প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য:আর মাত্র পাঁচ দিন, সুন্দরবনকে ভোট দিন

পল্লব মোহাইমেন: আবদুল মালেক। পেশায় হকার। রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যের বাসে যষ্টিমধু ফেরি করে বেড়ান। ২০০৮ সাল থেকে আবদুল মালেকের মজমায় স্থান পায় সুন্দরবন। প্রায় তিন বছর ধরে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে বাংলাদেশের সুন্দরবনকে ভোট দেওয়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি; নিজের অর্থ ও শ্রমে। ঢাকার প্রায় সাড়ে ৩০০ বাসে তাঁর তৈরি করা প্রচারপত্র সাঁটানো আছে।
সুন্দরবনকে নিয়ে এমনই উচ্ছ্বাস সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পর ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে চলছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব। এই পর্বে উত্তীর্ণ ২৮ প্রতিদ্বন্দ্বীর একটি হলো বাংলাদেশ ও ভারতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) বনাঞ্চল সুন্দরবন।
সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের চূড়ান্ত তালিকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ আছে আর মাত্র পাঁচ দিন। আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট (www.new7wonders.com) থেকে জানা যায়, ১১ নভেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটা ১১ মিনিট পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। একই দিন রাত একটার দিকে ভোটে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত সাতটি স্থানের নাম প্রকাশ করা হবে। এরপর আসবে আনুষ্ঠানিক তালিকা।
দেশের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি নানা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক দিনে সুন্দরবনের পক্ষে ভোট সংগ্রহের শেষ প্রচারণা শুরু হয়েছে সারা দেশে। রাজধানীতে বেশ কিছু ভ্যান, রিকশা ও পিকআপে করে প্রচার চালানো হচ্ছে।
সাইবার ক্যাফে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহায়তায় সুন্দরবনের অফিশিয়াল সমর্থন কমিটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন দেশব্যাপী রোড শো শুরু করেছে। কক্সবাজারে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগ সমুদ্রসৈকতে চলছে ভোট সংগ্রহ অভিযান। খুলনায় প্রচারণা চালাচ্ছে সুন্দরবন সমর্থকগোষ্ঠীসহ বেশ কিছু সংগঠন।
প্রতিদিনের ভোটের ধারা কেমন, তার একটা আভাস মিলবে সাইটটির ভোটিং ট্রেন্ড বিভাগ থেকে (http://www.new7wonders.com/voting-trends)। গতকাল শুক্রবার রাতে দেখা গেছে, সুন্দরবনের পক্ষে ভোট বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কম। তাই এই কদিন সুন্দরবনকে বেশি বেশি ভোট দিতে হবে।
বিশ্বের কোন দেশ থেকে ইন্টারনেটে কাছাকাছি সময়ে কোন সাতটি স্থানকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় ওয়েবসাইটের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স লাইভ ভোটিং ম্যাপ’ অংশে।
ভোট দেওয়া যাবে তিনভাবে: প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে তিনটি মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। এক. ইন্টারনেটে এই www.new7wonders.com ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে Vote-এ ক্লিক করে ২৮টি স্থানের মধ্যে সাতটি স্থান পছন্দ করে ভোট দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে একটি ই-মেইল ঠিকানা থেকে একটি ভোট দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
দুই. টেলিফোন করে শুধু সুন্দরবনকে ভোট দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে +১ ৮৬৯ ৭৬০ ৫৯৯০, +১ ৬৪৯ ৩৩৯ ৮০৮০, +৪৪ ৭৫৮ ৯০০ ১২৯০ এই তিনটি নম্বরের যেকোনো একটিতে কল করলে বার্তা শোনা যাবে। বার্তার পর একটি সংকেত দেওয়ার হবে। এরপর ৭৭২৪ নম্বর চেপে সুন্দরবনের পক্ষে ভোট দেওয়া যাবে।
তিন. মুঠোফোনের খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ভোট দেওয়া যাবে সুন্দরবনকে। যেকোনো সংযোগ থেকে মুঠোফোনে SB লিখে পাঠাতে হবে ১৬৩৩৩ নম্বরে। প্রতি এসএমএসের জন্য দুই টাকা ৩০ পয়সা খরচ হবে। আর প্রতিটি এসএমএস ভোটই গণনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই তিন মাধ্যমের ভোট গণনা করে প্রাথমিক ফলাফল দেওয়া হবে। এরপর নিরীক্ষণ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত স্থানগুলো যেসব দেশে অবস্থিত, সেসবেরই একটিতে পরে এই অনুষ্ঠান হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ৭ জুলাই পর্তুগালের লিসবনে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে মানুষের তৈরি স্থাপনার মধ্যে নতুন সপ্তাশ্চর্যের তালিকা চূড়ান্ত করার পর নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়।প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








