Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
সব ক্যাটাগরি

আমেরিকার আটটি স্টেটের নাগরিক ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিউইয়র্ক কনস্যুলেট থেকে সেবা দেয়া হয়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 78 বার

প্রকাশিত: April 11, 2014 | 6:12 AM

বিশেষ প্রতিনিধি: আমেরিকার আটটি স্টেটের নাগরিক ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা নিউইয়র্ক কনস্যুলেট থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। স্টেটগুলো হলো নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, মেইন, নিউ হ্যাম্পশেয়ার, রোড আইল্যান্ড ও ভারমন্ট। এসব স্টেটের আমেরিকান নাগরিক ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা নো ভিসা রিকোয়ার্ড, ভিসা, নতুন পাসপোর্ট ইস্যু, পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন, দ্বৈত নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট, সত্যায়ন এবং ইমিগ্রেশন সেবা পেয়ে থাকেন। আর এসব সেবা নিতে এসেই প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হন শত শত মানুষ। কনস্যুলেটে কখনো কখনো প্রবাসীদের নাজেহালও হতে হয়। সেবাগ্রহণকারীর সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ে তার মুখের ওপর পাসপোর্ট ছুঁড়ে ফেলা দেওয়ার মতোও ঘটনা ঘটেছে।
আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী মোহাম্মদ সুমন জ্যাকসন হাইট্সের একটি গ্রোসারি শপে কাজ করেন। কিছুদিন আগে আমেরিকায় জন্ম নেয়া তার দুই মেয়ে মেহের ও লামিয়াকে নিয়ে কনস্যুলেটে যান ডুয়েল পাসপোর্টের জন্য। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তাকে জানানো হলো তিনি যে কাগজ নিয়ে এসেছেন তা পর্যাপ্ত নয়। অথচ তিনি যখন তথ্য নিয়েছিলেন তখন তাকে কাগজটি নিয়ে আসার কথা বলা হয়নি।
সুমন জানান, তিনি ওইদিন এমন ঘটনাও দেখেছেন তার সামনে কাউন্টারে থাকা কনস্যুলেটের এক কর্মচারি একজনের পাসপোর্ট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। বলেছেন, আপনাকে কে আমেরিকা আসার ভিসা দিয়েছে।
জ্যামাইকায় থাকেন আমিনুল ইসলাম। নো ভিসা রিকোয়ার্ড-এর জন্য তিনি গিয়েছিলেন কনস্যুলেট অফিসে। সেখানে কাউন্টারে তার সাথে এমন আচরণ করা হয় যে, তিনি মানুষ হিসেবেই গণ্য নন। দু:খ করে আমিনুল বলেন, এতো কষ্ট করে দেশে টাকা পাঠাই, দেশের কথা চিন্তা করি। আমাদের টাকায় সরকারি কর্মচারিদের বেতন হয়, আর তারা আমাদের সাথে প্রজার মতো আচরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বললেন, তার সাথে একদিন কাউন্টারের এক ব্যক্তির হাতাহাতি হওয়ার মতো উপক্রম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি না হলেও টেবিল থাবড়েছেন দুজন।
নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের পুরনো অফিসের বিল্ডিংয়ে অফিস আছে এমন একজন প্রবাসীর সাথে কথা বলতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে, সঠিক তথ্য সময় মতো দিতে না পারার কারণে কনস্যুলেটে প্রতিদিনই বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। তিনি মনে করেন, কাউন্টারে কাজ করেন কিংবা সরাসরি গ্রাহকদের সাথে যারা কাজ করেন তাদের আরো দক্ষ ও ধৈর্যশীল হওয়া উচিত। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, তার অফিসের কেউ যদি কারো সাথে খারাপ আচরণ করে তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ তার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি বলেও জানান তিনি। মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নিউইয়র্কে কনস্যুলেটে লোকবল তিনজন কর্মকর্তাসহ ১২জন। ১৯৯২ সালে কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার সময় যখন ১০ হাজার প্রবাসী ছিল তখন একই সংখ্যক লোকবল ছিল। বর্তমানে এই সংখ্যা আটটি স্টেটে প্রায় তিন লাখ। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল একজনও বাড়েনি।
ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম বলেন, সঠিক তথ্য সবার জানা থাকলে হয়তো তথ্য ঘাটতির কারণে যেসব ভুল বোঝাবুঝি হয় তার অবসান হবে।
কনস্যুলেট অফিস জানিয়েছে, নো ভিসা রিকোয়ার্ডের ক্ষেত্রে আমেরিকান পাসপোর্টের সাথে বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি, এক কপি ছবি, আমেরিকায় জন্ম হলে মার্কিন পাসপোর্ট সেইসাথে বার্থ সার্টিফিকেটের কপি, এক কপি ছবি, বাবা-মা যেকোনো একজনের বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি সঙ্গে আনতে হবে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে নো ভিসা রিকোয়ার্ড-এর আবেদন জমা নিয়ে ওইদিনই বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য ৫০ ডলারের ব্যাংক ড্রাফট লাগবে।
বাংলাদেশি ভিসার জন্য দরকার বিমান টিকেটের বুকিং কপি, বাংলাদেশে যেখানে থাকবেন সেই ঠিকানা এবং আমন্ত্রণপত্র। ভিসা ফি ১৬০ ডলার। সাধারণত একদিন পরই ভিসা দিয়ে দেওয়া হয়। তবে মার্কিন সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিয়ে কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগে ভিসা পেতে।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করা হয় ২০১৫ সাল পর্যন্ত। কেননা, এরপর মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ছাড়া ট্রাভেল করা যাবে না। নবায়নে বর্তমানে ৪৮ পাতার জন্য ২২ ডলার এবং ৬৪ পাতার পাসপোর্টের জন্য ২৭ ডলার ৫০ সেন্ট ফি জমা দিতে হবে।
মেশিন রিডেবল নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এক কপি ছবি, পুরনো পাসপোর্ট ও ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট সঙ্গে আনতে হবে। যদি কারো ডিজিটাল সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে কনস্যুলেট শুধুমাত্র মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। যদি কারো পুরনো পাসপোর্ট না থাকে তাহলে বাংলাদেশে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাওয়ার পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ। ফি ১১০ ডলার। জরুরি ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে দেওয়া হয়। ফি ২২০ ডলার।
ডুয়েল ন্যাশনালিটির জন্য আবেদনপত্রের সাথে ৪ কপি ছবি, আমেরিকান ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি, ন্যাচারাইজেন সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হবে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে এটি ইস্যু হতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ মাস। কারো যদি বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকে তাহলে পাসপোর্ট পেয়ে তারপর আবেদন করতে হবে। এজন্য ফি ৭৭ ডলার।
সত্যায়নের জন্য সাধারণ ফি ৪৪ ডলার ও জরুরি ফি ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। দিনে দিনে সত্যায়ন করে দেয়া হয়।
কনস্যুলেট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর নিউইয়র্কে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার নো ভিসা রিকোয়ার্ড এবং বিদেশিদের ভিসা ইস্যু করা হয় আড়াই থেকে ৩ হাজার।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ