ওবামাকে গাদ্দাফির চিঠি, তুমি আমাদের সন্তান যুদ্ধ বন্ধ করো,ওবামার প্রত্যাখ্যান
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: তুমি আমাদের ছেলে। যুদ্ধ বন্ধ কর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘আমাদের সন্তান’ সম্বোধন করে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা তার সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্টো তিনি মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন নির্বাসনে যেতে। গাদ্দাফির লেখা তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে রয়েছে অনেক বানান ভুল ও ব্যাকরণগত ভুল। এতে তিনি বারাক ওবামাকে ‘আওয়ার সান, এক্সসিলেন্সি, প্রেসিডেন্ট ওবামা, ইউএসএ’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। নিজের পদবি লিখেছেন ‘মুয়াম্মার গাদ্দাফি, লিডার অব দ্য রেভ্যুলিউশন, ত্রিপোলি ৫.৪.২০১১’। ওই চিঠিতে গাদ্দাফি লিখেছেন- যত যাই হোক তুমি সব সময় আমাদের সন্তান হিসেবে থাকবে। তুমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অব্যাহত থাকো আমরা এই কামনা করি। আমরা আরও আশা করি, আগামী নির্বাচনেও তুমি বিজয়ী হবে। তুমি এমন এক সাহসী ব্যক্তি যার আছে ভুল এড়িয়ে চলার ও ভুল সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলার শক্তি। আমি নিশ্চিত এজন্য দায় কাঁধে নেওয়ার সামর্থ্য তোমার আছে। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট তুমি- এর পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে। অন্যদিকে উন্নয়নশীল একটি দেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর ন্যাটো অন্যায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে এই দেশটি নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের শিকার হয়েছে। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের সময়ে সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। এই দেশটি হলো লিবিয়া। এখন বিশ্ব শান্তির জন্য, আমাদের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্য, অর্থনীতির জন্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সহায়তার জন্য তুমিই ভাল অবস্থানে আছো। তুমিই ন্যাটোকে লিবিয়ার ভালর জন্য নিবৃত্ত করতে পার। তুমি ভালভাবেই জান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আর যুদ্ধবিমান ব্যবহার অথবা বেনগাজিতে আল কায়েদার সশস্ত্র সদস্যদের সহায়তা দিয়ে গণতন্ত্র ও সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তুমি নিজেই অনেক সময় বলেছো, বারাক হোসেন আবু উমামা, লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। তাহলেই ন্যাটো লিবিয়া ছেড়ে যাবে। লিবিয়া আফ্রিকান ইউনিয়নের অধীনে লিবিয়ার লোকজনের কাছেই থাকতে দেয়া উচিত।এখন দু’টি সমস্যা রয়েছে। যেমন- এক. সামরিক হস্তক্ষেপ তো করছেই একই সঙ্গে ন্যাটো লিবিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে। দুই. আল কায়েদার সন্ত্রাসীরা বেশ কিছু শহরে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। তারা জোর করে লোকজনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিচ্ছে না।
এছাড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান লিবিয়ায় আর হামলায় অংশ নিচ্ছে না বলে চিঠিতে স্বাগত জানিয়েছেন গাদ্দাফি। ওবামাকে লেখা এই চিঠি প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, গাদ্দাফি অবশ্যই জানেন তাকে কি করতে হবে। গাদ্দাফির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে হিলারি বলেন, গাদ্দাফির কাছ থেকে আমরা এই মুহূর্তে কি প্রত্যাশা করছি, তা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। হিলারি আরও বলেন, লিবিয়ায় অস্ত্রবিরতি প্রয়োজন। যে শহরগুলো গাদ্দাফি বাহিনী জোর করে দখলে নিয়েছে সেগুলো ছেড়ে দিতে হবে। তারপর ক্ষমতা থেকে তার সরে দাঁড়ানো এবং লিবিয়া ত্যাগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। গাদ্দাফির চিঠির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র। তার সেই প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর সারমর্ম হচ্ছে লিবীয় নেতার কাছ থেকে আর কোন কথা শুনতে চাই না, পদক্ষেপ দেখতে চাই। এদিকে, লিবিয়ার এক অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, যৌথবাহিনী দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে তেলের পাইপলাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাদ্দাফি সরকারের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কায়ুম ত্রিপোলিতে সাংবাদিকদের বলেন, ওই হামলায় তিনজন রক্ষী নিহত ও কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030