Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
সব ক্যাটাগরি

দেশের পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য আজকের প্রজন্মকে সময়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 111 বার

প্রকাশিত: June 7, 2021 | 1:29 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ বীরপ্রতীক বলেছেন, আমরা আমাদের সময়ের কাজ করেছি। বাংলাদেশের জন্য স্বাধীন পতাকা অর্জন করেছি। সবাই দেশের এ পতাকাকে সমুন্নত রাখার জন্য সময়ের কাজটি করে যেতে হবে। সাংবাদিক, লেখকরা তাদের কাজ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সমাজ সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

৫ জুন শনিবার ভার্জিনিয়ার জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির এক মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতার জন্য খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেছেন।  
ফেয়ারফ্যাক্স নগরীর ইউনিভার্সিটি ড্রাইভের মিলনায়তনে সমাগম ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্বাঞ্চলে বসবাসরত বেশকিছু লেখক সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজনদের। আলোচনায় তাঁরা বলেন, চলমান সময়কে লেখকরা ধরে রাখেন। চলমান ঘটনার বিবরণ যেমন সংবাদ হয়ে উঠে। তেমনি ভাবনার জগতে মানুষের বোধ ও বোধিকে নিজেদের ভাবানায় সংক্রমিত করতে পারেন একজন লেখক। আন্দোলিত করতে পারেন সময় ও পরিবেশকে। এ কাজে দক্ষ লেখক সাংবাদিকদের কাছে প্রত্যাশাও বাড়ে। এ প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়েই একজন লেখক দায়বদ্ধ হয়ে উঠেন তাঁর সময়ের কাছে।  
নিউইয়র্কে বাংলা সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন এমন একদল লেখক সাংবাদিক দুই দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, ম্যারিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়া সফর করেন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে নানা ঐতিহাসিক এবং বৈশিষ্ট্যময় স্থাপনা ঘুরে দেখেন। আমেরিকার চলমান নাগরিক আন্দোলনের লোকজনের সাথে সংহতি জানিয়ে তাঁরা সমাবেশ করেন হোয়াইট হাউস সংলগ্ন এলাকায়। মার্কিন রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ন জনপদ ঘুরে দেখেন তাঁরা।

ওয়াশিংটন ম্যাট্রো এলাকায় বসবাসরত সাহিত্য সংস্কৃতিসেবীদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লেখক সাংবাদিক ইব্রাহীম চৌধুরীর সদ্য প্রকাশিত বই “মহামারী করোনাঃ ডেটলাইন নিউইয়র্ক” নিউইয়র্ক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চলমান সময়ের গরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বইটি অবদান রাখবে বলে বক্তারা বলেন।
লেখক এবং স্থপতি আনোয়ার ইকাবাল এবং ইব্রাহীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলাপচারতা জমে উঠে। প্রবীণ লেখক সাংবাদিক আনিস আহমেদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “মহামারী করোনাঃ ডেটলাইন নিউইয়র্ক” ফিরে দেখা মহামারীতে বিপন্ন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেবে বইটি। ইতিহাসের এমন উপাদান নিয়ে এমন কাজ বাংলা সাহিত্যে আরও বিস্তৃতভাবে করার উপর তিনি জোরারোপ করেন।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ আব্দুল ওদুদ চৌধুরী অসুস্থ শরীর নিয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ছুটে আসেন লেখক সাংবাদিকদের আলাপ সংলাপ অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার সুফলই হচ্ছে দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আজকের ব্যাপক প্রসার। তিনি বলেন, এসব কাজের মাধ্যমেই  বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাদেশের লোকজন নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে দাপটের সাথে।
লেখক স্তপতি ইকবাল আনোয়ার তাঁর আলোচনায় বলেন দেশের বাইরে এখন অনেক উল্লেখযোগ্য লেখকের অবস্থান। এসব লেখকদের সক্রিয়তা এবং আন্তঃযোগাযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত হলে দেশের বাইরে বাংলা সাহিত্যের চর্চা ও প্রসার বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেখক সাংবাদিক আশীফ এন্তাজ রবি তাঁর চৌকস বক্তৃতায় মাতিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, চলমান প্রজন্মের বহু লেখক আজ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের লেখা প্রবাসের জনসমাজকে যেমন ক্রে আন্দোলিত করছে, তেমনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে। লেখক গবেষক মাহবুব লীলেন বলেছেন, ইতিহাস লিখে রাখার কাজ খুবই অল্প করা হয়েছে। “মহামারী করোনাঃ ডেটলাইন নিউইয়র্ক” এমন প্রয়াসে একটি উল্লেখযোগ্য কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফররত ব্যবসায়ী ‘এনার্জিপ্যাক’ নামের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ প্রতিষ্টানের প্রধান  নির্বাহী হুমায়ূন রশিদ বলেছেন দেশের উন্নয়নের জন্য এখন অর্থ নয়, মেধার সমন্বয় ঘটানোই অনেক বেশী গুরুত্বের। ওয়াশিংটন ম্যাটরও এলাকার প্রতিষ্টিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজীর উল্লাহ বলেছেন, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জনসমাজের যেকোন সৃষ্টিশীল কাজে পাশে থাকাকে তিনি গুরুতপূর্ন সামাজিক কাজ বলে মনে করেন। লেখক সাংবাদিক ও সংস্কৃতিসেবীদের মধ্যে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনায় অংশ নেন শেফালী আনোয়ার, রিফাত ফারজানা, রহমান মাহবুব, মাহবুব লীলেন, শেলী জামান খান, রওশন হক, মনজুরুল হক, রোকেয়া দীপা, ভায়লা সালিনা, তোফাজ্জল লিটন, সৈয়দা শাহানা ইয়াসমিন, অনির্বাণ খন্দকার, আবু চৌধুরী, হাসনাত সানি, দীনা ফেরদৌস, নাসিমা সুলতানা, সুবীর পেরেরা, হাসনাত সানি, আবু সরকার, সুবীর কাস্মীর পেরেরা, দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়, জীবক বড়ুয়া, বিপুল এলিট গনছালভেস, শাওন রিচার্ড, রওনক সিবি, নাজির উল্লাহ, মারুফ রহমান, মাহতাব আহমেদ, জাবেদ আলী, গোলাম মোর্শেদ, রউফ এম সরকার, তামান্না চৌধুরী, জাভেদ চৌধুরী, এমদাদুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদকে সম্মান জানান। উল্লেখ্য
ক্যাপ্টেন ডা. মইন ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট-এর ক্যাপ্টেন আজিজুর রহমান (বীর উত্তম) এর সাথে আশ্রমবডি ক্যাম্পে গড়ে তোলেছিলেন যুদ্ধাহতদের জন্য হাসপাতাল। একাত্তরের ৫ জিসেম্বর তিনি দ্বিতীয়দফা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।  
১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তন মেনে নিতে পারেননি ক্যাপ্টেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ। চাকুরী ছেড়ে, দেশ ছেড়ে আমেরিকা প্রবাসী হয়েছেন। জীবন সায়াহ্নে দূর দেশে বসে নিজেদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের জন্য কাঁদেন। সময় তার মূল্য নিতে শুরু করেছে। শ্রবণশক্তিও প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। শরীর সায় দেয় না। চল্লিশ মাইল নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে বাংলাভাষী লেখক সাংবাদিকদের আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন জীবনযুদ্ধে এখনো হার না মানা এ সৈনিক। তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন লেখক সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে লেখকরা তাদের লেখা বই বিনিময় করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নগরীতে ভ্রমণ করে মহামারী পেরিয়ে জীবনের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস জনসমাজে ছড়িয়ে দেয়ার কাজে নিজেদের ক্রমাগত যুক্ত রাখার পক্ষে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ছবিঃ অনির্বাণ খন্দকার।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV