অপরাধ-জিন শনাক্ত!
মানুষ কি জন্মসূত্রেই ভয়ংকর অপরাধী হয়? নাকি শৈশব থেকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণেই অপরাধজগতে প্রবেশ করে? মনোবিজ্ঞানীদের কাছে এটি বহু পুরোনো প্রশ্ন।
কেউ কেউ মনে করেন, অপরাধী হওয়ার জন্য দায়ী প্রায় অর্ধেক কারণ একজন মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আর সেগুলোই মস্তিষ্কের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অপরাধ তৎপরতার দিকে মানুষকে ধাবিত করে। তবে বিজ্ঞানীদের ওই ধারণার পক্ষে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী গত মঙ্গলবার জানান, তাঁরা সুনির্দিষ্ট দুটি জিন শনাক্ত করেছেন, যেগুলোর উপস্থিতি পরিপূর্ণ অবস্থায় সহিংস অপরাধীদের মধ্যে ‘তুলনামূলক বেশি পরিমাণে’ দেখা যায়। কারাবন্দী প্রায় ৮০০ জন ভয়ংকর এবং তুলনামূলক কম সহিংস অপরাধীর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষকেরা এমএওএ এবং সিডিএইচথারটিন নামের ওই দুটি জিনের উপস্থিতির তারতম্য খুঁজে পান। পাশাপাশি নিরপরাধ সাধারণ মানুষকেও এ জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন মলিকিউলার সাইকিয়াট্রি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা মানুষের অপরাধী হওয়ার জন্য দায়ী পরিবেশগত বিভিন্ন উপাদান খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন—তাদের নিপীড়িত হওয়ার ইতিহাস, সমাজবিরোধী চেতনা বা শৈশবকালীন কোনো বেদনাদায়ক স্মৃতি আছে কি না। তবে এতে গবেষণার ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁরা আগেই অনুমান করেছিলেন, মানবদেহের আণবিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য জিনেরও ভূমিকা থাকতে পারে।
এমএওএ জিন ডোপামিনের বিপাকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই ডোপামিন একটি স্নায়বিক পরিবাহী, যা আসক্তি এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জনের ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। আর সিডিএইচথারটিন জিনটি আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া এটি অ্যাটেনশন ডিফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার (এডিএইচডি) রোগের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের এই অনুসন্ধানে অপরাধের নেপথ্যে জন্মগত বৈশিষ্ট্য বনাম বেড়ে ওঠার প্রকৃতি নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের স্নায়ুবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক জ্যারি টিহোনেন বলেন, তাঁরা যে দুটি জিন খুঁজে পেয়েছেন সেগুলো মানুষের আগ্রাসী আচরণের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তবে তাঁদের অনুসন্ধানের এই ফলাফলে অপরাধীদের দায় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় কোনো পরিবর্তন হবে না।
টিহোনেন আরও বলেন, ফরেনসিক মনস্তত্ত্বের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্য বা দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কের আঘাতপ্রাপ্তি ইত্যাদি কারণ কোনো ভূমিকা রাখবে না। ফিনল্যান্ডের ওই গবেষণা অন্যান্য দেশের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হলেও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য নয়। কারণ, এসব দেশে অপরাধ সংঘটনের নেপথ্যে দারিদ্র্যের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম ড্যাভিস সুইডেনের ওই গবেষণার প্রতিক্রিয়ায় মন্তব্য করেন, এই দুটি জিনের উপস্থিতি দেখে সহিংস অপরাধীদের প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। গবেষণাটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক রোগের চিকিৎসায়ও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: এএফপি।প্রথম আলো
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan