কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা
সার্কের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কেমন লাগছে?
গত সোমবার আমি সার্ক কর্তৃপরে কাছ থেকে এ ব্যাপারে চিঠি হাতে পাই। সেখানে জানতে পারি সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। খবরটি নিশ্চিত হয়ে খুব ভালো লাগছে। মনে হয়েছে, এমন একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে নিজ দেশের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নির্বাচিত হওয়া অনেক সম্মানের। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খবরটি আমাকে অনেক বেশি সম্মানিত করেছে। চলতি বছরই ১৮তম সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নেপালে। সেই সম্মেলনে বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে অংশ নেবো। সবার কাছে দোয়া চাই যেন দেশের জন্য বয়ে আনা এই সম্মান এবং আমার দায়িত্ব যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি।
আপনি তো আবার কলকাতার ছবিতে গান গাইলেন..
গৌতম ঘোষের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় ঘরে ফেরা ছবিতে আবার প্লেব্যাক করেছি। এরই মধ্যে রেকর্ড হওয়া গানটি লিখেছেন প্রেমাংশু রায়। গানটি টালিউডে মুক্তির অপোয় থাকা ‘ঘরে ফেরা’ ছবিতে যুক্ত করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখে কলকাতায় গানটিতে কণ্ঠ দেই। আসলে আগে যখনই ওখানে যেতাম, অন্তত এক-দু’টি ছবিতে গান গাওয়া হতো। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ছবিতেও এমন গান অনেক গেয়েছি। এ পর্যন্ত ভারতের অনেক ছবিতে গান গেয়েছি। যত দূর মনে পড়ে সর্বশেষ প্রায় পাঁচ বছর আগে কলকাতার একটি ছবিতে গান করি। ছবিটির নাম মনে নেই। গানটির সুর করেন বাপ্পী লাহিড়ি। মাঝে নানা কারণে আর গান গাওয়া হয়নি। অনেক দিন পর আবার এই গান করে ভালোই লাগল। বহু বছর বলিউডের ছবিতেও গান করা হয় না। আমিও ওদের মতো করে সময় বের করতে পারি না। কলকাতার এই গানটির মতো মুম্বাইতেও যেকোনো দিন নতুন গানের রেকর্ড হয়ে যাবে। এ নিয়ে এখন আর সেভাবে ভাবি না। তবে হুটহাট এমন গান গাইতে পারলে ভালোই লাগে।
গানের চার দশকেরও বেশি সময় পার করলেন, অনুভূতি কেমন?
অনুভূতি তো অবশ্যই অনেক ভালো। ভক্তরা চেয়েছেন বলেই হয়তো আমি আজো গান গাইতে পারছি। আমার আজ যা কিছু সবই ভক্ত-শ্রোতাদের দোয়া ও ভালোবাসা। এটাকে সঙ্গী করেই জীবনের বাকি দিনগুলো কাটিয়ে দিতে চাই।
চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকে এলেন কিভাবে?
আমার বয়স যখন ৯, তখন চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের প্রস্তাব আসে। জুগনু ছবিতে গান গাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় আমার সঙ্গীতজীবন। সে সময় চলচ্চিত্র নিয়ে সবার মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা ছিল। আমার পরিবারও তার বাইরে নন। তবে এই ছবিতে কাজ করে আমাদের সেই ভ্রান্ত ধারণা বদলে যায়।
দেশে ফিরলেন কবে?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা পরিবারের সবাই দেশের প্রতি রক্তের একটা টান অনুভব করতাম। মূলত তখনই বাবা সিদ্ধান্ত নেন, বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। এ কথা শুনে প্রবীণ অনেক সঙ্গীত পরিচালক আমাদের বাড়িতে ছুটে আসেন। পাকিস্তানে তখন আমি বেশ জনপ্রিয় ও ব্যস্ততম শিল্পী। তাই বাবা আমাকে দেশে আসার জন্য জোর করেননি। মাতৃভূমির প্রতি আনুগত্য হয়েই নাম, খ্যাতি ছেড়ে পরিবারের সাথে দেশে ফিরে আসি। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে দেশে আসি আমরা।
রুনা লায়লার গান ছাড়া বাংলা চলচ্চিত্র ভাবাই যায় না। এর শুরুটা কবে?
১৯৭৪ সালের শুরুতে দেশে ফিরে প্রয়াত সত্য সাহার সুরে ‘জীবনসাথী’ ছবিতে প্রথম গান করি। গানের কথা ‘ও জীবন সাথী তুমি আমার’। এ গানে আমার সাথে কণ্ঠ দেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। ইন্দিরা রোডের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডিওতে গানটি ধারণ করা হয়। সে বছরই বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানে গাইবার সুযোগ পেলাম। দেবু ভট্টাচার্যের সুরে ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের লেখা পাঁচটি গান ধারণ করা হলো অনুষ্ঠানটির জন্য। সেখানে আমি পোশাকে পরির্বতন আনলাম। একটু নেচে গান পরিবেশন করি। আমি কিন্তু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে গান গাইতে পারি না।
এ তো গেল পাকিস্তান-বাংলাদেশের কথা। ভারতে কিভাবে শুরু করলেন?
১৯৭৪ সালে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনের আমন্ত্রণে একটি সাংস্কৃতিক সফরে প্রথম ভারতে যাই। দিল্লি, বোম্বে আর কলকাতায় তিনটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি বোম্বের ছবিতে প্রথম গান করি কল্যাণ আনন্দের সুরে ‘এক সে বাড়কার এক’ চলচ্চিত্রে। তারপর জয় দেবের সঙ্গীতে ‘ঘারিন্দা’ ছবিতে ভূপেন্দর সিংয়ের সাথে প্লেব্যাক করি। আমাদের গাওয়া ‘দো দিওয়ানে শেহের মে’ শিরোনামে গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সে বছর গানটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনয়ন পায়।
সমাজের প্রতি শিল্পীদের দায়িত্ব কতটুকু?
আমি মনে করি, দেশের জন্য একজন শিল্পীর অনেক কিছু করার আছে। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে শিল্পীদের অবস্থান অনেক ওপরে। শিল্পীরা কিছু বললে মানুষ তা আলাদাভাবে গ্রহণ করে। কয়েক বছর আগে ঢাকায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণে আমি ও আলমগীর মিলে কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঢাকায় একটি কনসার্টের আয়োজন করি। তখন সঙ্গীতাঙ্গনের অনেকেই আমাদের ডাকে সাড়া দেয়। উদ্যোগ নিয়ে দেখলাম, শিল্পীরা একত্র হলে অনেক কিছুই সম্ভব। তাই যেকোনো ভালো কাজে শিল্পীদের এগিয়ে আসা উচিত।
গানের পাশাপাশি আপনি তো একটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন…
অভিনয় করার অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। রাজকাপুর পর্যন্ত তার ছবিতে আমাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি। আমি চেয়েছি গান নিয়েই থাকতে। কিন্তু চাষী নজরুল ইসলাম আমাকে ‘শিল্পী’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দিলেন। ছবির কাহিনী আমাকে নিয়েই। আমি এক বছর সম্মতি জানাইনি। পরে আমার পরিবারের সাথে কথা বলে ছবিটিতে অভিনয় করি। এতে আমার সহশিল্পী আলমগীর।
আপনার নাম তো গিনেজ বুকে স্থান পেয়েছে…
নব্বই দশকের কথা। বোম্বেতে দিনে ১০টি করে টানা তিন দিনে ৩০টি হিন্দি গান গেয়েছিলাম। পাকিস্তানের সঙ্গীত পরিচালক নিসার বাজমির সুরে গানগুলো ধারণ করা হয়। তিন দিনে ৩০টি গান গাওয়া সহজ কথা নয়, এর পুরস্কারস্বরূপ আমার নাম গিনেজ বুকে স্থান পেয়েছে।dailynayadiganta
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature