বিদেশে উচ্চ শিক্ষার নামে প্রতারণা বাংলাদেশে,স্টুডেন্ট ভিসা সেন্টারগুলোকে নীতিমালায় আনার সুপারিশ
জামিউল আহসান সিপু :কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সাইপ্রাস, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থী পাঠানোর নামে একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। রাজধানীতে এরকম বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শিক্ষার্থীদের নানা স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাঁদে ফেলে। অনেক প্রতিষ্ঠান টাকা-পয়সা নিয়ে গা-ঢাকা দেয়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও প্রতারিত শিক্ষার্থীরা মাসের পর মাস ঘুরেও বিদেশ যাওয়ার জন্য দেয়া টাকা ফেরত পায় না। উল্টো কেউ কেউ থানায় মামলা করার পর আরো হয়রানির শিকার হয়েছেন।
পুলিশ সদর দফতরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ঐসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করার পর উধাও হয়ে যায়। শুধু একটি ব্যবসায়িক লাইসেন্স (ট্রেড) নিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। ফলে ঐসব প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ জানান, উচ্চ শিক্ষায় বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানোর জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সেন্টারগুলোকে একটি নীতিমালায় আনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে ছাত্র পাঠানোর প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ফরেন এডমিশন এ্যান্ড কেরিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফএসিডিক্যাব)। এই সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নাজমুল হক জামালী জানান, কিছু ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় পাঠানো স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে স্টুডেন্ট ভিসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নীতিমালায় আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতারণা করে সে ক্ষেত্রে ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের জামানত দিলেই চলবে না। এতে করে পেশী শক্তি বা কালো টাকাধারী ব্যক্তিরা এই ব্যবসায় চলে আসতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরো বাড়বে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব প্রতিষ্ঠান দায়বদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
পুলিশ ও র্যাব সদর দফতরের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ১০ বছরে রাজধানীতে স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, ফকিরাপুল, ফার্মগেট ও কাকরাইল কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি। এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। প্রতারিত বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। উচ্চ শিক্ষার সেখানেই ইতি ঘটেছে।
র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক কমান্ডার হাজী মোহাম্মদ সোহায়েল জানান, স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে কোনো শিক্ষার্থী প্রতারিত হলে থানায় আর্থিক প্রতারণার মামলা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হলেও কোনো নীতিমালা না থাকায় আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে তারা বের হয়ে যাচ্ছেন।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি ছাত্র প্রতারণা বাণিজ্য ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে একটি সুপারিশমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, স্টুডেন্ট ভিসা সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ওভারসীজ এডুকেশন কাউন্সিলিং ফার্ম স্থাপন, সঠিক তথ্য আড়াল করে মনগড়া তথ্য দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে আইএলটিএস, টোফেল ছাড়া ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দিবে এমন প্রলোভন দেখায়; কিন্তু পরবর্তী সময়ে আইএলটিএস, টোফেলের স্কোরের শর্ত আরোপ করে ছাত্রদের হয়রানি করে। অনেক সময় বিদেশি কোনো ইউনিভার্সিটির অফার লেটার নকল করে নিজেরাই কম্পিউটার স্ক্যানিং করে তা তৈরি করে। এই ভুয়া অফার লেটার দেখিয়ে প্রতারিত করে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে। সাধারণত গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল শিক্ষার্থীদের প্রতিই ভিসা সেন্টারগুলোর বেশি আগ্রহ থাকে। এর বাইরে কখনো কখনো টিউশন ফি-র নামে বা ভর্তি ও ভিসার নিশ্চয়তা দিয়ে প্যাকেজের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালায় আনতে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মাধ্যমে ‘ফরেন স্টাডি লাইসেন্স’ ইস্যু করা। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে এনওসি (ছাড়পত্র) গ্রহণ বাধ্যতামূলক করারও সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের বিপরীতে মোটা অংকের জামানত থাকবে যা থেকে প্রতারিত শিক্ষার্থী প্রতারণার অর্থ ফেরত পেতে পারেন। জনশক্তি ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া কোনো বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশ করা যাবে না। টিউশন ফি সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের বিপরীতে শুধু ব্যাংক একাউন্টে জমাদানের ব্যবস্থা করা। সার্ভিস চার্জ ছাড়া কোনো ক্রমেই নগদ টাকায় লেনদেন না করা। এসব প্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে স্থানীয় থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা করা এবং প্রতি ৬ মাস পর প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পেশ করা।
গত বছর রাজধানীর পুরানা পল্টনের সুরমা টাওয়ারে অবস্থিত ইউনাইটেড ফরেন এডমিশন নামে একটি স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১শ শিক্ষার্থীকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে প্রায় কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাহবুব হোসাইন মামুন টাকা লুটে সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমিয়েছেন। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া শুরু হয়।
এধরনের প্রতারণার ব্যাপারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অব ইমেরিটাস ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্টুডেন্ট ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ শিক্ষার নামে বাণিজ্য ও প্রতারণা করছে। তবে সব প্রতিষ্ঠান নয়। এ জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনা প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলে প্রতারণার ঘটনা কমে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








