হজ্ব : লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক
সাকির আহমদ : আরাফাতের ময়দান সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ দুপুর থেকে সূর্যান্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে হাজীদের অবস্থান করা ওয়াজিব। আর এ সময়টুকু হজ্বের প্রাণ, প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত মূল্যবান এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ। আরাফাতের ময়দান হচ্ছে হাজীদের মোনাজাত কবুলের স্থান ও সময়। জীবনে যে সমস্ত গুনাহ হয়ে গেছে এবং এখনো হচ্ছে তা হাজীরা মনের আয়নায় এনে লজ্জিত হন। একই সাথে তওবা করেন। বুখারী শরীফে বলা হয়েছে, ‘হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, কুরাইশ এবং তাদের অনুসারীরা আরাফাত দিবসে মুজদালিফায় অবস্থান করতো। একই সাথে তারা নিজেদেরকে বাহাদুর বলে অভিহিত করতো। কিন্তু অন্যান্য আরব গোত্রের সকলে আরাফাতের ময়দানে গিয়ে অবস্থান করতো। দ্বীন ইসলাম কায়েম হওয়ার পর আল্লাহ তা’আলা তাঁর হাবীবকে (সা.) সাধারণ মানুষের ন্যায় আরাফাতে গিয়ে অবস্থান করতে এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করতে নির্দেশ দিলেন। পবিত্র কোরআনে তাই এরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যাবর্তন করুন সেখান থেকে, মানুষ যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে থাকে।’ হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা আরাফাত দিবসে যত বান্দাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করে থাকেন, অন্য কোনোদিন এত বান্দাকে মুক্তি দান করেন না।’
সূর্যান্তের পরপরই লাখ লাখ হাজী আরাফাতের ময়দান ছেড়ে মুজদালিফার পথে পা বাড়ান। মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই তাঁদেরকে মুজদালিফায় উপস্থিত হতে হয়। এশার ওয়াক্তে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করার পর সারারাত হাজীরা মুজদালিফায় অবস্থান করেন। এখানে অবস্থান করে নামাজ আদায়, জিকির ও এস্তেগফারসহ রাতভর আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় মোনাজাতে হাজীরা মশগুল থাকেন। সুবেহ সাদেক হওয়ার পর আউয়াল ওয়াক্তে ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে হাজীরা সূর্যোদয়ের কয়েক মিনিট আগে মুজদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করেন শয়তানের ওপর নিক্ষেপ করার জন্য।
মিনায় পৌঁছার পর হাজীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এগুলো হচ্ছে প্রথম, বড় শয়তান অর্থাত্ জামারায় আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ। দ্বিতীয়, পশু কোরবানি করা। তৃতীয়, হাজীদের মাথা ন্যাড়া করা এবং চতুর্থ তাওয়াফে জিয়ারত করা। শয়তানকে পাথর মারার ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে, হজ্বের একটি কার্যক্রম হিসেবে তিন পর্বে বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের (জামারা) উপর সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করেন। মিনাকে ডানদিকে রেখে দাঁড়িয়ে হাজীরা প্রথম পর্বে বড় শয়তানের উপর সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেন। এর মাধ্যমে হাজীরা তাঁদের ওপর ক্রিয়াশীল মানুষের চিরশত্রু অভিশপ্ত শয়তান এবং নিজেদের নফ?সের কুমন্ত্রণাগুলোকেই মন থেকে ঘৃণা করতে শিখেন। একই সাথে পাথর নিক্ষেপ করার মাধ্যমে আসলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি কাজকে ঠিক তাঁরই মতো করে পালন করার শিক্ষা পেয়ে থাকেন হাজীরা। এরপর হাজীদের পরবর্তী জীবনে সেভাবেই চলতে হয়।
শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপ শেষ হলে হাজীরা ত্যাগের মহিমায় আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি দেন। পশু কোরবানির পর হাজীরা মাথা ন্যাড়া করে ইহরাম ছেড়ে স্বাভাবিক পোশাকে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ সাতবার ঘুরে তাওয়াফ করেন। তাওয়াফ শেষে হাজীদের গন্তব্য সরাসরি সাফা মারওয়া পাহাড়। যেখানে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর স্ত্রী এবং শিশু পুত্র হযরত ঈসমাইল (আ.)-এর মা হযরত হাজেরার (আ.) বুকের দুধ ও সাথে থাকা মশক ভর্তি পানি শেষ হলে জনমানবশূন্য ও পানিবিহীন মরুভূমির দুটি পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। হজ্বের সময় হাজীরা এই সাফা মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানোর পর তাঁদেরকে আবার মিনায় তাঁবুতে ফিরে যেতে হয়। ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








