এবার ৯/১১তে ঈদের সম্ভাবনায় আতঙ্কে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানরা
মিনারা হেলেন(বাংলাপ্রেস)- ৯/১১তে টুইন টাওয়ার হামলার আসন্ন বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানরা। গ্রাউন্ড জিরোতে ইসলামী সেন্টার নির্মাণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের জের ধরে ওই দিন দেশটির বিভিন্ন মসজিদে হামলার আশঙ্কা করছেন মুসলমান নেতারা। ১১ সেপ্টেম্বরেই ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় তাঁদের আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। নেতাদের আশঙ্কা, মুসলমানদের ঈদের আনন্দ নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে ভুল ধারণার তৈরি হতে পারে। বিষয়টিকে তারা ৯/১১-র উদ্যাপন হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
টুইন টাওয়ার হামলার সঙ্গে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে প্রতিবছরই এ ঘটনার বর্ষপূর্তির সময়টা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের জন্য সংবেদনশীল। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি নানা কারণেই আরো খারাপ। গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ ও ইসলামী সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই বিতর্ক চলছে। ইহুদি ও খ্রিস্টান কট্টরপন্থীরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।টেনেসি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েকটি ইসলামী সেন্টারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ইসলামবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবেই ৯/১১তে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কর্মসূচি দিয়েছে ওই কট্টরপন্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে হামলার আশঙ্কা করছেন নেতারা। মিশিগানে ইসলামিক কাউন্সিলের সদস্য ভিক্টর বেগ বলেছেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল কেউ কেউ এ সুযোগে আক্রমণাত্মক কাজ করতে চাইবে। তারা মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে চায়। ৯/১১তে মুসলমানদের জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে ঈদ উদ্যাপনের বিষয়টি। মুসলমান নেতারা আশঙ্কা করছেন, ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরা ঈদের আনন্দকে ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে। অ্যারিজোনার ইসলামী সেন্টারের চেয়ারম্যান উসামা শামি বলেন, ‘একই সময়ে আমাদের সামনে অনেক সমস্যা চলে এসেছে। ঈদের দিনে কোনো মুসলমান নতুন কাপড় পরে উৎসব করলে হয়তো কেউ ভেবে বসবে, সে টুইন টাওয়ারে হামলার বিষয়টি উদ্যাপন করছে।এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকানদের ভুল ভাঙার জন্য ঈদের দিনে বেশি বেশি মানবিক ও সামাজিক কাজ করার জন্য মুসলমানদের পরামর্শ দিয়েছেন নেতারা। শিকাগোর বাসিন্দা ও ইসলামী গবেষক জিনাত রহমান বলেছেন, ‘ইসলাম সেবার ধর্ম। ঈদের দিনে সামাজিক কর্মসূচি পরিচালনা করলে আমাদের সম্পর্কে কেউ ভুল ধারণা করতে পারবে না।’ এমন অনুরোধে সাড়া দিয়ে কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানরা ঈদের দিনে হাসপাতাল ও বৃদ্ধ নিবাসগুলোতে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেউ কেউ আবার পার্ক পরিষ্কার, গৃহহীনদের জন্য ভোজ ও অসুস্থ শিশুদের খেলনা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে। এ ছাড়া ইসলাম ধর্মের সত্যিকার পরিচয় তুলে ধরতে বিজ্ঞাপন, পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে ইসলামী সেন্টারগুলো। এমন বিপদের সময়ে মুসলমানদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অন্য ধর্মের নেতারাও। ধর্মীয় সহনশীলতা সম্পর্কে সাধারণ আমেরিকানদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আন্তধর্মীয় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ঈদের আগেই এসব সভা অনুষ্ঠিত হবে। নিজেরা পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ থাকার পাশাপাশি ৯/১১তে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতে কট্টরপন্থীদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেরও ব্যবস্থা করেছেন মুসলমান নেতারা। বিভিন্ন শহরে মসজিদ ও ইসলামী সেন্টারগুলোতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল
- New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion