Thursday, 19 March 2026 |
শিরোনাম
নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
সব ক্যাটাগরি

অপ্রিয় কথন : নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে বিশেষ নির্বাচন ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 37 বার

প্রকাশিত: February 26, 2019 | 6:45 AM

এ কে এম নূরুল হক : অপ্রিয় কথন ৯৭ তে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোকপাত করেছিলাম। আজ নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট পদে বিশেষ নির্বাচন নিয়ে লিখব। এখানে উল্লেখ্য, প্রাক্তন পাবলিক এডভোকেট লেটিশিয়া জেমস এটর্নী জেনারেল এর দায়িত্ব নেয়ায় তাঁর শূন্য পদ পূরনের জন্য এই বিশেষ নির্বাচন। অর্থাৎ এই নির্বাচনের জন্য কোন বাছাই বা প্রাইমারী নির্বাচন প্রয়োজন নেই, ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান যেকোন বৈধ প্রার্থী সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। যাচাই বাছাই শেষে ১৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন – ১৬ জন ডেমোক্রেট ও একজন রিপাবলিকান। কালো, সাদা, হিস্পানিক, চাইনিজ, কোরিয়ান এমনকি একজন বাংলাদেশী প্রার্থীও রয়েছেন। বলা হয়ে থাকে মেয়রের পরে পাবলিক এডভোকেট হচ্ছে সিটির সর্বোচ্চ পদ। ১৯৯৩ সালে এই পদটি তৈরী করা হলে ডেমোক্রেট মার্ক গ্রীন নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম  পাবলিক এডভোকেট নির্বাচিত হন। বর্তমান মেয়র বিল ডি ব্লাসিও ২০১০ -২০১৩
এক টার্মের জন্য পাবলিক এডভোকেট হিসাবে সার্ভ করেছেন। পাবলিক এডভোকেট মুলত সিটির শতাধিক এজেন্সী এবং ৫১ জন সিটি কাউন্সিল মেম্বারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে জনগনের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করেন এবং যেকোন অসমতা অথবা বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও বিল উত্থাপন করতে পারেন এবং মেয়রের অনুপস্থিতিতে কাউন্সিল অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন।

আগেই উল্লেখ করেছি এবারের নির্বাচনে ১৬ জন ডেমোক্রেট ও মাত্র একজন রিপাবলিকান প্রার্থী রয়েছেন। ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থীদের আধিক্য পরাজয় ডেকে আনলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। তাছাড়া রিপাবলিকান প্রার্থী এরিক উলরিচকে সমর্থন দিয়েছে নিউ ইয়র্কের বহুল প্রচারিত ডেইলী নিউজ পত্রিকা। তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি আমাজনের হেডকোয়ার্টার কুইন্সে রাখার পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। কৃষ্ণাং প্রার্থীদের মধ্যে জুমানী উইলিয়াম, মাইকেল ব্ল্যাক ও এটর্নী ডন স্মল আলোচিত প্রার্থী। তবে সবশেষে নিউ ইয়র্ক টাইমস এর সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন জুমানী। উল্লেখ্য সাউথ এশিয়ান ইউনিয়নভুক্ত কর্মচারীদের সংগঠন “আসাল”ও আনুষ্ঠানিকভাবে জুমানীকে সমর্থন দিয়েছে। জুমানী একজন ফাইটার ও দীর্ঘ পরীক্ষিত একটিভিস্ট। শিশু অবস্হায় টরেট ও দুর্বল মনোযোগ (Tourette & ADHD) থাকা সত্বেও গিফটেড ও টেলেন্ট স্কুল এবং ব্রুকলিন টেক স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। পরবর্তীতে ব্রুকলিন কলেজ থেকে ব্যাচেলর ও মাস্টারস করেছেন। গত তিনি ৩ টার্ম যাবৎ ব্রুকলিনের ৪৫ ডিস্ট্রিকে কাউন্সিল মেম্বার হিসাবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রস্তাবিত ৫৩+ বিল আইনে পরিনত হয়েছে যা সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে রেকর্ড। আন্দোলন করতে যেয়ে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন, কিন্তু পিছু হটেননি। তার প্রস্তাবিত নিরাপদ কমুনিটি আইন (Community Safety Act) মেয়র ব্লুমবার্গের ভিটো সত্বেও পাশ হয়েছিল। এই আইনের ফলে গত ৫০ বছরের ইতিহাসে নিউ ইয়র্ক শহর নিরাপদ শহরের মর্যাদা পেয়েছে। যাকেতাকে যত্রতত্র থামিয়ে পুলিশী হয়রানী ও ৯/১১ এর পর মসজিদকে টার্গেট করাও বন্ধ হয়েছে তার এই আইনের মাধ্যমে। উপরন্তু, এই আইনের ফলে পুলিশের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করার জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে ইনস্পেকটর জেনারেলের দপ্তর খোলা হয়েছে। এমনকি পুলিশের কার্যক্রম মনিটর করার জন্য পুলিশের গায়ে বডি কেমেরা সংযোজন করা হয়েছে। অর্থাৎ তার কর্মকান্ডের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জনগনের জীবনমান উন্নয়ন ও কমুনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি তিনি স্টেটওয়াইড নির্বাচনে লেফট্যানেন্ট পদে লড়েছেন।সেখানেও তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এডভোকেসী গ্রুপ এবং বার্নি সেন্ডার্সসহ অসংখ্য নির্বাচিত প্রতিনিধির সমর্থন পেয়েছিলেন।এসব রাজনৈতিক এবং ইস্যুভিত্তিক সফল আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় জুমানী উইলিয়ামই হচ্ছেন নিউ ইয়র্কের আগামী পাবলিক এডভোকেট। এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরো রয়েছেন প্রাক্তন সিটি কাউন্সিল স্পীকার মেলিসা মার্ক ভিভেরতো, ব্রুকলিন কাউন্সিল মেম্বার রাফায়েল এসপিনাল, কাউন্সিল মেম্বার ইয়াদানিস রোদরিগেস, একটিভিস্ট বেন্জামিন ই, সাংবাদিক ও একটিভিস্ট নমিকি কনস্ট, এসেম্বলীম্যান ড্যানী ও’ডনেল ও কুইন্স এসেম্বলীম্যান রন কিম। রন কিমের শ্লোগান হচ্ছে কর্পোরেট সাবসিডি কমানো ও ৩৫ বিলিয়ন ডলার স্টুডেন্ড লোন মওকুফ করে দেয়া। এছাড়া তিনি সম্প্রতি টেক্সি ড্রাইভারদের জন্য একটি বিল এনে আলোচনায় এসেছেন। ব্যালট পেপারের সবচেয়ে নিচে যে নামটি দেখা যাবে তিনি বাংলাদেশী প্রার্থী হেলাল শেখ। তিনি গত নির্বাচনে কাউন্সিল মেম্বার হিসাবে লড়ে বিফল হয়েছেন। যদ্দূর জেনেছি তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি কলেজ অব টেকনোলজী থেকে বেচেলর করেছেন এবং ব্রুকলিন কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছেন। তিনি পেশায় পাবলিক স্কুল শিক্ষক। অত্যন্ত সুদর্শন ও স্মার্ট এই যুবকের বাড়ী বাংলাদেশের সিলেটে। জয় পরাজয় যাইহোক সাধারন বাংলাদেশীরা সকল ভেদাভেদ ভুলে হেলাল শেখের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এদের কয়জন নিবন্ধিত ভোটার সেটা বিবেচ্য বিষয়! নিবন্ধন না করলে আপনি সিটিজেন হয়েও ভোট দিতে পারবেন না – এই তথ্যটিও আমরা অনেকে জানিনা?
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশী যারা মূলধারার রাজনীতির সাথে মোটামুটি যুক্ত তাদের গুটিকয়েক ছাড়া তেমন কাউকে কাছে টানতে পারেননি হেলাল শেখ – এটা তার ব্যর্থতা। শুধু তাই নয় এদের অনেকে আবার জুমানী উইলিয়াম, মাইকেল ব্ল্যাক অথবা রন কিমের জন্য কাজ করছে। এই বিভাজনের কারনে আমাদের বিপুল সংখ্যক ভোটার থাকা সত্বেও আমাদের নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে! আমার ব্যক্তিগত ধারনা নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশ কমুনিটির নেতৃবন্দ বসে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলেই বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব। এ পর্যন্ত যারা সিটি অথবা স্টেট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তারা কেউই এ কাজটি করেন নি – তারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ভোট চায়, কিন্ত প্রার্থী হওয়ার আগে কোন শলাপরামর্শ করে না। আর এটাই আমাদের পরাজয়ের মূল কারন! আশা করি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বিজয় সুনিশ্চিত করতে পারব। 
-এ কে এম নূরুল হক, সদস্য, কুইন্স কমুনিটি বোর্ড – ১২ সদস্য, এন ওয়াই পি ডি কাউন্সিল ১০৩ প্রেসিংক্ট।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV