‘উইকিলিকস যুদ্ধে’ নেমেছে হাজারো হ্যাকার
|
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: গোপন মার্কিন কূটনৈতিক দলিল ফাঁস করা ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে জেলে পুরেও শান্তিতে নেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। অ্যাসাঞ্জের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘কাজে’ নেমে পড়েছে বিশ্বব্যাপী হাজারো হ্যাকার। ব্যাংক, সরকারি অফিস, সামরিক গোপন, স্পর্শকাতর নানা দলিল ফাঁস করে দিচ্ছে তারা।এসব হ্যাকার এখন উন্নত দেশগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবিসি জানায়, অজ্ঞাতনামা হ্যাকারদের একটি গ্রুপ এ কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে, ‘উইকিলিকসের যুদ্ধ শেষ হয়নি।’ উইকিলিকসের বিরোধী সংগঠনগুলোকেই তারা তাদের সাইবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। হাজারো হ্যাকার এ ‘তথ্যযুদ্ধে’ শরিক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার এদের আক্রমণের শিকার হয়েছে ভিসা ও মাস্টার কার্ড। এ দু’টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তছনছ করে দিয়েছে হ্যাকাররা। ফলে অর্থ লেনদেন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ‘অপারেশন পে ব্যাক’ নামের একটি ক্যাম্পেইন থেকে এ কাজ করা হয়েছে। তাদের অপরাধ-তারা উইকিলিকসের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। এসব সাইবার আক্রমণ মনিটরিং করছেন নিরাপত্তাবিষয়ক একটি ফার্মের পল মাটন। তিনি বলছেন, মাস্টার কার্ডে আক্রমণ চালিয়েছে ৪০০ হ্যাকার। অন্যদিকে ভিসায় ২০০০ হ্যাকার হামলা চালায়। উইকিলিকসের অনলাইন ডোনেশনের লেনদেন বন্ধ করে দেয়া পেপ্যালও আক্রমণের তালিকায় রয়েছে। একইভাবে, অ্যাসাঞ্জের একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া সুইস ব্যাংক ‘পোস্ট ফিন্যান্স’ও হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। গতকাল সকালে হামলার মুখে পড়ে সুইডেন সরকারের ওয়েবসাইট। হামলা চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেত্রী সারাহ প্যালিনের ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড একাউন্টেও। এ কাজে জড়িতরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ‘অজ্ঞাতনামা’ আন্তর্জাতিক গ্রুপ হিসেবে। তারা যে আক্রমণ চালাচ্ছে তার একটি নামও রয়েছে। এটি হচ্ছে- ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনাইয়াল অব সার্ভিস।’ রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এ গ্রুপটি কী? কারা এতে জড়িত? একজন না অনেকজন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বুধবার ওই ‘অজ্ঞাতনামা’ গ্রুপের এক মুখপাত্র কথা বলে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে। নিজের পরিচয় দেয় ‘কোল্ডব্লাড’ বলে। বয়স ২২। পেশায় কম্পিউটার প্রোগ্রামার। থাকে লন্ডনে। সে জানায়, সরকারের চাপের কাছে যেসব ওয়েবসাইট নতিস্বীকার করেছে, সেগুলোই তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। সংগঠন হিসেবে ইন্টারনেটে সেন্সরশিপ আরোপের বিপক্ষে এবং অবাধে মতপ্রকাশের পক্ষে আমাদের জোরালো অবস্থান রয়েছে। কেউ যদি কোন প্রকারে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আমরা তার বিরুদ্ধে কাজ করবো। তার মতে, উইকিলিকস শুধু তথ্য ফাঁসই করেনি। এটি একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে জনতা বনাম সরকার যুদ্ধ চলছে। হুমকি দিয়ে সে বলে, উইকিলিকসের ওপর যারা সেন্সর আরোপ করতে চায়, তারা যত বড়ই হোক আমরা সব ‘জ্বালিয়ে’ দেব। ভালোর জন্যই তারা কাজ করছে বলে তার দাবি। ‘অজ্ঞাতনামা’ গ্রুপটির বেশির ভাগ সদস্যই উঠতি বয়সী টিনেজ। গ্রুপে বড়রাও আছে, আছে আইটি বিশেষজ্ঞরা। ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে সময় সুযোগ মতো গ্রুপের কাজ চালা তারা। এ গ্রুপের কোন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। সমমনারা এক হয়ে এক উদ্দেশ্যে কাজ করে চলেছে মাত্র। গ্রুপটির জন্ম ২০০৩ সালে। গ্রুপটির সদস্যদের কখনই ধরা সম্ভব নয়।
|
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি