Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ সম্পন্ন, ২০২৭ সালের বইমেলা ২১-২৪ মে নিউ জার্সিতে এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
সব ক্যাটাগরি

কিশোর-কিশোরীদের ফেসবুক ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো জরুরি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 168 বার

প্রকাশিত: October 23, 2011 | 11:41 PM

Details

প্রদীপ কুমারসাহা :বর্তমান অনলাইন জগতে ‘ফেসবুক’ সর্ববৃহত্ ট্রাফিক সাইট হিসেবে পরিচিত। ‘ফেসবুক’ ও ভাল উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। সময়ের সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় তার অপব্যবহার। ‘ফেসবুক’ ব্যবহার নিয়ে এখন অভিভাবকদের মধ্যে অনেক সংশয়। বিশ্বব্যাপী প্রতিনিয়তই ‘ফেসবুক’ অপব্যবহারের খবর আসছে যা সুখকর নয়। ‘ফেসবুক’ এর ভাল এবং মন্দ উভয় দিক নিয়েই এই লেখায় আলোকপাত করা হল।

‘ফেসবুক’ ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে যারা এটিকে সামাজিক বন্ধন তৈরিতে ব্যবহার করে। হারিয়ে যাওয়া পুরাতন বন্ধুদের সন্ধান ও পূবর্মিলিত হওয়া, নতুন বন্ধু তৈরী করা, ইত্যাদি। তারা এই যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, দেশ বিদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও মন্তব্য তুলে দলে। তার পরবর্তী শ্রেণীর ব্যবহাকারীদের মধ্যে রয়েছে যারা শিক্ষা/গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ও ব্লগার হিসেবে পরিচিত শিক্ষার্থী, গবেষণাকারীরা নিজেদের মধ্যে তথ্য, জ্ঞান বিনিময় করে থাকে। প্রিয় লেখক, সাহিত্যিক ও অন্যান্য ব্লগারদের সাইটে নিয়মিত ভ্রমন না করেও বিশেষ কি হচ্ছে না হচ্ছে জানা যায় ‘ফেসবুক’ এ প্রিয় সাইটটি বা প্রিয় লেখককে ‘বন্ধু তালিকায়’ যোগ করে। স্বল্প সময়ে বৃহত্ সামাজিক বলয়ে যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ‘ফেসবুক’ এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তার উত্কৃষ্ট প্রমাণ সামপ্রতিক মিশরের ঘটনা। মিশরের শাসক হোসেনী মোবারকের ৩২ বত্সরের শাসনের অবসান ঘটে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে। মিশরের এই সরকার বিরোধী আন্দোলনে জনমত তৈরীতে ‘ফেসবুক’ এর অবদান প্রচুর।

এবার আসা যাক ‘ফেইসবুক’ এর অপব্যবহারের দিকগুলোতে। যদিও ‘ফেইসবুক’  এর নিয়মানুযায়ী ১৩ বত্সর বয়সের নীচে কেহ সদস্য হতে পারবেন না, কিন্তু দেখা যাচ্ছে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ‘ফেসবুক’ এর সদস্য। এদিকে আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের একাউন্টের প্রাইভেসি সেটিং সম্পর্কে ধারণা নেই বা ‘ডিফল্ট সেটিংস’ এর মাধ্যমে ব্যবহার করে যাচ্ছে। আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীর যদি এ অবস্থা হয় তাহলে প্রাইমারী ও হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীর কি অবস্থা হবে? সুখবর এই যে, এখন কিছু কিছু অতি সচেতন স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে ‘ফেসবুক’ ব্যবহারের উপর পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছে। উন্মুক্ত একাউন্ট সেটিংসে তারা তাদের বা পরিবারের তোলা সবধরনের ছবি ‘ফেসবুক’ এ পোস্ট করছে। এমনকি অন্য বন্ধুদের ছবিও পোস্ট করছে যা অতি সচেতন বন্ধুদের অভিভাবক দেশে বিচলিত তো হবেনই, দুই পরিবারে বিরোধও লেগে যেতে পারে। কনজিউমার রিপোর্ট (মে ২০১১) এর জরিপ অনুযায়ী ৭.৫ মিলিয়ন ‘ফেইসবুক’ ব্যবহারকারীর বয়স ১৩ বত্সরের নীচে, তার মধ্যে সিংহভাগ ব্যবহারকারীর বয়স ১০ এর নীচে। আরও সংশয়ের বিষয় হলো উক্ত শ্রেণীর ‘ফেসবুক’ ব্যবহারকারী অধিকাংশ অভিভাবকদের সঠিক ধারণা নেই তাদের ছেলেমেয়েরা ‘ফেসবুক’ এর কী করছে। অল্পবয়স বা অপরিণত জ্ঞানের এর ব্যবহারকারীদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই যে, উন্মক্ত একাউন্ট সেটিংসে যে কেউ এ ছবি দেখতে পারে, ডাউনলোড করতে পারে এবং অসদভাবে ব্যবহার করতে পারে। এমনকি ‘ফেসবুক’ কর্তৃপক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে ছবি বিক্রয় করে দিতে পারে যদি সঠিক সেটিংস না থাকে। সমপ্রতি ‘দৈনিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ এর খবরে জানা যায়-২টি ছাত্র সুকৌশলে তাদের এক সহপাঠী বান্ধবীর ‘ফেসবুক’ পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে মেয়েটির একাউন্টে কিছু আপত্তিজনক ছবি ও লেখা পোস্ট করে দেয়। ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত অভিভাবক হয়ে পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।  ঘটনাটিতে দুপক্ষেরই দোষ রয়েছে যার কারণ তাদের অল্প বয়স ও এধরনের কৃতকর্মের পরিণাম বোঝার অক্ষমতা।

অল্প বয়সের ব্যবহারকারীদের আরও একটি সমস্যা হলো ওরা অপরিচিত লোককে বন্ধুতালিকায় নিতে দ্বিধাবোধ করে না। অপরিচিত কারোর ‘ফেসবুক’ এ দেয়া পরিচায় যাচাই বা বুঝার ক্ষমতা তাদের নেই। আর সে কারণে অনেক লোকমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যে এমনি একটি ঘটনা নিয়ে অনোক তোলপাড় হয়ছিল। ৩৩ বত্সর বয়সের এক যুবক ‘ফেসবুক’ এ ভূঁয়া পরিচয়ে প্রোফাইল তৈরী করে ১৭ বত্সর বয়সের এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। মেয়েটিকে এক পর্যায়ে ডেটিং এর নাম করে অপহরণ, ধর্ষণ ও শেষে খুন করে। সাড়া জাগানো এ ঘটনাটির ইতি ঘটে অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের মাধ্যমে। অধিকাংশ অভিভাবক যাদের সন্তানের বয়স ১৩ এর নীচে বা একটু উপরে শুনে হয়তো বলবে যে, ‘ফেসবুক’ এ বেআইনী রেজিষ্ট্রেশন, ছবি পোস্ট, এক আধটু অসংযত লেখা বা লিঙ্ক পোষ্ট করলে তেমন কি আর হবে।  সসম্যা না আসলে সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা একবার এসে গেলে সমস্ত অনিয়মই রেরিয়ে আসবে। সমপ্রতি সিডনির একটি প্রাইভেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের জানান যে, ইন্টারনেটে যেকোন অসংযত লেখা বা পোষ্ট স্থায়ীভাবে রেকর্ড হযে যেতে পারে যা পরবর্তীতে যেকোন সমস্যার উদাহরণ হিসাবে চলে আসতে পারে। কোন কিশোর-কিশোরী যে ভূল ১৫ বত্সর বয়সে করছে তা কোন কোম্পানীর মালিক ১০ বত্সর পরও উদঘাটন করতে সমস্যা হবে না। প্রধান শিক্ষক দশম শ্রেণীর আগ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীকে ‘ফেসবুক’ ব্যবহার না করার জন্য অভিভবাকদের পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ‘ফেসবুক’ একটি অসাধারণ উদ্ভাবন যার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে সারা পৃথিবী জুড়ে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, নিয়মিত অজানা অনেক কিছু বন্ধুদের মাধ্যমে জানা যায়, দৈনন্দিন শিক্ষা ও জ্ঞান আদান-প্রদান করা যায়, চিত্তবিনোদন করা যায়। কিন্তু ছোটছোট ছেলেমেয়েরা যারা তাদের সহপাঠী বন্ধুদের কাছ থেকে ‘ফেসবুক’ ব্যবহার করার জন্য ভীষণ চাপে থাকে তাদেরকে ‘ফেসবুক’ এর অপব্যবহার ও তার পরিণাম সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা দিতে হবে। অন্য অনেক কিছুর মতো এ ব্যাপারটিতেও নিয়মিত সজাগদৃষ্টি রাখতে হবে। প্রয়োজনে তাদের ‘ফেসবুক’ এ বন্ধু তালিকায় থাকতে হবে এবং নিয়মিত তাদের ‘ফেসবুক’ প্রোফাইল পরিদর্শন করতে হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই পৃথিবীতে ছেলেমেয়দেরকে তাদের নিজস্ব বন্ধুপ্রিয় বলয় থেকে দুরে বা বিচ্ছিন্ন  রাখা কঠিন ব্যাপার যা অনেক সময় হিতে বিপরীতেও হতে পারে। কিন্তু যা আমাদের করা নিতান্ত প্রয়োজন সেটি হলো যতটুকি সম্ভব তাদের সন্নিকটে থাকা, পরিদর্শন করা ও তাদের সাথে বন্ধুর মতো চলা।ইত্তেফাক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV