Friday, 24 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

আড়াই বছর পর মা-ছেলের আবেগময় মিলন:কান্না কাতরকণ্ঠে তারেক,আম্মা আপনি কেমন আছেন?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 67 বার

প্রকাশিত: May 16, 2011 | 3:02 AM

সালেহ শিবলী/কাফি কামাল: মা ও ছেলে। আড়াই বছর দেখা হয়নি, তবে মনে মনে দেখা হয়েছে সব সময়েই। এ এক গভীর নাড়ির বন্ধন। সেই বন্ধন ছাপিয়ে যায় অন্য সব পরিচয়। একজন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, অন্যজন তার বড় ছেলে লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দু’জনের এ এক গভীর আবেগময় স্নেহসিক্ত মিলন। মাঝখানে কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। দেশের এক কলঙ্কময় রাজনৈতিক সময় হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্বে সরিয়ে রেখেছিল মা-ছেলেকে। আইনি বাধ্যবাধকতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দূর দেশে গুমরে মরেছেন পুত্র তারেক রহমান। উদভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজ দেশেই পরিবার-পরিজনহীন নিঃসঙ্গ দিন কাটিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে দু’জনের। কখনও মা ছেলের, আবার কখনও ছেলে খোঁজ-খবর নিয়েছেন মায়ের। কিন্তু মায়ের হাতের ছোঁয়া পাননি ছেলে আর ছেলেকে স্নেহমাখা বুকে জড়িয়ে আদর করতে পারেননি মা। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক পরিবারের একটি এ জিয়া পরিবারের ট্র্যাজেডিতে বেদনার্ত হয়েছেন পুরো দেশবাসী। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লণ্ডন সময় রাত ১০টায় অবসান ঘটে সে বেদনাময় প্রতীক্ষার। একত্র হন মা খালেদা জিয়া ও ছেলে তারেক রহমান। হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সাউথ লণ্ডনের পার্ক লেনের অভিজাত হোটেল গ্রসভেনর হাউজ প্রাঙ্গণে পৌছেন খালেদা জিয়া। আগে থেকেই হোটেল প্রাঙ্গণে সপরিবারে অপেক্ষা করছিলেন তারেক রহমান। খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ির দরজা খুলতেই শ্বাশুড়িকে স্বাগত জানান ডা. জোবাইদা রহমান। গাড়ি থেকে নেমেই পূত্রবধূকে জড়িয়ে ধরেন খালেদা জিয়া। একই সময় ক্রাচে ভর দিয়ে সামনে এসে দাঁড়ান তারেক রহমান। তারপর সালাম দিয়ে যেন ঝাঁপিয়ে পড়েন মায়ের বুকে। বুকে জড়িয়ে ধরতে ধরতে আবেগঘন কণ্ঠে খালেদা জিয়া বললেন, তুমি কেমন আছো? জবাব না দিয়ে কান্না কাতরকণ্ঠে তারেক রহমানেরও জিজ্ঞাসা, আম্মা আপনি কেমন আছেন? মা-ছেলের এ কথোপকথনে দু’জন কেমন ছিলেন সে প্রশ্নের উত্তর না পেলেও সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দেখেন এক আবেগঘন দৃশ্য। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। এর আগে শনিবার লণ্ডন সময় রাত সোয়া ৮টায় হিথ্রো এয়ারপোর্টে নামেন খালেদা জিয়া। এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে তাকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা ও দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালামসহ অনেকেই। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এ সময় লাউঞ্জের বাইরে শ’শ’ নেতাকর্মীকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম. কয়ছর আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, যুবদল সভাপতি নাছিম আহমেদ চৌধুরীসহ অনেকেই। এয়ারপোর্টের বাইরে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে সেখানে ছিল ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা। এয়ারপোর্ট থেকে খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় সাউথ লণ্ডনের গ্রসভেনর হাউজ হোটেলে। সপ্তাহব্যাপী বৃটেন সফরের পুরো সময় তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। হোটেল প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সে সাক্ষাতের পর নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে চলে যান। হোটেল সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে হোটেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে সময় কাটান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় নাতনি জায়মা রহমানকে দীর্ঘ সময় বুকে আগলে রাখেন খালেদা জিয়া। বারবার তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এ সময় পরিবার, দল ও দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে রীতিমতো পারিবারিক বৈঠক জমে ওঠে। বিএনপি চেয়ারপারসন সূত্র জানায়, সফরসূচির অংশ হিসেবে রোববার হোটেলের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি কর্মীসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া সফরে তিনি বিরোধীদলীয় লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যাণ্ড, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেন ডানকান, বৃটিশ অল পার্লামেন্টারি গ্রুপসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন হাউজ অব লর্ডসের একটি মধ্যাহ্নভোজ, মানবাধিকার বিষয়ক একটি সেমিনার ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে। এছাড়াও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জোর তৎপরতাও চলছে লণ্ডন বিএনপি ও দলীয় কূটনীতিকদের তরফে। এছাড়া বৃটিশ পার্লামেন্টের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারপারসন অ্যান মেইন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুতফুর রহমানের দেয়া দু’টি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। ২১শে মে বৃটেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে ২৭শে মে রওনা হয়ে ২৯শে মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। উল্লেখ্য, ওয়ান ইলেভেনের পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। একাধিক মামলায় রিমাণ্ডে নিয়ে মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হয় তাকে। চিকিৎসার জন্য জামিনে ছাড়া পান ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর। এরপর সপরিবারে লন্ডন যান তিনি। মায়ের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়েছিল সেদিনই হাসপাতালে। এক ডজনের বেশি মামলা মাথায় নিয়ে এরপর থেকে লন্ডনেই রয়েছেন তারেক রহমান। গত নির্বাচনের পর খালেদা এই প্রথম যুক্তরাজ্য গেছেন। এদিকে বিমানবন্দরের ভেতরে খালেদা শুভেচ্ছাসিক্ত হলেও বাইরে বিক্ষোভ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল কালো পতাকা। খালেদার গাড়ি বিমানবন্দর ছাড়ার পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও বাঁধে। পুলিশ সেখান থেকে যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। বিমানবন্দরে সংঘাতের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে যুক্তরাজ্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তৈমুছ আলী বলেন, এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাই প্রমাণ করে, তারা বিএনপির জনপ্রিয়তায় ভীত। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক সংঘাতের জন্য বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করে বলেন, বিএনপি যুক্তরাজ্য শাখাতে কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের গ্রুপিংয়ের কারণেই এয়ারপোর্টে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV