Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

আটলান্টিক সিটিতে রথযাত্রার মহাযজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 136 বার

প্রকাশিত: June 26, 2023 | 10:20 AM

আটলান্টিক সিটি থেকে সুব্রত চৌধুরী : খিল ধরা দুপুরে সূর্য দেবতাকে মাথার ওপর রেখে চব্বিশ জুন, শনিবার ভক্তকুলের পদচারণায় মুখরিত হয়েছিল আটলান্টিক সিটির ঐতিহাসিক বোর্ডওয়াক। অদূরের আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঊর্মিমালার শব্দ তরঙ্গকে ছাপিয়ে ইথারে ভেসে আসছিল হরিনাম সংকীর্তনের সুললিত সুর, ‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, হরে রাম, হরে রাম’। অদ্ভুত এক ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মনপ্রাণ। আর এসবের উপলক্ষ জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, যার আয়োজক নিউ জারসির প্লেইনফিল্ডের শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির ও কালচারাল সেন্টার ।
মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে, পায়ে-পায়ে বাড়ে ভক্ত কুলের ভিড়। দুপুর দুইটার পর রথের দড়িতে ভক্ত কুলের হাতের আলগা টান পড়তেই সচল হয় রথের চাকা। সঙ্গে সঙ্গে ঢোল-খোল, মৃদঙ্গের আওয়াজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাজারো কণ্ঠের সম্মিলিত কোরাসে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে ‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, হরে রাম, হরে রাম’, আর তা অপূর্ব এক সুর মূর্ছনার সৃষ্টি করে।
বোর্ডওয়াকের নিউজার্সি অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া রথের গন্তব্যস্থল ছিল কেনেডী প্লাজা। ধীর গতিতে রথ এগিয়ে চলে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভক্তদের কাফেলা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। বোর্ডওয়াকে বেড়াতে আসা মার্কিনীরাসহ ভিনদেশি পর্যটকেরা নান্দনিক এই আয়োজনে অভিভূত হয়ে পড়ে। তাদের চলার গতি যায় থেমে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কেউ কেউ শরিক হয় রথের কাফেলার সঙ্গে। শুদ্ধ-অশুদ্ধ উচ্চারণের সংমিশ্রণে তারা হরিনাম সংকীর্তনে কণ্ঠ মেলায়। আবেগ-উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভক্ত কুল নেচে-গেয়ে একাকার হয়ে যায়। রথ টানতে টানতে কাফেলার মাঝে বিতরণ হতে থাকে হরেক পদের ফল-ফলাদি ও মিষ্টিসহ হরেক রকমের উপাদেয় প্রসাদ। পথ চলতি বিদেশিরাও তা থেকে বাদ পড়েন না।
রথের চাকা ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তা এসে থামে কেনেডী প্লাজায়, যেখানে আগে থেকেই চলছিল অন্যরকম এক মহাযজ্ঞ। উন্মুক্ত মঞ্চে হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় সংগীত,নৃত্য পরিবেশনের পাশাপাশি চলছিল মহাপ্রসাদ বিতরণ। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এই অনুষ্ঠান উপভোগ করে ও সঙ্গে সঙ্গে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে উদরপূর্তিও করে। ভিন্ন সংস্কৃতির লোকজনকেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করতে ও তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে দেখা যায়। তাদের অনেককে আগ্রহভরে এই রথযাত্রা সম্পর্কে ধারণা নিতে এবং মন্ত্র জপতেও দেখা যায়। রথযাত্রার অনুষ্ঠানে সুমৌলি ভট্টাচার্যের নৃত্যশৈলী সবাই প্রাণভরে উপভোগ করেন।
এই রথযাত্রার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল জগন্নাথ দেবের পূজার্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা, সংগীত ও নৃত্য ইত্যাদি।

আটলান্টিক সিটিতে ২০০৬ সাল থেকে এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিনে দিনে এর কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে। আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম দিগন্তে দিবাকর হেলতেই সাঙ্গ হয় রথযাত্রার মহাযজ্ঞ। রথযাত্রার টুকরো টুকরো অনেক হিরণ্ময় ছবির কোলাজ অন্তরে ধারণ করে ভক্তকুল ফিরে যায় আপন নীড়ে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV