Friday, 24 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

ইউএস চেম্বারের মধ্যাহ্ন ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা:যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চাই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 144 বার

প্রকাশিত: September 21, 2011 | 1:34 AM

 ইউএসএ নিউজ  ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ মঞ্জুর করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য বন্ধুপ্রতিম মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে নিউইয়র্কের এশিয়া সোসাইটি অডিটরিয়ামে ইউএস চেম্বার ও এশিয়া সোসাইটির যৌথ আয়োজনে এক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের ওপর বর্তমান উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার হলে তা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমাজ পরিবর্তন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের ৮৫ শতাংশ শ্রমিকই নারী। তাদের অবদান শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা এবং সার্বিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করছে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ম্যানুফ্যাকচারিং, ব্যাংক, বীমা সার্ভিস, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, আইসিটি পণ্য ও সার্ভিস, গার্মেন্ট, ফার্মাসিউটিক্যালস ও সিরামিক খাতে আরও বিনিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আপনারা আপনাদের ব্যবসা নিয়ে স্বস্তি ও আরাম বোধ করবেন_ সেই গ্যারান্টি দেওয়ার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেবে আমার সরকার। বাংলাদেশে আপনাদের উপস্থিতিতে আমরা পারস্পরিকভাবে লাভবান হব। আপনারা পাবেন মুনাফা আর আমরা পাব উন্নয়ন ও অগ্রগতি। ইউএনবি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সস্তা দামের শ্রম, কৌশলগত অবস্থান এবং বিশ্ব নেতৃস্থানীয় কনসালটিং ফার্মগুলোর কাছে প্রশংসিত ইতিবাচক বিনিয়োগ পরিবেশ বাংলাদেশ ও এখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য
‘উইন উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন বিনিয়োগ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এশিয়া সোসাইটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের আন্তরিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীরতর করতে ইউএস চেম্বার অব কমার্সও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশ। আমাদের রফতানির ঝুড়ি সম্প্রসারিত হচ্ছে, রফতানি প্রবৃদ্ধিও বেড়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ, সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ। বর্তমানের বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য স্থান। দেশের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের ৯০ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে।
তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত। ভারত এবং চীনের নিকটবর্তী। এ কারণে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নীতির উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সড়ক, রেল, নৌ এবং আকাশপথ যোগাযোগ স্থাপিত হওয়া মাত্র বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যের কেন্দ্রে পরিগণিত হবে। বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ১৫ কোটি মানুষের বাজার রয়েছে। জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ৪০ বছরের নিচে। ফলে বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলকভাবে শিল্প শ্রম পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপানসহ অন্যান্য উন্নত দেশে আমাদের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকায় বাংলাদেশ বিনিয়োগের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বেশ কিছু বিনিয়োগবান্ধব নীতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমানভাবে বিবেচনা করা। জাতীয়করণ ও দখলচ্যুত করার বিরুদ্ধে আইনি নিরাপত্তা, মূলধন ও লভ্যাংশ সরিয়ে নেওয়ার নিশ্চয়তা।
আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরসহ গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, রেলপথ, মনোরেল, মহাসড়কের মতো অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের নীতি অনুসরণ করে থাকে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অংশীদারিত্বে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। তিনি সিটি গ্রুপের সহায়তায় ‘সিটি ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস’ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন।
২০১১ সালের ‘গ্গ্নোবাল ইকোনমিক রিভিউ’র মতে বাংলাদেশ থ্রিজি দেশগুলোর মধ্যে একটি। যেখানে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিয়ে থাকে। গোল্ডম্যান সাক্স বাংলাদেশকে ‘নেক্সট ইলেভেন’; জেপি মরগ্যান ‘ফ্রন্টিয়ার ফাইভ’; স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর এবং মুডির তালিকায় ভারত ছাড়া বাংলাদেশ সফল দক্ষিণ এশীয় দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য, খাদ্য, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে আমি আনন্দিত।
মার্কিন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং এফবিসিসিআই সভাপতি এ. কে. আজাদ মধ্যাহ্ন ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন।পরিবেশের রুদ্ররোষ থেকে
ধরিত্রীকে রক্ষা করুন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশের রুদ্ররোষ থেকে ধরিত্রীকে রক্ষা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নিজ নিজ দায়-দায়িত্ব মাথায় নিয়ে আর কোনো পাল্টা অভিযোগ না তুলে তিনি তাদের এ ব্যাপারে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল নিউইয়র্কের শেরাটন হোটেলে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টদের আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক এক সংলাপে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আন্তরিকভাবে আশা করেন ডারবান জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নির্গমন হ্রাসের ব্যাপারে আইনগত বাধ্যবাধকতার বহুল প্রত্যাশিত চুক্তি সই হবে। তিনি বলেন, অভিন্ন ও ভিন্ন স্বার্থের মূলনীতির ভিত্তিতে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই কার্বন নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।
ডারবান সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ৫টি অঙ্গীকার প্রত্যাশা করেন। এগুলো হচ্ছে_ ১. অভিযোজন, নিবৃত্তি (মিটিগেশন), অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর। এ চারটি স্বীকৃত কর্মকৌশলের ওপর পরিবেশ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার বৈশ্বিক চুক্তি, ২. বর্তমান প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যতের অগ্রাধিকার মেটাতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অভিযোজন ও মিটিগেশন, ৩. অভিযোজন ও মিটিগেশনের কাজে প্রযুক্তি হস্তান্তর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন, ৪. ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বাড়তি সমর্থন ও ৫. গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডকে যথা শিগগির সম্ভব সক্রিয় করা যাতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন তহবিল মেটানো সম্ভব হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের উত্তাপ বাড়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এর প্রভাবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে। সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা ডুবে যাবে। ফলে ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সে কারণে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসাডর অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সাউথ সাউথ
পুরস্কারে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে তাকে ‘সাউথ সাউথ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
জাতিসংঘ ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, জাতিসংঘে এন্টিগুয়া-বারমুডার স্থায়ী মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ও সাউথ সাউথ নিউজ যৌথভাবে এ পুরস্কারের আয়োজন করে। এ বছর এ পুরস্কারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’।
আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামাদুন টোরে নিউইয়র্কের ওয়ালডর্ফ এস্টোরিয়া হোটেলে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে এ হোটেলেই থাকছেন।
ডোমেনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লিওনেল ফার্নান্ডেজ, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামি, সেনেগালের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ওয়াদে এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের ভাইস চেয়ারম্যান শেরি এনসিকয়কেও একই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কার প্রদানকালে ড. হামাদুন টোরে বলেন, নারী ও শিশুর কল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের একটি বাণী পড়া হয় এবং অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি নাসির আবদুল আজিজ আল নাসের বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এতে যোগ দেন।
পুরস্কার গ্রহণ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটি বাংলাদেশের জনগণ ও তার সরকারের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। তিনি এ পুরস্কার দেশের জনগণকে উৎসর্গ করে বলেন, তার সরকার প্রযুক্তির উৎকর্ষ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আগামী এক দশকের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসাপত্র দেওয়া হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এটি অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় যে, ‘আমরা দক্ষিণের বন্ধুদের কাছ থেকে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। এ স্বীকৃতি আমাদের ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনের দিকে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. রুহুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নদী ড্রেজিংয়ে কুয়েতের সহায়তা কামনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীর নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিংয়ে কুয়েতের সহায়তা কামনা করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনের পাশাপাশি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ নাসের মোহাম্মদ আল-আহম্মদ আল-সাবাহ সোমবার রাতে জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, নদীগুলোর নাব্যতা বজায় রাখতে তার সরকার ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ নামে ১৫ বছর মেয়াদি একটি বিশাল প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতিসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে।সমকাল

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV