সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বমুখ রোকেয়া হায়দার: সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকেও নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়
রিয়াজ হায়দার চৌধুরী: সংবাদ পত্রে চট্টগ্রামে নারীর পেশাদার কর্ম যাত্রা শুরুরও প্রায় দেড় যুগ আগেই বেতারে তাঁর শুরু। ১৯৬৮ সালের কথা। চট্টগ্রাম বেতারের নিয়মিত অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন রোকেয়া হায়দার। তখনো পুরোটা সংবাদ মাধ্যমে চট্টগ্রামে নারীর আগমনী ধ্বনি তেমন শোনাই যায় নি।
বেতার ও টেলিভিশনে ১৯৭৪ সালেই পুরোদস্তুর পেশাদারী যাত্রা তাঁর। তখন থেকেই নিয়মিত খবর পড়া শুরু করেন। সেই যে যাত্রা শুরু। আর পেছন ফিরে যেতে হয় নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ১৯৮১ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যান। শুরু হয় নতুন আরেকটি যাত্রাপথ। ভিওএ’র বাংলা বিভাগে তিনিই প্রথম নারী।
২০১১ সাল থেকে বাংলা বিভাগটির প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি পান। টানা ৪০ বছর পর এই প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নিলেন বেতার-মাল্টিমিডিয়ার এই নন্দিত মুখ।

ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগকে গত চার দশক মাতিয়েই রাখেন রোকেয়া হায়দার। সংবাদ মাধ্যমের এই জনপ্রিয় বিশ্বমুখ তাঁর বর্ণাঢ্য এই কর্মকালে বিশ্বজোড়া অগুনতি মানুষের জন্য দিয়ে গেছেন নিজের মেধা, শ্রম। এই নারী সাংবাদিক নিজের কর্ম গুণের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন সততা নিষ্ঠা ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করা সম্ভব।
নিজেকে শুধু নন, সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে রোকেয়া হায়দার বাংলাদেশকেও নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তথাকথিত নারীবাদী মানসিকতায় নিজেকে নিজের শেখর বিচ্ছিন্ন করে আমূল বদলে ফেলার অসুস্থ-অপকান্ডে নয়, চিরায়ত বাঙালী রূপের শাড়িতে নারী যে সাংবাদিকতার মত চ্যালেঞ্জিং পেশায় বিশ্বজয় করতে পারেন, তার প্রোজ্জ্বল উদাহরণ রোকেয়া হায়দার।
পেশাদারী সাংবাদিকতায় বিশ্বজুড়ে যেখানে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতায, সেখানে ৪০ বছর আগে থেকেই তাঁর যে কর্মপথ, তা নিঃসন্দেহেই সহজ ছিল না। প্রতিকূলতায় কখনোয় দমে যাননি তিনি। আত্মবিশ্বাস তাঁর প্রবল। অনন্য তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও পেশার প্রতি দায়িত্বশীলতা। এসবই তাঁর সফলতার মুলমন্ত্র।
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, বিপ্লবী মেহেরুল্লাহ মুন্সীর জন্মস্হান ভৈরবতট যশোরের মেয়ে রোকেয়া হায়দার। বাবার কর্মসূত্রে কলকাতায় জন্ম। সেখানে সেন্ট জোনস বিদ্যালয়, পরবর্তীতে ঢাকায় ইডেন কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। বাবা আবুবকর ফারাজী ও মা মেহেরুন্নেসার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বড় বোন সুফিয়া আমিনও ছিলেন প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী ।
ব্রডকাস্ট জার্নালিজম এর এই কিংবদন্তী অসামান্য পেশাগত সাফল্যের জন্য পেয়েছেন আমেরিকার সম্মানজনক ‘অল স্টার অ্যাওয়ার্ড’। পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার। সবচেয়ে বড় পুরস্কার তাঁর পাওয়া অগুনতি শ্রোতা মন। হাজার, লক্ষ, কোটি মানুষের মনে ঠাঁই পাওয়া তাঁর কণ্ঠস্বর।
ফেলে আসা সুবর্ণকালের জন্য রোকেয়া হায়দারকে অভিবাদন, কৃতজ্ঞতা।
-রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সহ সভাপতি, বিএফইউজে, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সিন্ডিকেট সদস্য, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








