ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সাড়ে চারদিন সমান তালে লড়াই : আশা জাগিয়েও হারল বাংলাদেশ

আরাফাত দাড়িয়া : আরো একটি হতাশার গল্প, আরো একটি আফসোসের দিন। এত কাছে এসেও হাত ফসকে যাওয়া জয় নিয়ে খেলা শেষের সারা বিকেল জুড়ে চলল আলোচনা-সমালোচনা। তবুও ৭৭ রানের হারের মধ্যে বাংলাদেশের কৃতিত্ব অনেক। প্রায় এক বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে হারলেও অনেক কিছুর সাক্ষী হয়ে রইল বাংলাদেশ। অভিষেক টেস্টে সোহাগ গাজীর ছয় উইকেট, নাঈমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের পাঁচশ রানের স্কোর। এসব কিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় হয়ে থাকল ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সাড়ে চারদিন সমান তালে লড়াই করা। ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে ২৭৩ রানে অলআউট করায় বাংলাদেশের সামনে জেতার টার্গেট দাঁড়ায় ২৪৪ রানের। কিন্তু কিছু বাজে শর্ট এবং টিনো বেষ্টের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের কারণে চা বিরতির এক ঘন্টার ভিতরে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ১৬৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বাদ দিলে মিরপুর টেস্টের পুরোটা জুড়ে বাংলাদেশিদের লড়াইটা ছিল চোখে পড়ার মত। এত ভালো ক্রিকেটের জন্য দুশ্চিন্তায় পড়েছিল ক্যারিবিয়া। ম্যাচ শেষে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের উল্লাসই প্রমাণ করেছে এই জয়ের জন্য তারা কতটা মরিয়া ছিল।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনের প্রথম ঝলকটা দেখান অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। মাত্র ২৭ রানের মধ্যে সফরকারীদের চার উইকেট ফেলে দিয়ে বাংলাদেশের জন্য কাজটি সহজ করে দিয়েছেন পটুয়াখালির এই ছেলে (৬/৭৪)। রেকর্ড বুকে নাইমুর রহমান দুর্জয়, মঞ্জুরুল ইসলাম ও ইলিয়াস সানির পাশে নিজের নামও লিখিয়েছেন এই বোলার। টেস্ট অভিষেকেই ছয় উইকেট তার। দুই ইনিংস মিলে তার উইকেট সংখ্যা নয়টি। প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া অসুন্থ শিবনারায়ণ চন্দরপলকে পর্যন্ত মাঠে নামতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ভয়ংকর হয়ে ওঠা এই স্পিনের তোপ সামলাতে পারেননি তিনিও।
মাত্র ৭৮ ওভারে ২৪৪ রান, বাংলাদেশের জন্য সহজ টার্গেট। যদিও চতুর্থ সেশনে টার্গেট তাড়া করে ম্যাচ জেতার সংখ্যাটি বাংলাদেশের নেই বললেই চলে। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত খেলা টপ অর্ডারদের উপরই ছিল মূল ভরসা। কিন্তু সেই ভরসায় পানি দিয়েছেন প্রথমে তামিম ইকবাল পরে জুনায়েদ সিদ্দিকি। লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের ৪৪ রানে নেই দুই উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে সাকিব আল হাসান, শাহরিয়ার নাফীস ও নাসির হোসেনের উপরও বাংলাদেশের আশা ছিল। কিন্তু তারাও কাল যেন কোথায় হারিয়ে গেছেন। সাকিবের আউটটি অবশ্য কিছু করার ছিল না। দ্বিতীয় সেশনে বেষ্টের কিছু অসাধারণ বোলিংয়ের মধ্যে সাকিবের আউটটি ছিল একটি। ২০০৫ সালে কিংসটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৬ রানে চার উইকেট এতদিন বেষ্টের সেরা বোলিং থাকলেও কাল হঠাত্ করে ঝলে ওঠা বেষ্ট ২৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ফেলেন। উইকেটে বেষ্টের বোলিং যতটা না বিষ ছড়িয়েছে তারচেয়ে বেশি উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন দলের টপ অর্ডাররা। নাঈম ইসলামের ফিরে যাওয়ার পর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ নেমে দলের স্কোরের মেরামত করতে চাইলেও সঙ্গী পাননি। ৮৩ মিনিট ব্যাট করেছেন, কিন্তু কারো সাথে বড় পার্টনারশীপ করতে পারেননি। দলের এগার ব্যাটসম্যান হিসেবে রুবেল হোসেনকে নিয়েও পার্টনারশীপ গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রানের বোঝা চেপে বসেছিল তার কাঁধেও। শেষ মেষ বেষ্টের একটি ইয়র্কার বল মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরেন এই সহ-অধিনায়কও (২৯)।
এমন একটি টেস্ট ম্যাচের এমন পরিণত হয়তো বাংলাদেশও আশা করেনি। যে উইকেটে দুই দলের ব্যাটসম্যানরা প্রায় এক হাজারের বেশি রান পেয়েছে, সেখানে ৭৮ ওভারে ২৪৪ রান হয়তো স্বাগতিকদের জনও কঠিন কিছু ছিল না। সেন্ট জর্জের পর মিরপুরের নামটিও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে বড় করে লেখা হতে পারতো। সাড়ে তিন বছর আগে ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর আরেকটি জয়ের খুব কাছে ছিল মুশফিকরা। কিন্তু শেষ আশা জাগিয়েও হতাশা নিয়েই আজ খুলনায় রওয়ানা হচ্ছে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের প্রাপ্তিগুলো সঙ্গে নিয়ে খুলনায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে ২১ নভেম্বর থেকে।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








