Thursday, 19 March 2026 |
শিরোনাম
নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
সব ক্যাটাগরি

ঐশী বনাম অভিযুক্তদের মানবাধিকার

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 142 বার

প্রকাশিত: September 14, 2013 | 10:36 AM

মিনা ফারাহ : শতবর্ষের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম বাঙালি কিশোরীর হাতে বাবা-মা খুন। মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত যেকোনো অভিযুক্তকে সবার আগে তার সাংবিধানিক অধিকার পড়িয়ে শোনানোর বাধ্যবাধকতা পুলিশের। এর পরই অভিযুক্ত সিদ্ধান্ত নেন, কথা বলবেন না চুপ থাকবেন। চুপ থাকার অধিকার বাংলাদেশেও। আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই, তবে ঘেঁটেঘুঁটে যা উদ্ধার করলাম, পেনাল কোডের ১৬৪ ধারায় কোনো রকম জবানবন্দী বের করার আগে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযুক্তের চুপ থাকার অধিকার পড়ে শোনাতে হবে। তারপর যদি সে মনে করে তাহলেই জবানবন্দী দেবে। তবে র‌্যাব-পুলিশ যেভাবে অভিযুক্তদেরকে উপস্থাপন করে মিডিয়ার সামনে একতরফা আদায় করা কথার ফিরিস্তি দিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি অসাংবিধানিক হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নেই। নাটকের সিরিয়ালের মতো যখন টেলিভিশনে দেখানো হয়, ১২ হাজার মাইল দূরে অধমের প্রশ্ন জাগে, র‌্যাব-পুলিশ এত অগ্রিম কথা কী করে জানে, কেন জানে? ঐশীকে কেন্দ্র করে মিডিয়ায় ভোজ্যপণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। তার বয়স ১৭ না ১৯? ঐশী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল! নামাজ পড়ে কী বলছে! বাবা-মাকে মিস করছে! ইত্যাদি। পুলিশ কাস্টডিতে অভিযুক্তদের মানবাধিকারহীনতা এবং আত্মপ সমর্থনের অভাব চায়নাকেও হার মানিয়েছে। বারবার আমরা যখন খুনি ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারের খবর দেখি, তাদের সাথে কোনো উকিল থাকে না। এটা বেআইনি। র‌্যাব-পুলিশ একাই বলে, প্রতিবাদ ছাড়াই অভিযুক্তরা সত্য-মিথ্যা শুনতে বাধ্য। মানবাধিকার হরণের জন্য সরকারের সত্যিই একটি নোবেল পাওয়ার সময় হয়েছে। ঐশী কি বাবা-মাকে খুন করেছে, নাকি সাগর-রুনির মতো অন্য ষড়যন্ত্র? বিষয়টির গোড়া নিয়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নীরব। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আজকাল কোনো সংগঠনের মধ্যেই পড়ে না। ঐশীর বয়স পরীা, মোটিভ ও মাদকসেবনের কাহিনীগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন না তুলে নারী নেত্রীরা দিনরাত চাটাচাটি করছেন তেঁতুল হুজুরের লালা। ওই লালাতে কী মধু তারাই জানেন। খেয়ে যেন কারোই পেট ভরছে না। ঐশীকে টানাহেঁচড়ার যেন শেষ নেই। তার জন্য কথা বলার কেউ নেই। ঐশী একেকবার একেক বক্তব্য দিচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন, এই বক্তব্য ঐশীর না পুলিশের নিজস্ব? ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে দেয়া ঐশীর বক্তব্য নাগরিকদের সন্দেহ আরো তীব্র করে। তিনি বলেছেন, ‘আমি (ঐশী রহমান) এই মামলার আসামি, বিগত ১৭ আগস্ট পল্টন থানায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে আমাকে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে এবং আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে, বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ১৮ আগস্ট আমাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে বলে, আমাদের কথামতো তুমি যদি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সামনে আমাদের শেখানো কথা না বলো, তাহলে তোমাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মেরে ফেলব অথবা ক্রসফায়ারে মেরে ফেলব। আমি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং মৃত্যুর ভয়ে তাদের শেখানো কথা আদালতে গিয়ে বলতে বাধ্য হই। আমার প্রদত্ত জবানবন্দী সত্য নয়। আমি আদালতে দেয়া জবানবন্দী প্রত্যাহারের প্রার্থনা করছি।’ হেফাজত থেকে আনসারুল্লা বাহিনী… ঐশীর এই আবেদন সব নির্যাতিত অভিযুক্তদেরই প্রতিধ্বনি। পুলিশ তার এই আবেদনটি অস্বীকার করতে পারবে না এজন্য যে, রিমান্ডে তখন ঐশীর পে কেউই ছিল না। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় ইরাকের কুখ্যাত ও বহুল প্রচারিত আবুগারিব নির্যাতনকেন্দ্রের মতো বাংলাদেশের রিমান্ডও একটি অবৈধ মানবাধিকার হরণকেন্দ্র, যা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এ বিষয়ে আমরা দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আলোকপাতের আবেদন জানাই। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আদালতের নীরবতা নাগরিকের জানমালের জন্য অশনি সঙ্কেত। অভিযুক্তদের বক্তব্যগুলো মিডিয়ায় সমান সুযোগ দিয়ে প্রচার হয় না। বেশির ভাগ সময়ই রাষ্ট্রপকে বলার যে সুযোগ দেয়া হয় অনেকটাই একতরফা। অন্য দিকে ঐশীর বক্তব্য ড্রাগের আচারের মতো বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে মিডিয়া। প্রতিদিনই আরো মুখরোচক হেডলাইন হচ্ছে ঐশী। তার ঘাড়ে সব দায় চাপিয়ে হাত-পা ধুয়ে ফেলেছেন নাগরিক সমাজ। কেউই আমলে নিচ্ছেন না, ১১০ পাউন্ড ওজনের টিনএজ মেয়ে কী করে এত মোটাতাজা শরীরে ছুরি চালিয়ে এত সহজেই খুন করে ফেলল! অনেকেই বিশ্বাস করলেও সঙ্গত কারণেই আমি তা করছি না। কফির মধ্যে ৫০টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে দিলে কোনো রকম সন্দেহ ছাড়াই বাবা-মা তা পান করে অচেতন হয়ে খুন হয়ে গেলেন? মেয়ের হাতে বাপ-মা খুন এতই সোজা! ঐশীর গায়ে কত শক্তি যে, প্রায় ৪০০ পাউন্ডের দু’জনকে চোখের নিমেষে খুন করে সামাল করে ফেলে? কিংবা মানসিক বৈকল্যও চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর ফরেনসিক তথ্য দিতে পারেনি ডিবি পুলিশ। সুতরাং ৫০টি ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো কফির স্বাদ যে পানযোগ্য নয়, সবার আগে এই প্রশ্নটি করবেন ড. মিজানুর রহমান। কাকতালীয়ভাবে এত রাতে দু’জনই বিষাক্ত কফি দেয়া মাত্রই মহা আনন্দে খেয়ে ফেললেনÑ বলাটা অপপ্রচারই মনে হয়। টিভি ক্যামেরার সামনে বারবার ডিবি যুগ্ম কমিশনারের কোনো বক্তব্য আর বিশ্বাস না হওয়ার কারণ তিনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন। জানি তিনি ক্যামেরা পছন্দ করেন এবং ক্যামেরাও তাকে পছন্দ করে। তার ভাষ্য, ঐশী নিজ হাতে ৫০টি ঘুমের ট্যাবলেট দিয়ে খুন করেছিল। পাশের ফ্যাটেই মানুষ, কেউ শুনল না? ঐশীর বাবা ডাকসাঁইটে পুলিশ অফিসার, যার বহু ধরনের ট্রেনিং আছে। বিশাল দুটো শরীর ঐশী আর সুমির মতো হালকা ওজনের মানুষ কিভাবে বাথরুমে টেনে নিয়ে গেল, এটাও গবেষণার বিষয়। মাতাল হলে ১০ লিটার রক্তই বা কোথায় সামাল দিলো? জাগুলার ভেইন কাটলে মানুষ মরে, ঐশী কী করে জানল? একমাত্র অভিজ্ঞ না হলে এক কোপে জাগুলার ভেইন খুঁজে পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ঐশীর কি খুনের রেকর্ড ছিল? নাকি তাকে কেন্দ্র করে রহস্যজনক পেশাদার খুনিরাই আসল? সাগর-রুনির মতোই এই প্রশ্ন সবাইকে হন্যে করা উচিত। এ কথা বলতে পারি, বাংলাদেশে হত্যার বিচার হয় শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায়। সাগর-রুনির মতোই এই খুনের রহস্য গভীর। ঐশীর চাচা দাবি করেছেন, সে খুন করতে পারে না বরং প্রকৃত খুনির সন্ধান চান। আমরাও চাই যত জঘন্যই হোক, সব অভিযুক্তের আত্মপ সমর্থন ছাড়া একতরফা জবানবন্দীর কালচার পরিহার করে সমান সুযোগের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা হোক। নাটকের মতো পুলিশ কর্মকর্তার গোছানো বক্তব্য সন্দেহজনক। ঐশী কতটা উচ্ছন্নে গেছে সে কথা ডিবি নয়, বরং চাচার জানার কথা। ঐশীর বাবা-মাকে দেখে মানসিক প্রতিবন্ধী মনে হয়নি যে তারা অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা করাবেন না। আজকাল ঢাকায় বড় বড় রিহ্যাব সেন্টার এবং ঐশীর বাবার টাকার কোনো অভাব ছিল না। এ ধরনের ঘটনায় নানান সূত্র থেকে যে ধরনের অভিযোগ বা গ্যাং সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা সেটাও দেয়নি পুলিশ। এমনকি তার নামে কোনো মামলাও নেই। যে মেয়ে লাখ লাখ টাকার ড্রাগ খেয়েছে, তার চেহারা থাকবে ভূত-পিশাচের মতো ভয়ঙ্কর। দাঁতগুলো হবে বিদঘুটে। শরীরে সূচ ও পোড়া দাগ থাকবে। তার হবে প্রচণ্ড ড্রাগ উইথড্রয়াল সিন্ড্রোম, যা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা, সে রকম কি দেখেছি? পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, হত্যার আগে অনেক মদ খেয়েছিল। তাহলে তার উচিত ছিল এত কথা না বলে বরং গ্রেফতারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মূত্র ও রক্ত পরীা করে ড্রাগ ও মদের পরিমাণ জানিয়ে দেয়া। পুলিশ কাস্টডিতে একমাত্র টিভি সিরিয়ালের মতো সংলাপ ছাড়া অনুসন্ধানী কোনো তথ্যই দেয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার কিংবা ফরেনসিক আইনও মানা হচ্ছে না। কাজের মেয়ে সুমির বয়স ১২, ঐহির বয়স ৭। নাবালক সুমির ছবি ছাপার অপরাধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আদালতকেই নিতে হবে। বিশাল দু’টি দেহ থেকে কোরবানির গরুর মতো ১০ লিটার রক্তরণ হলে সেই রক্তের ওপরে চাদর বিছিয়ে লাশ দুটোকে বাথরুমে নেয়ার মতো পরিস্থিতির মানসিক বা শারীরিক পরিপক্বতা কি ছিল? সাগর-রুনির নষ্ট তদন্তের পর এসব প্রশ্ন এখন অনিবার্য। অন্যথায় বস্ত্রমন্ত্রীর কথামতো ঘরে ঘরে হত্যাযজ্ঞ শুরু করবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ। আদালতের উচিত অবিলম্বে স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব রগরগে কাহিনী প্রচার বন্ধ করে সুবিচার এবং প্রতিটি অভিযুক্তের আত্মপ সমর্থনের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। আমারও টিনএজ কন্যা আছে, যার বয়স ও ওজন প্রায় ঐশীর কাছাকাছি। সংসারের হর্তাকর্তা তিনি। ঐশীর মায়ের মতো স্বাস্থ্য এত ভালো না হলেও আমি যদি তাকে একটি থাপ্পড় মারি, উড়ে সাত হাত দূরে চলে যাবে। প্রথমেই আমার সন্দেহ হবে, কফির স্বাদ এত জঘন্য কেন? সুতরাং সেই কফি পান করার প্রশ্নই ওঠে না; কিন্তু কেউ যদি জোর করে গলার মধ্যে ঢেলে দিয়ে থাকে, তাহলে কিছু করার নেই। সুতরাং প্রশ্ন, ওই দিন ঘরে আর কে কে ছিল? বরং তার চাচা যে প্রশ্নটি তুলেছেন, সন্দেহের তীর কার দিকে? ভদ্রলোক রাজনৈতিক ডেস্কে কাজ করতেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুম-খুনের তথ্য তার ল্যাপটপে, যা হাওয়া হয়ে গেছে। মন্ত্রীর ভাই ও মিডিয়ার চেয়ারম্যান জনিত অনুসন্ধানে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ সাগর-রুনির ল্যাপটপটিও হাওয়া। আওয়ামী সরকারকে জিজ্ঞাসা, তাদের জামানায় এসব গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপগুলো যায় কোথায়? কার জিম্মায় ল্যাপটপের তথ্য যাচাই-বাছাই হয়? ২৯ আগস্ট একটি দৈনিকে প্রকাশ, সাড়ে চার বছরে খুনের সংখ্যা ২২ হাজার ৭৬৯টি। মানবজমিন ১ সেপ্টেম্বর, আট মাসে খুনের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এই সরকারের আমলে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০-এর বেশি খুন হচ্ছে। প্রকাশিত খবরের বাইরে প্রচুর খুনের হদিস নেই। একটি দৈনিকে প্রকাশÑ গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, সাভারে প্রতিদিনই ৫০-৬০টি লাশ পাওয়া যাচ্ছে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে ১০০ হাজার নিহত হলে আমাদের ২২ হাজার ৭৬৯টি খুন প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সরকার পছন্দ না করলেও বাংলাদেশের গুম-খুনের চেহারা এখন প্রতিদিনকার ইরাক বা পাকিস্তানের বোমাবাজির সাথে পাল্লা দিয়েছে। গ্যাং সন্ত্রাসের চেয়ে রাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিপজ্জনক। সাগর-রুনিকে নিয়ে কখনো লিখিনি। এই নষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রের কথা বলে কী লাভ! কলিগদের ভূমিকাও হতাশাজনক। এই সরকারের প্রথম ১০টি ব্যর্থতার অন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের সুরাহা না করা। সাগর-রুনির বিচার চাওয়া অ্যাক্টিভিস্ট ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে পর্যন্ত ‘গুম’ করল সরকার। কবর থেকে তোলার পরও হত্যাকাণ্ড কবরেই রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, প্রতিদিনই সরকার যেভাবে মায়ের বুক খালি করছে, আজন্ম মতার খায়েশ আর আফ্রিকার লর্ডদের মতো ফ্যাসিবাদ দেখে নারী হিসেবে নিজেরই লজ্জা হয়। মানসিক বৈকল্যের শিকার সরকারযন্ত্রটি ‘আইনকে বেআইনি’ করায় সামাজিক অস্থিরতা এই পর্যায়ে। এরা কি দরবেশ বাঁচাতে রনিকে গ্রেফতার করেনি? সাগর-রুনির খুনিকে রা করতে ডিএনএ তামাশা করেনি? ল্যাপটপগুলো থেকে রহস্য বের হলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে, রাষ্ট্র তা দেবে না। মানসম্মান এবং মানবাধিকার জাদুঘরে পাঠানোর প্রমাণ, প্রশ্ন তুললেই মামলা করে, যেমনÑ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইকোনমিস্ট, অধিকার, আমার দেশ…। উন্মাদ উপসর্গের অন্যতম, পাগলা কুকুর পানি দেখলে ভয় পায়। ক্যামেরাপ্রিয় ডিবির যুগ্ম কমিশনারের বক্তব্য শুনলে মনে হয় তিনি সবজান্তা। প্রতিটি গ্রেফতার বিশ্বাসযোগ্য করতে সাংবাদিকের মুখোমুখি তিনি যখন টিভি সিরিয়ালের চরিত্রের মতো মুখস্থ বলতে শুরু করেন তখন দাঁড়ি, কমা, বিসর্গ থাকে না। টেবিলের উল্টা দিকে বসা সাংবাদিকেরাও মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখেন। অন্যপরে উকিলের কোনো পাত্তা নেই। বিদেশে বহু গোয়েন্দাগিরি দেখেছি, এ রকম দেখিনি। মিডিয়ায় গোছানো বক্তব্য শুনে প্রতিবারই মনে হয়েছে গুম, খুন, গ্রেফতারের আগেই রিপোর্ট তৈরি থাকে। এজন্য দায়ী রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের নিঃশর্ত আনুগত্য। মেয়ের হাতে খুন থেকে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা… ঐশী কিংবা শিবির… প্রতিটি েেত্র ডিবির সারমর্ম বক্তব্য নয়, বরং ১৬৪ ধারাসহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া মিডিয়ার সামনে স্পষ্ট করতে হবে। আশ্চর্যজনক যে, সব গ্রেফতারের দৃশ্যায়ন, প্রোপট, ধারাবাহিকতা হুবহু। পুলিশ কর্মকর্তার কথা শুনে মনে হয়েছে, ক্রিমিনাল সিস্টেম থেকে ফরেনসিক মেডিসিন সব দায়িত্বই তার। রিমান্ডের নামে মানবাধিকার ভঙ্গের জল্লাদখানায় জবানবন্দীগুলো কোন পরিস্থিতিতে, কী উদ্দেশ্যে বের করেন সে বিষয়ে ড. মিজানুর রহমানের বিশাল গোঁফের বার্ধক্যের কারণেই কি তার মুখ বন্ধের অভিযোগ? কী হবে মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলে? বরং ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারটি বন্ধ হওয়া উচিত। ২০০১ সাল থেকে গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দীদের মুখ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো কথাই বের করতে পারেনি মার্কিন সরকার। বরং এদের প্রত্যেকেরই উকিল আছে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছেন। এ দেশের মিডিয়া মালিক এবং বিশ্লেষকদের উচিত কিছু দিন বিদেশী মিডিয়া পর্যবেণ করা। একই খবর বিভিন্ন চ্যানেল বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নানান ধারায় প্রচার করে। বলতে গেলে বাংলাদেশ এখন মৃত্যুপুরী। কিং জং উনের ফায়ারিং স্কোয়াডে আগস্ট মাসে ঝাঁজরা করে দেয়া হয়েছে যাদেরকে পছন্দ করেনি সরকার। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের যিনি প্রধান অ্যাক্টিভিস্ট সেই ‘চৌধুরীকে’ তড়িঘড়ি করে সরকারি গুমের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, এই জাতির ঘাড়েও ফ্যাসিস্ট কিং জং উন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। বর্তমান সরকার আরো দীর্ঘায়িত হলে অবস্থা হতে পারে প্রতিদিনকার মৃত্যুপুরী ইরাক-আফগানিস্তানের সমান। সকাল হতেই বাজে কথার বাজার বসে। সওদাগরেরা ঝুড়িভর্তি বাজারি কথা বিক্রি করতে শুরু করে। ভালো কথার বদলে বাজে কথা শুনতে শুনতে আমরা কান্ত হলেও ওদের কোনো কান্তি নেই। এতে উত্তেজিত হয়ে ক্যাডাররা খুনখারাবির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগের সরকার অনেক খারাপ কাজ করলেও বাজে কথা কম বলত। ৩০৩ দিনের বদলে তাদের হরতালের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। গেল সাড়ে চার বছরে বিরোধী দলের জ্বালাও-পোড়াও আগের বিরোধী দলের তুলনায় ২০-এর মধ্যে ১। অনেকটাই বুদ্ধিমতী বড় বোন বনাম অবাধ্য ছোট বোনের গল্পের মতো। বিস্ফোরক এবং উত্তেজিত বক্তৃতা মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তিগুলো পারমাণবিক বোমার মতো পুড়িয়ে দিচ্ছে। বস্ত্রমন্ত্রী এখন ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যা করতে উদগ্রীব। ড. ইউনূসকে গ্রেফতার না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনাও করলেন। ‘বন্যমন্ত্রীর’ মুখ লাগামছাড়া। মতিয়া চৌধুরীর মুখ অত্যন্ত খারাপ। আইন প্রতিমন্ত্রী ইউনূসকে খানকা শরিফের ছবক দিলেন। চুল আর সাপ তত্ত্বের জনক প্রধানমন্ত্রী নিজে। মেধাশূন্য কাবের সদস্যরা মুখে যা আসে কিছুই বাদ দেয় না। এসবের শুরু ২০০৯-এর পার্লামেন্টে। এ জন্য দায়ী মেধার পরিবর্তে লাঠি রাজনীতির ক্রমবর্ধমান বিকাশ। শিাঙ্গনগুলো লাঠি রাজনীতির কারখানা এবং ড্রাগের রমরমা বাজার। দলবাজির কারণে তরুণসমাজ টেন্ডার, লাঠি আর ড্রাগ হাতে দিশেহারা। সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমপর্যায়ে। এই সরকার দীর্ঘায়িত হলে সাগর-রুনি আর ঐশীর মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। নিহতদের ল্যাপটপগুলোতে কী আছে সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য। সাগর-রুনির দুর্ভাগ্য ইতোমধ্যেই লেখা হয়েছে। তবে ঐশীর চাচার অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রকৃত খুনিকে বের করার বিষয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্রই নস্যাৎ করতে হবে।মিনা ফারাহ, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী [email protected]

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV