আসলামের কলাম : আর্জেন্টিনা-জার্মানি ফাইনাল!
গ্রুপ পর্বে যতই অঘটন ঘটুক না কেন। বিশ্বকাপ ফুটবলে অনেকদিন পর যোগ্য চারদলই শেষ চার অর্থাৎ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। ব্রাজিল লড়বে জার্মানির বিপক্ষে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে। চার দলই যোগ্যতার প্রমাণ দেখিয়ে এত দূর এসেছে। আমি বিশ্বাস রাখি দুই সেমিফাইনাল দারুণ উপভোগ্য হবে। প্রশ্ন হচ্ছে কোন দুই দল ফাইনালে যাবে। ব্রাজিলবাসীর প্রত্যাশা এবার নিজ দেশে বিশ্বকাপ জেতা। ১৯৫০ সালে আয়োজন করে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট ছিল। শেষ ম্যাচে যেখানে ড্র করলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। সেখানে উরুগুয়ের কাছে দুর্ভাগ্যক্রমে হেরে যায়। সত্যি বলতে কি ব্রাজিল এবার যে দল তাতে বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য রয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ভাগ্যের জোরে চিলিকে হারালেও ব্রাজিলের খেলার মধ্যে ছন্দ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। আস্তে আস্তে তারা জড়তা কাটিয়ে উঠছিল। কিন্তু এখন অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীর শঙ্কা তারা ফাইনালে উঠতে পারবে কিনা। দলের দুই নির্ভরযোগ্য তারকা অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা ও নেইমার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অনুপস্থিত থাকছেন। নেইমার ছিলেন ব্রাজিলের আশা-ভরসার প্রতীক। গ্রুপ পর্বে চার গোল দিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দেন। নিজে খেলছিলেন সতীর্থদের খেলাচ্ছিলেন। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ফাউলের শিকার হয়ে তার বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিল আছে কিন্তু নেইমার নেই। ব্রাজিলের যারা সমর্থক না তারাও এটা মেনে নিতে পারছেন না। নেইমারের মতো তারকা তো আছেই হলুদ কার্ড দেখার অপরাধে অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা সেমিতে নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছেন। লক্ষ্য করলে দেখবেন ব্রাজিল সেমিতে উঠলেও এবার বিশ্বকাপে তাদের রক্ষণভাগ ততটা সক্রিয় নয়। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু সিলভা। প্রতিপক্ষদের একাই সামাল দিয়েছেন। তিনি ছাড়া সেমিতে তাদের রক্ষণভাগ কেমন করবে সেটাই দেখার বিষয়। জানিনা কোচ স্কলারি নেইমার ও থিয়াগো মানের কোনো খেলোয়াড়কে নামাতে পারবেন কিনা। সেমি মানেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। সুতরাং কে জিতবে বলা মুশকিল। কিন্তু তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানরা যে অভিজ্ঞসম্পন্ন দল তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখে। এবার বিশ্বকাপে জার্মানি একমাত্র দল যাদের খেলার ভিতর ধারাবাহিকতা রয়েছে। কোনো ম্যাচে খুব ভালো খেলেনি আবার খারাপও খেলছে না। প্রতিম্যাচে সামঞ্জস্যতা আছে। যেমন রক্ষণভাগ তেমন আক্রমণভাগ। এমন ব্যালেঞ্জ দলের সামনে নেইমার ও থিয়াগো ছাড়া সুবিধা করার কথা নয় স্বাগতিকদের। ব্রাজিলের বাড়তি সুবিধা নিজস্ব মাঠ ও সমর্থক। কিন্তু নেইমার আর থিয়াগোকে ছাড়া এমনিতেই ব্রাজিল টেনশনে থাকবে। তারপর আবার স্বাগতিকরা চাপেও থাকে।
এ অবস্থায় আমি সেমিতে জার্মানির সম্ভাবনা দেখছি। এক্ষেত্রে জার্মানির প্রতিপক্ষ কে হবে? আমি বলব এখানে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা বেশি। কোনো সন্দেহ নেই নেদারল্যান্ডস যোগ্যতার প্রমাণ দেখিয়ে এত দূর এসেছে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তাদের খেলার ভিতর সেই ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স জ্বল জ্বল করছিল। কিন্তু নকআউট ও কোয়ার্টারে তা দেখা যাচ্ছে না। রোবেন অসাধারণ খেলছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার সামনে একা কি করবেন। আর্জেন্টিনার প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে তারা ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাদের রক্ষণভাগও সচল ছিল। তবে ডি মারিয়ার মতো ফুটবলারকে মাঠে পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। মেসির পর তাকেই আমি আর্জেন্টিনার নির্ভরযোগ্য তারকা বলব। কিন্তু নেইমার আর মারিয়াকে এক পাল্লায় ফেললে চলবে না। হিগুয়েন বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলও করেছেন এবং নিজের ফর্ম তুলে ধরেছেন। সুতরাং ডি মারিয়া না থাকলেও আর্জেন্টিনা ভেঙে পড়বে না। আমি মনে করি মেসি যদি তার জাদুকরী নৈপুণ্য ধরে রাখতে পারে আর সতীর্থরা ঠিকমতো বুঝে শুনে খেলতে পারলে নেদারল্যান্ডসকে ভালোভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠা সম্ভব। তবে আমি কিন্তু নিশ্চিত করে বলছি না আর্জেন্টিনা জার্মানিই ফাইনাল খেলবে। চার দলের সদ্য পারফরম্যান্স বিচার করে এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলাম।বাংলাদেশ প্রতিদিন
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan