার হজ্ব কর্মসূচি হতে গ্রহণ কর’’। (মুসলিম) এ হাদীস হতে প্রমাণিত হয় যে মানাসিকে হজ্ব তথা হজ্ব কর্মসূচি হচ্ছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিশেষ কর্মসূচি। সুতরাং হাদীসখানার নিরিখে একজন ব্যক্তি যাতে করে প্রকৃত সুন্নতে নববী অনুসরণ করে ‘মানাসিকে হজ্ব’ আদায় করতে পারে সে জন্য সংক্ষিপ্তাকারে ধারাবাহিক হজ্ব কার্যক্রম উপস্থাপন করা হল।

বাড়ি হতে জেদ্দা:হজ্ব অফিস হতে পূর্বাহ্নে দেয়া তারিখ ও সময়মত ঢাকার আশকোনাস্থ হজ্ব ক্যাম্পে রিপোর্টিং। রিপোটির্ংয়ের সময় ইতোপূর্বে হজ্ব অফিস প্রদত্ত ‘অনুমতিপত্র’ এবং ‘স্বাস্থ্যসনদপত্র’ সংগে রাখতে হবে। ক্যাম্পে এসেই প্রথমে লাইনে দাঁড়াতে হবে মেডিক্যাল কাউন্টারে। তারপর মূল রিপোটির্ং কাউন্টারে দাঁড়িয়ে এখানকার করণীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এরপর স্কাউট বা হজ্ব স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ডর্মেটরীতে নিজ নিজ আবাসন গ্রহণ করতে হবে। এরপর জেদ্দার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটের একদিন আগে নির্ধারিত সময়ে হজ্ব ক্যাম্পে এসে প্রথমে বিমান কাউন্টার হতে বিমান টিকিট ও ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর হজ্বের উদ্দেশ্যে জেদ্দা রওয়ানা হওয়ার জন্য বিমান প্রদত্ত তারিখে ও সময়ে কাস্টম ও ইমিগ্রেশন করানোর জন্য হজ্ব ক্যাম্পের চেক-ইন কাউন্টারে নিজ নিজ মাল সামানা নিয়ে হাজির হতে হবে।

জেদ্দা হতে মক্কা মুকাররমা:জেদ্দায় বিমান হতে নেমেই প্রথমে ইমিগ্রেশন কাউন্টার এরপর কাস্টম কাউন্টারের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন। অতঃপর কনভেয়ার বেল্ট হতে মাল সামানা সনাক্ত করে লোডারদেরকে তা বুঝিয়ে দিয়ে বিমান বন্দরে ‘বাংলাদেশী হাজীদের বেষ্টনী লাউঞ্জে’ গিয়ে আবার লোডারদের কাছে থেকে স্ব-স্ব মাল সামানা পুনরায় বুঝে নেয়া এবং মক্কা যাওয়ার নির্ধারিত বাসে মাল সামানা তোলা হল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া। এরপর যারা প্রথমেই মক্কা যাবেন তাদের বাস মক্কানগরীর উপকণ্ঠে মুআল্লিমদের মুয়াসসা অফিসে সামান্য বিরতি দিয়ে সবাইকে বাসে বসিয়েই নাস্তা পান করানো হয়। অতঃপর বাস সরাসরি হজ্বযাত্রীগণকে তাদের জন্য নির্ধারিত বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ যোগ্য যে, জেদ্দা হতে মক্কার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার পরই বাসের ড্রাইভার হজ্বযাত্রীদের পাসপোর্ট নিয়ে যায় এবং তা মুয়াল্লিম অফিসে জমা দেয়। হজ্ব পালন শেষে দেশে ফেরার সময় জেদ্দা বিমান বন্দরে এসে পাসপোর্টগুলো ফেরত পাওয়া যায়। অবশ্য মধ্যবর্তী সময়ে মক্কা, মদিনা ও মিনা, মুযদালেফা আরাফায় চলাচলের জন্য মুয়াল্লিম অফিস হতে হজ্বযাত্রীগণকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়। মক্কা পৌঁছার পর তামাত্তু হজ্বযাত্রীগণের প্রথম কাজ হল ওমরা আদায় করে হালাল হওয়া এবং হজ্বের মূল কাজ শুরু হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত নফল ওমরা করার পরিবর্তে ‘হালাল’ থেকে বেশি বেশি তাওয়াফে বায়তুল্লাহসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত করা।

মূল হজ্বকর্ম বা মানাসিকুল হজ্ব:সাত যিলহজ্ব রাতে অথবা আট যিলহজ্ব সকালে মক্কায় অবস্থানরত প্রত্যেক হজ্বযাত্রী নিজ আবাসস্থল হতে ইহরাম বেঁধে লাব্বায়েকা হাজ্জান হাদীসের ভাষায় নিয়ত করে মুয়াল্লিমের বাসযোগে মীনা রওয়ানা হবেন। মনে রাখতে হবে নিয়তসহ এই ইহরাম বাঁধা হজ্বের প্রথম ফরজ। যা আদায় না করলে হজ্ব শুদ্ধ হবে না। অবশ্য এর ২-৩ দিন আগেই গাইডের মাধ্যমে মুয়াল্লিম অফিস হতে মিনা যাওয়ার বাস ও তাঁবু নম্বর দিয়ে দেয়া হয়। হজ্বযাত্রীগণ খেয়াল রাখবেন যেন মিনা আরাফায় যাওয়ার সময় ‘হালকা মাল সামানা’ সংগে নেয়া হয় অন্যথায় সেখানে প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে চলাচলে কষ্ট হবে। এরপর আট যিলহজ্ব রাতে অথবা নয় যিলহজ্ব সকালে মুয়াল্লিমের বাসযোগে হজ্বযাত্রীগণ আরাফায় যাবেন এবং নির্ধারিত  তাঁবুতে অবস্থান  নিবেন। নয় যিলহজ্ব আরাফায়  যোহরের এবং  আসরের নামাজ যদি মসজিদে নামিরায় আদায় সম্ভব না হয় তবে নিজ নিজ তাঁবুতেই এক আযান ও দুই একামতে যোহর ও আসরের কসরের সাথে আদায় করা বাঞ্ছনীয়। কেননা মানাসিকে হজ্ব একটি ব্যতিক্রমধর্মী ইবাদত হিসাবে নবী করিম (স.) এভাবেই নিজে আদায় করেছেন এবং তার উম্মতকে করতে বলেছেন। (মুসলিম হাদীস নং ১২১৮, বুখারী হাদীস নং ১৬৬২, এলাউসসুনান ৭ম খন্ড) এরপর খাওয়া দাওয়া ও দুপুরের বিশ্রাম সেরে হজ্বের ২য় ফরজ অকূফে আরাফা বা আরাফায় অবস্থান করতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে হজ্ব মানেই অকূফে আরাফা (আবু দাউদ) এ জন্য ময়দানে আরাফার সীমানার মধ্যে কোন সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করে কায়মনো বাক্যে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে গোনাহ মাফ চাওয়াই অকূফে আরাফার মূল লক্ষ্য। এমনিভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত অকূফে আরাফা সম্পন্ন করে মাগরিবের নামায আরাফায় আদায় না করে সন্ধ্যার পর মুয়াল্লিমের বাসে অথবা অন্য কোন উপায়ে  মুযদালিফায় রওয়ানা হতে হবে। মুযদালিফা পৌঁছে অযু ইস্তেঞ্জা সেরে প্রথমে মাগরীব ও এশার নামায (কসরের) এক সাথে আদায় করে এরপর বেতেরের নামাযও আদায় করতে হবে। অতঃপর খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। কেন না হাদীস শরীফে এসেছে নবী করীম (স.) তাই করেছেন (মুসলিম)। এরপর আউয়াল ফজরে ঘুম হতে জেগে ফজরের নামায আদায় শেষে হজ্বের ১ম ওয়াজিব অকূফে মুযদালিফা বা মুযদালিফায় খানিকক্ষণ অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে যাবতীয় গুনাহ মাফ চাইতে হবে। অতঃপর সূর্যোদয়ের পূর্বেই মিনার উদ্দেশ্যে মুযদালিফা হতে রওয়ানা হতে হবে। অবশ্য জামারাতে নিক্ষেপের জন্য মুযদালিফা হতে ৭০টি নুড়ি পাথর সংগ্রহ করা বাঞ্ছনীয়। মুযদালিফা হতে মিনায় পৌঁছার পর হজ্বের দ্বিতীয় ওয়াজিব বড় জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করে এসে প্রযোজ্য ব্যক্তিদের কুরবানী সমাপনান্তে হজ্বের তৃতীয় ওয়াজিব মাথার চুল মুন্ডন বা ছোট করার মাধ্যমে হজ্বের ইহরাম খুলে সাধারণ পোশাক পরিধান করতে হবে। অতঃপর ঐদিন বিকালে বা রাতে অথবা ১২ যিলহজ্বের মধ্যে যেকোন সময়ে মক্কায় এসে হজ্বের তৃতীয় ফরজ তাওয়াফে ইফাদা বা তাওয়াফে জিয়ারত করতে হবে এবং সেই সাথে হজ্বের ৪র্থ ওয়াজিব সায়ী করে আবার মিনায় ফিরে যেতে হবে। কেননা ১১ ও ১২ যিলহজ্ব বা প্রয়োজনে ১৩ যিলহজ্ব দুপুরের পরে তিনটি জামারাতে ওয়াজিব হিসাবে পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। এমনিভাবে মিনা আরাফা মুযদালিফা মিনার কাজ সেরে মক্কায় এসে সেখান থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে হজ্বের ৫ম ওয়াজিব বিদায়ী তাওয়াফ করতে হয় যার পরে কোন সায়ী করতে হয় না। অবশ্য যারা হজ্বের পূর্বে জেয়ারতে মদীনা সম্পাদন করতে না পারেন তারা বিদায়ী তাওয়াফের পর মসজিদে নববীতে নামায আদায় ও নবী করীম (স.)-এর রওজা জেয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা মুনাওয়ারায় যাবেন এবং সেখান থেকে সরাসরি জেদ্দা হয়ে দেশে ফিরবেন ইনশাআল্লাহ।ইত্তেফাক

 (সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV