মুক্তি আর গণতন্ত্রের প্রতীক – স্ট্যাচু অব লিবার্টির ১২৫ বছর
ইউএসএ নিউজ ডেস্ক :: বলা হয়ে থাকে দুনিয়ার সব প্রতীকেরই জননী হলো এ ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’। এ ছিল মুক্ত আমেরিকার জনগণের প্রতি ফরাসি জনগণের উপহার। আমেরিকার জন্য ‘লেডি লিবার্টি’ অর্থাৎ আলোর মশালধারী এই নারীমূর্তি মুক্তি আর গণতন্ত্রের প্রতীক_ লাখ লাখ অভিবাসীর মনে উন্নততর জীবনের আশা লালন করে এই মূর্তিটি।ফরাসি রাজনীতিক এদুয়ার ল্যফেব্র দ্য লাবুলায়ের মাথা থেকেই আসে এই কিংবদন্তিতুল্য উপহারের ধারণা। ফ্রান্সে তখন সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের স্বৈরাচারী শাসন। লাবুলায়ে ছিলেন আমেরিকার মুক্তি আর স্বাধীনতার আদর্শের প্রবল উৎসাহী সমর্থক। তার মনে হয়েছিল, আমেরিকার শততম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তির প্রতীক হিসেবে এরকম একটি মূর্তি যদি ফরাসি জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া যায়, তবে স্বৈরাচারী নেপোলিয়ন তা থেকে একটা বার্তা পেয়ে যাবেন। দুদেশের জনগণের এক যৌথ প্রকল্প হিসেবেই লাবুলায়ে তার প্রস্তাব তুলে ধরেন ১৮৬৫ সালে। ঠিক হয় এ উপহার দেওয়া হবে ১৮৭৬ সালের ৪ জুলাই। তার তখনো ১১ বছর বাকি। ভাস্কর ফ্রেদেরিক অগুস্ত বার্তলিদ সঙ্গে সঙ্গে কাজে লেগে গেলেন। তিনি সুয়েজ খালের উদ্বোধন উপলক্ষে একটি নারীর অবয়বে বিশাল এক বাতিঘরও তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেপ্রকল্প আর বাস্তবায়ন করা যায়নি। ভাস্কর বার্তলিদ তার পরিকল্পনা পাল্টান। ‘মিসর আলো বয়ে আনছে এশিয়ায়’_ এ রকম এক কল্পিত মূর্তির রূপান্তর ঘটান তিনি। বেরিয়ে আসে ‘লিবার্টি আলোকপ্রাপ্ত করে তুলছে বিশ্ব’।লিবার্টি নারীমূর্তির জন্য বার্তলিদ মডেল হিসেবে ব্যবহার করেন তার মায়ের মুখ। এ বিশাল মূর্তির জন্য বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। ফরাসিরা চাঁদা সংগ্রহ করে। এ পরিকল্পিত মূর্তির নকল বিক্রি করা হয়। অপেরা রচয়িতা শার্ল গুনদ টাকা তুলতে রচনা করেন সংগীত। ইতোমধ্যে বার্তলিদ মূর্তির জন্য উপযুক্ত জায়গাও খুঁজে পান। নিউইয়র্ক পোতাশ্রয়ের ঠিক প্রবেশমুখে_ আজকের লিবার্টি আইল্যান্ড। মূর্তির কিছু অংশ বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দেখানো হয়। তারপর জাহাজে চাপিয়ে মূর্তি পাঠানো হয় আমেরিকায়।
প্রথম দিকে আমেরিকায় এই মূর্তিটি নিয়ে উদ্দীপনাটা ছিল বেশ চাপা। স্বাধীনতা দিবসের উপহার হলেও তা বসানোর খরচ জোগাতে হয়েছিল আমেরিকানদেরই। প্রকাশক জোসেফ পুলিৎজারের আবেদনে সাড়া দেয় মানুষ। ওঠে এক লাখ দুই হাজার ডলার। অর্থের ৮০ শতাংশই আসে এক ডলার করে দেওয়া চাঁদা থেকে। আইওয়া রাজ্যের একদল শিশু পাঠায় এক ডলার ৩৫ সেন্ট। শেষ পর্যন্ত মূর্তি এসে পৌঁছায়, তবে ১০ বছর পর। ১৮৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’কে স্বাগত জানানো হয় প্যারেড করে। শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরাই আইল্যান্ডে উপস্থিত ছিলেন। নারী অতিথি ছিলেন মাত্র দু’জন। নারী অধিকারবাদীরা নৌকায় চেপে ঘিরে রাখেন ওই দ্বীপ। জানান অশ্রুতপূর্ব এক দাবি_ ভোটের অধিকারের দাবি।
‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ আজ প্রতীক হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। লাইসেন্স প্লেটে, মুদ্রার ওপর, ডাকটিকিটে মুক্তির প্রতীক এই নারীমূর্তির উপস্থিতি। তা হয়ে উঠেছে যেন পপ-সংস্কৃতির এক বাহন।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity