নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন; বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের রেজুলেশন গ্রহণ (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে এবার আন্তর্জাতিক আবহে উদযাপিত হয়েছে ‘বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষির্কী’ এবং ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। গত ২৮ মার্চ সোমবার স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়। এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের রেজুলেশনটি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। রেজুলেশনে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থান পায়। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।
সংশ্লিষ্ট্র সূত্রমতে, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ও স্টেট সিনেটে ‘বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষির্কী’ এবং ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’র ওপর পৃথকভাবে রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ (ব্রঙ্কস) থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলিওমেন কারিনা রাইস স্টেট অ্যাসেম্বলি হাউজে এবং সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৩২ (ব্রঙ্কস) থেকে নির্বাচিত সিনেটর লুইস সেপুলভেদা স্টেট সিনেটে এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন। স্টেট এসেম্বলী ও সিনেট অধিবেশনে গৃহীত পৃথক রেজুলেশনে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। রেজুলেশনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট, দেশ স্বাধীনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার অবদান স্বীকার করে তাদেরও কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশিদের অবদানসহ তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের বেশ কিছু তথ্য। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২২ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। এখানে বাংলাদেশিরা অনেক ভালো কাজ করছেন এবং নানাভাবে অবদান রাখছেন। আমেরিকার অর্থনীতি বিনির্মাণে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সফল কয়েকজনের বাংলাদেশিদের কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। এসময় উভয় কক্ষের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযথ সম্মান নিবেদন করেন। স্টেট সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিমেম্বারগণ এসময় তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশী কমিউনিটির অবদানেরও উচ্ছ্বসিত প্রসংশা করেন।
সূত্রমতে, এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনটির পিছনে সমন্বয়কের কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র মুজিব শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ ও আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ইনক নামে দু’টি সংগঠন।
অ্যাসেম্বলি ও সিনেটে রেজ্যুলেশন দুটি পাস হওয়ার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনে সহায়তাকারী যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিত মুজিববর্ষ উদযাপন পরিষদ ও আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনকে প্রক্লেমেশন ও সাইটেশন প্রদান করা হয়।
অ্যাসেম্বলি হাউজের অধিবেশনে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী প্রস্তাবনাটি রেজুলেশন আকারে গৃহীত হয়। এদিন স্থানীয় সময় দুপুরে অ্যাসেম্বলি অধিবেশন শুরু হয়। এর পর অ্যাসেম্বলি হাউজে অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইস উত্থাপিত বিলটি পাঠ করে শুনানো হয়। রেজুলেশনে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। বিলের সমর্থনে বেশ ক’জন অ্যাসেম্বলিম্যান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী রেজুলেশন গ্রহণকালে অ্যাসেম্বলিফ্লোরে বাংলাদেশী কমিউনিটির কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বাংলাদেশীরা হাউজ কক্ষের গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন।
এদিকে, এদিন বিকেলে স্টেট সিনেটের অধিবেশনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসেবে খ্যাত সিনেটর লুইস সিপুলভিদা উত্থাপিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’র বিলটি পাঠ করে শোনানোর পর জন ল্যু সহ বেশ ক’জন সিনেটর এর সমর্থনে জোরালে বক্তব্য রাখেন। এখানেও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থান পায়। এসময় সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও সিনেটর জন ল্যু বলেন, তারা সহ নিউইয়র্কের ৫ জন স্টেট সিনেটর ‘গুড উইল ভিজিট’-এ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের বন্ধু হিসেবে প্রবাসীদের জন্মস্থান বাংলাদেশ দেখতে তারা ওই সফরে যান। তারা সেসময় বাংলাদেশ সরকারের অতিথি হিসেবে বিভিন্ন স্থান ভিজিট করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। পরে সিনেট হাইজে রেজুলেশনটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
বিলটি উপস্থাপনকালে সিনেট ফ্লোরেও বাংলাদেশী কমিউনিটির কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সিনেট গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন অন্যান্য বাংলাদেশীরা। এসময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা জয়-বাংলা স্লোগান আর বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।
সিনেট এবং অ্যাসেম্বলি গ্যালারি এদিন বাংলাদেশীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ২৫ জন বাংলাদেশী। এর মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশী কূটনীতিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী।
স্টেট অ্যাসেম্বলি হাউজ ও সিনেট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্টেট সিনেটর লুইস সিপুলভেদা আলবেনী হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মানে এক অভ্যর্থনা পার্টির আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্টেট সিনেটর লুইস সিপুলভিদা, জন ল্যু ও জামাল টি বেইলি, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিত মুজিববর্ষ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আবদুর রহিম বাদশা, আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি আবদুস শহীদ প্রমুখ। পরিচালনায় ছিলেন আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারী জামাল হুসেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল নাজমুল হাসান, বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, সাখাওয়াত আলী, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, নুরুল ইসলাম, রেজা আবদুল্লাহ স্বপন, নূরে আলম জিকু, হোসেন মজুমদার, আল মামুন সরকার, শিপু চৌধুরী, লায়েক আহমেদ, জুয়েল এবং সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, হাসানুজ্জামান সাকী, আব্দুল হামিদ, মোতাসিম বিল্লাহ তুষার প্রমুখ। পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত হাফেজ অহি চৌধুরী। এসময় তিনি তার তেলাওয়াতকৃত কুরআনের আয়াতের মর্মার্থ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটা হয়। অতিথিদের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কীর কোর্ট পিন প্রদান করা হয় সম্মিলিত মুজিববর্ষ উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে।
এসময় বক্তারা ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী কমিউনিটির ভূয়শী প্রশংসা করেন। তুলে ধরেন নানা ক্ষেত্রে তাদের অবদানের কথাও। মার্কিন জনগণের সেবা ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের ভূমিকার কথাও ওঠে আসে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ও স্টেট সিনেটে ‘বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষির্কী’ এবং ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’র ওপর পৃথকভাবে রেজুলেশন গ্রহণ করায় সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, অ্যাসেম্বলিওমেন কারিনা রাইস সহ সংশ্লিষ্টদেরকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, বহুজাতিক এই সমাজে বাঙালিরা তাদের মেধা আর শ্রমে অবদান রাখছেন। এর মূল্যায়নও ঘটছে নানাভাবে। এর মধ্য দিয়ে তা আরো দৃশ্যমান হলো।
বাংলাদেশীরা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, অ্যাসেম্বলিওমেন কারিনা রাইস সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, আগামীতে নিউইয়র্ক স্টেটে দিবসটির নাম বিশেষভাবে লেখা থাকবে।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনে সহায়তাকারী যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিত মুজিববর্ষ উদযাপন পরিষদ ও আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। সম্মাননা তুলে দেন সিনেটর লুইস সিপুলভিদা।
এর আগে অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইসও কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনে সহায়তাকারী যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিত মুজিববর্ষ উদযাপন পরিষদ ও আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনকে সাইটেশন প্রদান করেন। এসময় তিনি অ্যাসেম্বলিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের রেজুলেশনের কপিও হস্তান্তর করেন।
এসময় এ ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইসকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এর আগে এ দিন সকাল ৯টায় উৎসবে যোগ দিতে ব্রঙ্কসের ইউনিয়ন পোর্ট রোড এলাকা থেকে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশীদের নিয়ে একটি মিনিবাস ছেড়ে যায়। আয়োজক সহযোগি দু’টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বাংলাদেশী আমেরিকানরা ১২টার দিকে ক্যাপিটাল হিলে পৌঁছালে সিনেটর লুইস সিপুলভিদা ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে প্রথমে অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাসেম্বলীর অধিবেশন কক্ষে। সেখানকার আনুষ্ঠানিকতার পর সিনেট অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন বাংলাদেশীরা।
বাংলাদেশী-আমেরিকানদের গলায় জড়ানো লাল-সবুজের উত্তরীয় এবং স্বাধীনতার আমেজে পরিধেয় পোশাকে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট, এ্যাসেম্বলী হাউস এবং লবি হলের খোলা চত্বর হয়ে ওঠে এক খন্ড বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, মধ্যাহ্ন ভোজে নিউইয়র্কের বাঙালি মালিকানাধীন অন্যতম সেরা রেষ্টুরেন্ট খলিল বিরিয়ানী হাউজের ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানী দিয়ে সকলকে আপ্যায়িত করা হয়।
এদিকে, সকালে যাত্রা এবং বিকেলে ফেরার পথে বাসে সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। বিকেল প্রায় ৬টায় বর্ণাঢ্য এ আয়োজন শেষে সকলে গন্তব্যে রওয়ানা হন।
উল্লেখ্য, এর আগে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ঐতিহাসিক বাংলাদেশ ডে বিলটি পাশ হয় ২০১২ সালের ২৪ মার্চ। ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সাবেক সিনেটর রুবিন ডিয়াজের ধন্যবাদ প্রস্তাব বিলের মাধ্যমে বিলটি পাশ হয়। তাকে রেজুলেশন তৈরি করে সহযোগীতা করেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসেবে পরিচিত এটর্নী লুইস সিপুলভেদা (বর্তমান সিনেটর)। তাদের সহযোগীতা করেন ব্রঙ্কস বাংলাদেশী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ।
জানা যায়, রুবিন ডিয়াজ ও লুইস সিপুলভেদা বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে ও একসাথে কাজ করার বিষয়ে প্রয়াত কমিউনিটি সংগঠক জাকির খানের কাছে আগ্রহ ব্যাক্ত করেন। বাংলাদেশ কমিউনিটিকে নিয়ে এমন একটি অনুষ্ঠান করতে চান যার ফান্ডিং তারা বহন করবেন। জাকির খান তাদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাতে কমিউনিটির অনেকের সাথে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে লুইস সিপুলভেদা এবং জাকির খানের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের ৪১ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন বিষয়ে এক সভার আয়োজন করা হয় ব্রঙ্কসের একটি রেষ্টুরেন্টে। ওই সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের ততকালীন সভাপতি মাহবুব আলমের প্রস্তাবনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে ২০১২ সালের ২৪ মার্চ নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ততকালীন সিনেটর রুবিন ডিয়াজ বাংলাদেশ ডে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলের আলোকে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ সিনেটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বাংলাদেশীদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশী মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। সেদিন মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক বিলটি সর্বসম্মতভাবে সিনেটে পাশ হয়। সেথেকে প্রতি বছর দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ডে রেজ্যুলেশন প্রস্তুতকারী এটর্নী লুইস সিপুলভেদা (বর্তমান সিনেটর) এসেম্বলিম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আলবেনীতে বাংলাদেশ ডে উদযাপনে আরও ব্যাপকতা পায়। ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপনের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মোহাম্মদ এন মজুমদার এবং মেম্বার সেক্রেটারী ছিলেন মরহুম জাকির খান।
আরও উল্লেখ্য যে, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশ ডে উদযাপিত হয়নি। আর এবছর বাংলাদেশ ডে আদতে স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে উদযাপিত হল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
- Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
- নিউইয়র্কে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের বৈঠক: এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান
- শিশু ও নারীর কল্যাণে বিনিয়োগ সুরক্ষায় ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান ড. তিতুমীরের
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ইউএসএ’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণ সভা
- Trump Admin Rescinds Public Charge Rule