এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট : বাংলাদেশে পুলিশই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিবাজ
ডেস্ক: বাংলাদেশে পুলিশই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিবাজ। সে দেশের জনগণ সরকারের চেয়ে পুলিশকেই বেশি ঘুষ দেয় বলে এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। রিপোর্টে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, জোরপূর্বক বিভিন্ন উপায়ে ক্ষমতার অপব্যহারের জন্য বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বেশ দুর্নাম রয়েছে। তারা বর্তমান এবং পূর্বের সব ক্ষমতাসীন সরকারের ভাড়াটে বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশের পুলিশ সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং নির্যাতনের আধার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশের মধ্যে দুর্নীতি চেইন অব কমান্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়ে উঠেছে। যে কোন অপরাধে বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে পুলিশের অব্যাহত ব্যর্থতাই দেশের ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, পুলিশকে ক্ষমতাসীন এলিটদের আজ্ঞাবহ করে রাখতেই সরকার পুলিশ বাহিনীর বেতন খুব কম ধার্য করে রেখেছেন। এটাই তাদের জন্য মহাসুযোগ হিসেবে কাজ করছে এবং এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ঘুষ দাবি এবং গ্রহণ করেন। বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সম্পদ এবং তাদের প্রকৃত আয়ের বৈষম্যই তাদের অবৈধ আয়ের প্রমাণ এবং পুলিশ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যকার যোগসাজশের ইঙ্গিত বহন করে। সাধারণ জনগণের কাছে পুলিশ হচ্ছেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে দৃশ্যবান এবং ক্ষমতাবান উপস্থিতি। গ্রাম বা শহর সবখানেই তারা দৈনিক ভিত্তিতে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে থাকেন। সারধারণ মানুষ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ করতে ঘুষ দেন, অন্যায়ভাবে তারা পুলিশের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে ঘুষ দেন, কোন অভিযোগের সাক্ষী হিসেবে কারও নাম জুড়ে দিতে বা বাদ দেয়াসহ এ ধরনের নানা কাজে জনগণ পুলিশকে ঘুষ দিয়ে থাকেন। কখনও কখনও জনগণ কোন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য ঘুষ দেন আবার কখনও সন্দেহভাজন অপরাধী হাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও পুলিশকে ঘুষ দিয়ে থাকেন। অভিযোগকারী পুলিশি তদন্তে প্রতিপক্ষের কোন ব্যক্তির নাম জুড়ে দেয়ার জন্য পুলিশকে ঘুষ দেন আর প্রতিপক্ষ অভিযোগ থেকে নিজের নাম বাদ দেয়ার জন্য পুলিশকে ঘুষ দেন। বাংলাদেশে আলামত নামে পরিচিত অপরাধ তদন্তের প্রমাণ আদালতের কাছে জমা দেয়ার আগে জনগণ সেটা সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের জন্য পুলিশকে ঘুষ দেন। কোন ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সেটা যদি পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় তাহলে আত্মীয়স্বজন বা যারা এ ব্যাপারে আগ্রহী তাদেরকে ওই লাশ ছাড়ানোর জন্য পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ ছাড়া কেউই পুলিশের তদন্ত আশা করতে পারেন না। একই পরিমাণ অর্থ বা অনেক সময় বেশি অর্থই হাসপাতালকে দিতে হয়। ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফুটপাত, রাস্তাঘাট বা উন্মুক্ত পার্কে যেসব হকার ফেরি করে বাদাম বা চকোলেট বিক্রি করেন তাদেরকেও নিয়মিত পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। অন্যথায় পুলিশ তাদের মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করে। একইভাবে অবৈধ মাদক বিক্রেতা বা অস্ত্র ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসা বহাল রাখতে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে থাকে। রাস্তায় যান চলাচলের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তারা গাড়িচালক এবং পরিবহন মালিকেদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেন এবং তা নিয়ে থাকেন। সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে কোন মামলা যদি করতে হয় তাহলে অভিযোগকারীকে পুলিশেকে অবশ্যই ঘুষ দিতে হবে। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যদি বেশি ঘুষ দেন তাহলে পুলিশ ইচ্ছে করলে সেই মামলার অভিযোগ হালকা করে বা বাদ দিয়ে দিতে পারেন। বেশির ভাগ পুলিশ কর্মকর্তাই তাদের আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অধিকারী। অনেক কর্মকর্তাই আবার ঝামেলা এড়াতে তাদের আত্মীয়স্বজনের নামে এসব সম্পত্তি ভোগদখল করেন। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস বলেছে, দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে সরকার জনগনের এ দুভ্যাগ সম্পর্কে তেমন উদ্বিগ্ন নন। এসব কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা কখনও ভেবে দেখেন না যে তাদের আয়েশি জীবনযাপনের নেপথ্যে মিশে রয়েছে সাধারণ মানুষের দুঃখ, কষ্ট আর রক্ত। পুলিশের এসব অর্থেই হয়তো রয়েছে সাধারণ মানুষের রক্ত, ঘাম, চোখের পানি, দীর্ঘশ্বাস আর অভিশাপ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে অবশ্যই বিষয়টিকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ বাহিনীর এ প্রশাসনিক তৎপরতার অবসান ঘটাতে হবে। বাংলাদেশ যদি এর পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কার না আনে, একে একটি পেশাদার সংস্থায় পরিণত করে একটি আধুনিক গণতন্ত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী একে সজ্জিত এবং জনগণের সেবার জন্য প্রশিক্ষণ না দেয় তাহলে সাধারণ মানুষের আর কোন আশা থাকবে না। এসব করা না হলে ন্যায় বিচার, সমতা এবং সুষ্ঠু বিচার বাংলাদেশে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








