Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

বিশ্বখ্যাত বাঙালী ধ্যানসাধক শ্রী চিন্ময় কে নিয়ে তথ্যচিত্র বানালেন দিমা নেফারতিতি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 43 বার

প্রকাশিত: April 5, 2021 | 1:58 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক: জাতিসংঘে পিস মেডিটেশন এর নেতৃত্বদানকারী বিশ্বখ্যাত বাঙালি ধ্যানসাধক শ্রী চিন্ময় কুমার ঘোষ এর জীবনদর্শন এবং কাজ নিয়ে তথ্যচিত্র বানালেন সংবাদ উপস্থাপিকা, টিভি সাংবাদিক এবং লেখক দিমা নেফারতিতি। দিমা জানান, এটি তার নির্মিত চতুর্থ তথ্যচিত্র। ২০০২ সাল থেকে টিভি উপস্থাপনা, সাংবাদিকতার পাশাপাশি তথ্যচিত্র নির্মাণ করে আসছেন দিমা। এর আগে বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন দিমা। তবে “ধ্যানগুরু শ্রী চিন্ময় এর জীবন এবং কর্ম” নামে তথ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বানানো দিমা নেফারতিতির প্রথম তথ্যচিত্র। বিশ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে প্রাঞ্জলভাবে উঠে এসেছে এই বিশ্বখ্যাত বাঙালী ধ্যান সাধক ও শান্তি দূত এর জীবনালেখ্য, সৃষ্টিশীলতা এবং মানব কল্যানে তাঁর অবদান। দিমা জানান, এই তথ্যচিত্রটি বাংলা এবং ইংরেজি দুটি ভাষাতে নির্মাণ করেছেন তিনি। এই প্রকল্পে দিমাকে সহযোগিত করেছে নিউ ইয়র্ক এ শ্রী চিন্ময় সেন্টার হেড কোয়ার্টার কতৃপক্ষ। উল্লেখ্য তথ্যচিত্রটি ক্যালিফোর্নিয়া বাংলা টিভি, টিভি এশিয়া, আই টিভিসহ বেশ কটি ভারতীয় এবং বাংলাদেশী টেলিভিশনে প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যচিত্রটি দিমা নেফারতিতি’র ইউ টিউব চ্যানেল এবং শ্রী চিন্ময় সেন্টারের ওয়েবসাইটে পাওয়া দেখা যাবে।বাংলাদেশে একুশের বইমেলায় শ্রী চিন্ময় সেন্টারের স্টলে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বাঙালির মানবিকতা, শ্রদ্ধা,ভালবাসা ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক মূর্ত প্রতীক শ্রী চিন্ময়। প্রতিটি মানুষের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা, তাকে জাগ্রত করে সমস্ত মানবতার কল্যানে তা নিয়োজিত করাই ছিল তাঁর সাধনা। তাই তিনি বিশ্বের অগণিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। নয়টি অলিম্পিক সোনা বিজয়ী কার্ল লুইস তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত। মোহাম্মদ আলী ক্লে বিশ্ব শিরোপা জয়ের পরদিন নিউ ইয়র্ক টাইমসে আলী ও শ্রী চিন্ময়ের ছবি একসাথে প্রকাশিত হয়। তাঁর ছাত্র/ছাত্রীদের অনেকেই ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী, এদের মধ্যে ৫৯ বছর বয়সে চ্যানেল বিজয়ী নারীও রয়েছেন।  শ্রী চিন্ময়ের জীবন ছিল সীমাহীন সৃজনশীলতার এক মূর্ত প্রতীক। সংগীত, কাব্য, চিত্রকলা, সাহিত্য এবং ক্রীড়ার মত জ্ঞ্যান ও কর্মের বিস্তৃত সব ক্ষেত্রে তিনি বিপুল সৃষ্টির সাক্ষর রেখে গেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে সুদূর প্রসারী ও বিস্ময়কার সব কীর্তি। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শ্রী চিন্ময় মানুষের অসীম সৃজনী শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। সৃজনশীলতার তিনি নিজেই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি হাজার হাজার বাঙলা ও ইংরেজী গান রচনা করেছেন। প্রায় এক হাজার ছয়শ বই লিখেছেন। হাজার হাজার ছবি এঁকেছেন। ঝর্ণাকলা নামে খ্যাত তাঁর চিত্রশিল্পে রয়েছে বহু বর্ণিল ও নানা চিন্তার সমাহার। শ্রী চিন্ময়ের মতে জীবনের সুগভীর ও উচ্চ আদর্শের জন্যে হৃদয়ের আকুতিই হচ্ছে যেকোন ক্ষেত্রে – ধর্ম, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ইত্যাদিতে অগ্রসর হওয়ার আধ্যাত্মিক শক্তি। ক্রীড়ার ক্ষেত্রে তিনি এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। ছিয়াত্তর বছর বয়সে থাইল্যান্ডে তিনি পর পর সাতটি হাতি উত্তোলন করে সবাইকে বিস্মিত করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ম্যারাথন টিম বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দৌড় ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। ‘ওয়ার্ল্ড হারমনি রান’ প্রতিবছর বিশ্বের শতাধিক দেশের মানুষকে মিলিত করে।

শ্রী চিন্ময় বাংলাদেশের  চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা গ্রামে ১৯৩১ সালে জন্ম গ্রহন করেন। বার বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মা বাবাকে হারানোর পরে শ্রী চিন্ময় দক্ষিন ভারতের পন্ডিচেরির শ্রী অরবিন্দের আশ্রমে যোগ দেন এবং এখানে আধ্যাত্মিক সাধনায় তিনি জীবনের পরবর্তী ২০ বছর কাটান ।শ্রী চিন্ময় কৈশোরেই মেডিটেশনের ক্ষেত্রে সুগভীর কিছু আত্মিক অনুভুতি পান এবং পরবর্তী কালে ধ্যানের সর্বোচ্চ অনুভুতিও তিনি লাভ করেন। পাশ্চাত্যের অকৃত্তিম সাধকদের সাথে তাঁর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ভাগ করার জন্যে তিনি ১৯৬৪ সালে নিউইয়র্কে পাড়ি দেন।

শ্রী চিন্ময় ১৯৭০ সাল থেকে ২০০৭ এ পরলোক গমনের আগে পর্যন্ত জাতিসংঘের সদর দফতরে পীস মেডিটেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।শ্রী চিন্ময়ের আদর্শ, স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে ভালবাসা। মা যেমন বাচ্চার কান্না শুনে আকুল হয়ে ছুটে আসে তেমনি শ্রী চিন্ময় যেখানেই আর্ত মানবতার ক্রন্দন শুনেছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ান্নেস-হার্ট-টিয়ার্স এন্ড স্মাইল’ সংগঠনটি বিশ্বের ১৫০টির ও বেশি দেশে যথাসাধ্য খাদ্য দ্রব্য, ঔষধ, ও শিক্ষা সামগ্রী পাঠিয়ে তাঁর বাঙ্গালী হৃদয়ের সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছেন। যেমন কলকাতার মাদার তেরেসার মিশনারিতে বা মস্কোতে মিখাইল গর্বাচেভের শিশুদের ব্লাড কেন্সার চিকিৎসা কেন্দ্রে, এঙ্গোলার ক্ষুধার্ত শিশুদের ও বাংলাদেশের বন্যাপীড়িত মানুষদের তিনি সাধ্যমত সাহায্য পাঠিয়েছেন।বিশ্বের দেশে দেশে,জাতিতে জাতিতে শান্তি, মৈত্রী ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি বিশ্বময় প্রায় ৮০০ একক কনসার্টের আয়োজন করেছেন। সবই দর্শকদের জন্যে বিনামূল্যে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের দীর্ঘতম তিন হাজার একশত মাইল দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগিরা প্রতিদিন আশি থেকে একশত মাইল দৌড়ায়-টানা ৫১ দিন, ভোর ছয়টা থেকে রাত বারটা পর্যন্ত। তাঁর ছাত্র ও অনুসারিদের সাথে মিলিত হতে, বিশ্বের ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বিশ্বশান্তি ও আধ্যাত্মিক আলোচনার জন্যে ও সংগীতের কন্সার্ট, বক্তৃতা, সার্বজনীন ধ্যান সভা করার জন্যে শ্রী চিন্ময় প্রায়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতেন। শ্রী চিন্ময় কখনোই তাঁর আধ্যাত্মিক বক্তব্য, সংগীত কনসার্ট বা ধ্যান সভার জন্য অর্থ গ্রহন করেন নি।

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV