আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (র.)-এর ১৩তম ওয়াফাত দিবস স্মরণে নিউইয়র্কে ঈসালে সওয়াব দোয়া মাহফিল
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, ডেস্ক. নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে গত ১৫ জানুয়ারী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় উপ মহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী সাহেব কিবলা (র.)’র ১৩তম বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল। ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার জামে মসজিদে এদিন বাদ মাগরিব এ উপলক্ষে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দো’য়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ আব্দুল মন্নাফ, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মিলাদ শরীফ পড়েন মুশাহিদ আলী ও ফুলতলী (র.) এর শানে মর্সিয়া পরিবেশন করেন শামছুদ্দিন।

আলোচনা সভায় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মাশহুদ ইকবাল আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)’র জীবনীর উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী। একজন প্রখ্যাত মুফাচ্ছিরে কুরআন, উস্তাদুল হাদিস। ফুলতলী (র.) অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক। প্রতিষ্ঠাতা করে গেছেন এতিমখানা সহ জন সেবামুলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট এখন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কেরাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিকভাবে আধুনিক ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)’র পুরো জীবনটাই ছিল কুরআন-সুন্নাহর জীবন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণে তিনি ছিলেন অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। তাঁকে অনুসরণ করলেই আল্লাহ ও তার রাসুল (স.)কে পাওয়া যাবে।
মাওলানা মোহাম্মদ মাশহুদ ইকবাল কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আলোচনায় বলেন, ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মানব জাতির শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।
মাওলানা মোহাম্মদ মাশহুদ ইকবাল ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)’র কর্ম জীবনের বিভিন্ন দিক কুরআন ও হাদিসের আলোকে বলেন, নবী রাসুলগণ মৌলিক চারটি নীতিকে লক্ষ্য করে আল্লাহর বিধান প্রচার করেছিলেন। তিনি পবিত্র কুরআনের ছুরা জুম্মার আয়াত উল্লেখ করে বলেন, নবী রাসুলগনের তাবলিগের প্রচারের মধ্যে ছিল আল্লাহর বাণী বিশুদ্ধভাবে পাঠ করে শোনানো, মানুষের অন্তরকে অপবিত্র থেকে পবিত্র করান, আল্লাহর কিতাবের সঠিক মর্মার্থ বুঝিয়ে দেওয়া এবং হিকমাহ তথা “সুন্নাহ ও ফিকহ” এর জ্ঞান প্রদান করা। ফুলতলী ছাহেব কিবলাহর তাবলীগী জীবনে এ চারটা খেদমত পালনে এক বিরামহীন প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। তিনি ছিলেন এক মকবুল অতি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন কারী ও বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াতে নিবেদিত শিক্ষক ও খাদিম। তিনি ছিলেন ইলমে তাসাউফের সঠিক প্রশিক্ষক, কুরআন সুন্নাহার সঠিক মর্ম অনুধাবনকারী বিশে-ষণ ক্বারী। ছিলেন উচ্চ পর্যায়ের মুহাদ্দিস ও উস্তাদ। তার কর্ম জীবনের প্রতি লক্ষ্য করলে সত্যিকার একজন ওয়ারাছাতুল আম্বিয়ার অনুসরণ বা কর্ম পরিলক্ষিত হয়। তার কর্ম জীবনটা উলামাদের জন্য তাবিলগী খেদমতে মাইল ফলক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

মাওলানা মোহাম্মদ মাশহুদ ইকবাল বলেন, তিনি আমরু বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের খেদমতে এক বিপ্ল¬বী ভূমিকা পালন করে গেছেন। বিশুদ্ধ তেলাওয়াত, আহলুস সুন্নাত জামাতের আকিদায়, আমলিয়াতে যে সকল বিভ্রান্তি ও মহব্বতে রাসুল দেখাতে গিয়ে বেদাতী কার্য্যকলাপের বিরুদ্ধে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে গেছেন। যুগান্তকারী তার তাবলীগী সংস্কারের কারণে তাকে যুগের মুজাদ্দিদ বলে আখ্যায়িত করা যায়। তার দীনি খেদমত বর্তমান দুনিয়ায় মুসলিম জাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। এজন্য তাকে মুসলমানগণ “ছাহেব কিবলা” বলে আখ্যায়িতত করেছেন। আলোচনা ও মিলাদ শরীফ শেষে ছাহেব কিবলার নছিহতগুলো পাঠ করে শোনানো হয়।
পরে মুসলিম উম্মা ও বিশ্ব মানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। বিপুল সংখ্যক মুসল্লী মাহফিলে যোগ দেন।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030