এশিয়া সফরের উদ্দেশে ওবামা সস্ত্রীক ভারতে পৌঁছবেন আজ

পরিতোষ পাল, ভারত থেকে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আজই সস্ত্রীক এশিয়া সফরের উদ্দেশে ভারতে এসে পৌঁছবেন। তার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান মুম্বইয়ের মাটি ছোঁবে দুপুর নাগাদ।
মুম্বইয়ের তাজ হোটেল ও সংলগ্ন স্থানকে দুর্গ এলাকায় পরিণত করা হয়েছে। নজরদারির তালিকা থেকে বাদ যায়নি পয়ঃপ্রণালী ও ম্যানহোলও। তার এশিয়া সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওবামা গত বৃহস্পতিবারই সফরের আগে শেষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধানত বাজার ধরাই তার এই সফরের লক্ষ্য। তার কথায়, এশিয়ার বাজার ধরা এবং ফলস্বরূপ আমেরিকায় কাজ তৈরি করাই তার সফরের মূল লক্ষ্য। ভারতেও যে তিনি সামরিক ও বাণিজ্যিক পণ্যের বাজারের সন্ধান করবেন সেটা একরকম নিশ্চিত। চমকপ্রদ ঘোষণাও ওবামার কাছ থেকে শোনা যেতে পারে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা। তবে ওবামার সফরের ঠিক দু’দিন আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ, প্রতিবেশী দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ, এশিয়ার সার্বিক সুস্থিতি, নিরাপত্তা এবং উন্নতির বিষয়গুলো নিয়ে ওবামার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন। আউটসোর্সিং নিয়ে ওবামা সফরের আগে কিছু না বললেও ভারত যে আলোচনায় বিষয়টি তুলবে সেটা স্পষ্ট হয়েছে পররাষ্ট্র সচিবের কথা থেকে।
এদিকে নয়া দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে রোববার ওবামা দম্পতি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও তার পত্নী গুরশরণ কাউরের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈশভোজে মিলিত হবেন। সখ্যের টানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈশভোজে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে মতেই প্রধানমন্ত্রীর ১০ নম্বর রেসকোর্সের বাসভবনে এখন চলছে গৃহিণীর চরম ব্যস্ততা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জি-২০ বৈঠকের সময় মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ওবামার পরিচয়। তারপর থেকে সেই পরিচয় লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এ কথা মার্কিন প্রশাসনের কর্তারাও জানিয়েছেন। তবে মিশেলকে সঙ্গে করে ওবামা একান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ- আলোচনার সুযোগ তেমন পাবেন না। কেননা, ওবামার সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজ ব্যক্তিগত আর থাকছে না। কেননা, এতে যোগ দিতে মন্ত্রী থেকে আমলা সবারই এত আগ্রহ যে, আমন্ত্রিতদের তালিকা ৭০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। এখন সেই তালিকা দীর্ঘ হতে হতে এক শ’ ছাড়িয়ে গেছে। তবে ওবামার সফরে ভারতের কি প্রাপ্তি ঘটবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে নানা বিতর্ক। কেউ বলেছেন, ভারতের পাওয়ার আশা তেমন কিছু নেই। আবার অনেকে ওবামার মুখ থেকে চমকপ্রদ ঘোষণা শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নটবর সিং বলেছেন, ওবামার সফর থেকে চমকপ্রদ কিছু আশা করা বৃথা। ভারতও খুব বেশি কিছু আশা করছে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, সব কিছু ইতিমধ্যেই কাগজে-কলমে হয়ে গেছে। তাই দুই নেতার মধ্যে কোন মতপার্থক্যও দেখা দেবে বলে মনে হয় না। তবে দুই নেতা যখন একান্তে মিলিত হবেন, তখন চীন, পাকিস্তান, কাশ্মীর, আফগানিস্তানসহ সব বিষয়েই আলোচনা করবেন বলে মনে করছেন নটবর সিং। এটা ঠিক যে, ভারতের চেয়ে আমেরিকাই অনেক কিছু পেতে আগ্রহী এই সফর থেকে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা যেমন সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে, তেমনি ভারতকে অস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে যেসব বাধা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলোকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হতে পারে। বাণিজ্যিক সম্পর্কের নিরিখে আমেরিকার কাছে ভারতের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মন্দার বাজারেও ভারতই আমেরিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। ভারতের এই বিনিয়োগের ফলে আমেরিকায় ৫৭ হাজার চাকরিরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গত সাত বছরে ভারতে আমেরিকার রপ্তানি চার গুণ বেড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। গত এক বছরে সারভিস রপ্তানিও তিন গুণ বেড়ে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এই বাণিজ্য আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে ওবামার এই সফরে। আর তাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গী বিশাল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আশায় সময় গুনছেন। এদিকে ওবামা ভারতে আসার আগেই তার নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কয়েকবার মহড়া হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন ফাঁকফোকর রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়ে নিয়েছেন। ওবামার নিরাপত্তায় কিনা রয়েছে। সামরিক বিমান এমনকি উপগ্রহও ব্যস্ত থাকছে নিরাপত্তার নজরদারিতে। থাকছে শার্প শুটার থেকে স্নিপার ডগও।
মুসলিমদের ক্ষোভ: মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে মুসলিমদের একাংশ। গতকাল লক্ষ্ণৌয়ে অল ইন্ডিয়া পারসোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা কালবে জাওয়াদের নেতৃত্বে হাজার খানেক মুসলমান ওবামার সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। ‘ওবামা ফিরে যাও, মুসলমানদের বিরক্ত করো না’ প্রভৃতি লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল বিক্ষোভকারীদের হাতে। এদিন জুম্মার নামাজের শেষে বড় ইমামবাড়ার সামনে জড়ো হয়ে মুসলিম জনতা এই বিক্ষোভ দেখায় বলে লক্ষ্ণৌয়ের পুলিশ জানিয়েছে। মাওলানা জাওয়াদ বলেন, ইসরায়েল ও আমেরিকা দুই-ই মুসলমানদের শত্রু। তাই তাদের সম্পর্কে ভারত সরকারের নীতি বদলের আরজি জানান তিনি। তিনি আরও বলেছেন, ওবামার সফরে ভারতের কোন লাভ হবে না। বিক্ষোভ সমাবেশে কোন অশান্তি না হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেশ কয়েকটি কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।
বামরাও বিক্ষোভ দেখাবেন : ওবামার সফরে ভারতের বাম দলগুলো দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। দিল্লির বুকেও বিক্ষোভ দেখানো হবে। তবে সিপিআই এবং সিপিআইএমের চেয়ে কড়া মনোভাব নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক এক সপ্তাহ ধরে সফরের প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে। এমনকি এই দলের এমপিরা সংসদে ওবামার ভাষণ শুনতেও যাবেন না। তাদের মতোই এসইউমিআই-ও ভাষণ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দুই কমিউনিস্ট পার্টি সংসদে গিয়ে ভাষণ শুনবেন বলে ঠিক করেছেন। বামপন্থিরা ভাষণদান কালে সংসদের মধ্যেই ওবামার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অতীতে সংসদের বিশেষ সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণ কমিউনিস্টরা বয়কট করলেও এবার তা না করার সিদ্ধান্তে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সিপিআইএম-র প্রধান প্রকাশ কারাত বলেছেন, তারা চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের মানুষের ভিন্ন মত দয়া করে শুনুন।
নৈশভোজে আমন্ত্রিত আমীর খান: ওবামার সম্মানে রোববার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যে ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেছেন, তাতে আমন্ত্রিত হয়েছেন প্রখ্যাত সুরকার এ আর রহমান এবং বলিউডের অভিনেতা আমীর খান। এরা ছাড়াও নৈশভোজের আমন্ত্রণ গিয়ে পৌঁছেছে অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও তার স্বামী গীতিকার জাভেদ আখতারের কাছেও। শাবানা সেকথা তার টুইটারে জানিয়েও দিয়েছেন। আমন্ত্রিত হয়েছেন দাবার জাদুকর বিশ্বনাথ আনন্দ। ভারতের সবচেয়ে তরুণতম মুখ্যমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লাহও থাকবেন ওবামার সঙ্গে নৈশভোজে। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী এবং যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মন্টেক সিং আলুআলিয়া ছাড়া মন্ত্রিসভার চার সিনিয়র মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, এ কে অ্যান্টনি, পি চিদাম্বরম ও এস এম কৃষ্ণ নৈশভোজে হাজির থাকবেন।
এদিকে নয়া দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে রোববার ওবামা দম্পতি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও তার পত্নী গুরশরণ কাউরের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈশভোজে মিলিত হবেন। সখ্যের টানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈশভোজে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে মতেই প্রধানমন্ত্রীর ১০ নম্বর রেসকোর্সের বাসভবনে এখন চলছে গৃহিণীর চরম ব্যস্ততা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জি-২০ বৈঠকের সময় মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ওবামার পরিচয়। তারপর থেকে সেই পরিচয় লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এ কথা মার্কিন প্রশাসনের কর্তারাও জানিয়েছেন। তবে মিশেলকে সঙ্গে করে ওবামা একান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ- আলোচনার সুযোগ তেমন পাবেন না। কেননা, ওবামার সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজ ব্যক্তিগত আর থাকছে না। কেননা, এতে যোগ দিতে মন্ত্রী থেকে আমলা সবারই এত আগ্রহ যে, আমন্ত্রিতদের তালিকা ৭০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। এখন সেই তালিকা দীর্ঘ হতে হতে এক শ’ ছাড়িয়ে গেছে। তবে ওবামার সফরে ভারতের কি প্রাপ্তি ঘটবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে নানা বিতর্ক। কেউ বলেছেন, ভারতের পাওয়ার আশা তেমন কিছু নেই। আবার অনেকে ওবামার মুখ থেকে চমকপ্রদ ঘোষণা শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নটবর সিং বলেছেন, ওবামার সফর থেকে চমকপ্রদ কিছু আশা করা বৃথা। ভারতও খুব বেশি কিছু আশা করছে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, সব কিছু ইতিমধ্যেই কাগজে-কলমে হয়ে গেছে। তাই দুই নেতার মধ্যে কোন মতপার্থক্যও দেখা দেবে বলে মনে হয় না। তবে দুই নেতা যখন একান্তে মিলিত হবেন, তখন চীন, পাকিস্তান, কাশ্মীর, আফগানিস্তানসহ সব বিষয়েই আলোচনা করবেন বলে মনে করছেন নটবর সিং। এটা ঠিক যে, ভারতের চেয়ে আমেরিকাই অনেক কিছু পেতে আগ্রহী এই সফর থেকে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা যেমন সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে, তেমনি ভারতকে অস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে যেসব বাধা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলোকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হতে পারে। বাণিজ্যিক সম্পর্কের নিরিখে আমেরিকার কাছে ভারতের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মন্দার বাজারেও ভারতই আমেরিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। ভারতের এই বিনিয়োগের ফলে আমেরিকায় ৫৭ হাজার চাকরিরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গত সাত বছরে ভারতে আমেরিকার রপ্তানি চার গুণ বেড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। গত এক বছরে সারভিস রপ্তানিও তিন গুণ বেড়ে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এই বাণিজ্য আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে ওবামার এই সফরে। আর তাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গী বিশাল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আশায় সময় গুনছেন। এদিকে ওবামা ভারতে আসার আগেই তার নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কয়েকবার মহড়া হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন ফাঁকফোকর রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়ে নিয়েছেন। ওবামার নিরাপত্তায় কিনা রয়েছে। সামরিক বিমান এমনকি উপগ্রহও ব্যস্ত থাকছে নিরাপত্তার নজরদারিতে। থাকছে শার্প শুটার থেকে স্নিপার ডগও।
মুসলিমদের ক্ষোভ: মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে মুসলিমদের একাংশ। গতকাল লক্ষ্ণৌয়ে অল ইন্ডিয়া পারসোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা কালবে জাওয়াদের নেতৃত্বে হাজার খানেক মুসলমান ওবামার সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। ‘ওবামা ফিরে যাও, মুসলমানদের বিরক্ত করো না’ প্রভৃতি লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল বিক্ষোভকারীদের হাতে। এদিন জুম্মার নামাজের শেষে বড় ইমামবাড়ার সামনে জড়ো হয়ে মুসলিম জনতা এই বিক্ষোভ দেখায় বলে লক্ষ্ণৌয়ের পুলিশ জানিয়েছে। মাওলানা জাওয়াদ বলেন, ইসরায়েল ও আমেরিকা দুই-ই মুসলমানদের শত্রু। তাই তাদের সম্পর্কে ভারত সরকারের নীতি বদলের আরজি জানান তিনি। তিনি আরও বলেছেন, ওবামার সফরে ভারতের কোন লাভ হবে না। বিক্ষোভ সমাবেশে কোন অশান্তি না হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেশ কয়েকটি কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।
বামরাও বিক্ষোভ দেখাবেন : ওবামার সফরে ভারতের বাম দলগুলো দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। দিল্লির বুকেও বিক্ষোভ দেখানো হবে। তবে সিপিআই এবং সিপিআইএমের চেয়ে কড়া মনোভাব নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক এক সপ্তাহ ধরে সফরের প্রতিবাদে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে। এমনকি এই দলের এমপিরা সংসদে ওবামার ভাষণ শুনতেও যাবেন না। তাদের মতোই এসইউমিআই-ও ভাষণ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দুই কমিউনিস্ট পার্টি সংসদে গিয়ে ভাষণ শুনবেন বলে ঠিক করেছেন। বামপন্থিরা ভাষণদান কালে সংসদের মধ্যেই ওবামার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অতীতে সংসদের বিশেষ সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণ কমিউনিস্টরা বয়কট করলেও এবার তা না করার সিদ্ধান্তে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সিপিআইএম-র প্রধান প্রকাশ কারাত বলেছেন, তারা চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের মানুষের ভিন্ন মত দয়া করে শুনুন।
নৈশভোজে আমন্ত্রিত আমীর খান: ওবামার সম্মানে রোববার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যে ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেছেন, তাতে আমন্ত্রিত হয়েছেন প্রখ্যাত সুরকার এ আর রহমান এবং বলিউডের অভিনেতা আমীর খান। এরা ছাড়াও নৈশভোজের আমন্ত্রণ গিয়ে পৌঁছেছে অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও তার স্বামী গীতিকার জাভেদ আখতারের কাছেও। শাবানা সেকথা তার টুইটারে জানিয়েও দিয়েছেন। আমন্ত্রিত হয়েছেন দাবার জাদুকর বিশ্বনাথ আনন্দ। ভারতের সবচেয়ে তরুণতম মুখ্যমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লাহও থাকবেন ওবামার সঙ্গে নৈশভোজে। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী এবং যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মন্টেক সিং আলুআলিয়া ছাড়া মন্ত্রিসভার চার সিনিয়র মন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, এ কে অ্যান্টনি, পি চিদাম্বরম ও এস এম কৃষ্ণ নৈশভোজে হাজির থাকবেন।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি