কেমন আছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এডভোকেট
কাজী সোহাগ: এক নজর দেখেই অনুসন্ধানী মন খুঁজতে শুরু করলো পরিবর্তন দেখার। গভীরভাবে দেখলাম। পেলাম না কিছুই। মনে হলো কথাবার্তা কিংবা আচরণে হয়তো পাওয়া যাবে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ফলাফল শূন্য। মিললো না কিছুই। আগে যেমনটি দেখেছি ঠিক তেমনিই রয়েছেন। বরং আরও বিনয়ী, বন্ধুবাৎসল হয়েছেন। উচ্ছলতা রয়েছে আগের মতোই। এজন্যই মনে হয় ব্যতিক্রম তিনি। আগে ছিলেন নেতা, এখন হয়েছেন অভিভাবক। তাও পুরো একটি জাতির। তিনি আমাদেরবাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এডভোকেট। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে এখন বঙ্গভবনে। গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। অপেক্ষায় রয়েছেন আরও বড় ধরনের গুরুদায়িত্ব পালনের। সোমবার (০৫-০৮-২০১৩) একসঙ্গে ইফতার করার সুযোগ হয়েছিলো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। আমরা ছিলাম মাত্র ১৭ জন। এভাবে কোন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইফতার পার্টি অতীতে হয়তো বঙ্গভবনও দেখেনি। কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা নেই। একেবারে সাদামাটা। মনে হয়েছে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইফতার পার্টি নয়, ঘরোয়া কোন আড্ডায় এসেছি। এসএসএফের কড়া দৃষ্টি আর সতর্কতাকে মনে হচ্ছিলো তুচ্ছ। বিশাল বঙ্গভবনের দরবার হলে দেখামাত্রই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট। এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করলেন একেবারে আপনজনের মতো। নাম ধরে জানতে চাইলেন কয়েকজনের পরিবারেরও কথা। ইফতারের প্রায় আধঘণ্টা আগেই এসে বসলেন। আড্ডা দিলেন খোলামেলা। নিজেকে বন্দি মনে করছেন প্রেসিডেন্ট। খোলামেলা বললেন, কেন মনে হবে না। আমি ছিলাম বরাবরই আড্ডাপ্রিয় একজন মানুষ। এখন আর আগের মতো আড্ডা দিতে পারি না। কথা বলতে পারি না। সংসদে কাটিয়েছি জীবনের বড় একটি অংশ। সেই সংসদ আমাকে টানে। কিন্তু মন বললেই সেখানে ছুটে যেতে পারি না। রসিকতা করে বললেন, ইচ্ছা করলে যেতে পারি মাত্র ১২ মিনিটে। কিন্তু যাই না। কারণ, রাজধানীর ট্রাফিক। এমনিতেই যানজট নিয়ে মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এর ওপর আমি যদি সংসদে যেতে চাই তাহলে একঘণ্টা আগে থেকেই রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হবে। এতে জনসাধারণ আমার ওপর ক্ষেপবে। জ্যামে আটকে থেকে আমার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করবে। তিনি বললেন, মূলত সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে বেশি মুভ করতে পারি না। ইচ্ছা তো অনেক কিছুই হয়। কিন্তু সব পারি না। আমার মেয়ের বাসা লালমাটিয়ায়। সে একদিন বললো, বাবা তুমি তো আমার বাসায় একদিনও এলে না। আমি বললাম, তোমার বাসায় আমি আসতে পারি। তবে এতে অনেক মানুষের গালি শুনে আসতে হবে। এটা কি ঠিক হবে? তার চেয়ে বরং তুমিই মাঝে মাঝে আমাকে এসে দেখে যেও। রসিকতা করে প্রেসিডেন্ট বললেন, আগে কয়েকবার জেল খেটেছি। তখন আমার চারপাশে থাকতো পুলিশ। তারা আমার মাজায় দড়ি বাঁধতে চেয়েছিলো। আমি উকিল মানুষ। কিছু বিষয় জানতাম। কোমরে দড়ি বাঁধলে পুলিশের সুবিধা হতো। ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পেতো। যেমন, কিছু উত্তম-মধ্যম দিয়ে বলতে পারতো পুলিশের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করায় এ অবস্থা হয়েছে। তাই আমি তাদের অনুরোধ করতাম কোমরে দড়ি না বেঁধে হাতে বাঁধো। তারা তাই করতো। হাত বাঁধা থাকলে তো আর পুলিশ বলতে পারবে না আক্রমণ করতে যাচ্ছিলো। যাই হোক, তখন পুলিশ হাত বেঁধে রাখতো দড়ি দিয়ে। আর এখন দড়ি লাগে না। এমনিতেই বাঁধা হয়ে আছি। উল্টো বাড়তি পাওনা হিসেবে কিছু স্যালুট পাই। রসিকতা করে তিনি বললেন, আগে জেলখানায় যখন ছিলাম তখন সন্ধ্যার পর জেলখানার বাইরে কারারক্ষীরা তালা দিয়ে রাখতো। এখন আর তালা লাগে না। মনে হয় অটো তালার মধ্যে রয়েছি। ইচ্ছামতো চলাচল করতে পারি না। একটি নির্দিষ্ট জায়গার পর যেতে চাইলে ইনফর্ম করা লাগে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকতে হয়। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নিজেকে বোবা বলে মনে করেন আবদুল হামিদ এডভোকেট। তিনি বললেন, বোবার কোন শত্রু নেই। কোন বিষয়ে আমি কথা বলতে পারি না। সংসদে অনেক কথা বলেছি। এরই মধ্যে সাংবাদিকরা তার একটা ইন্টারভিউ নেয়ার দাবি জানালে নিজের অপারগতার কথা বললেন। এই চেয়ারে বসে সেটা সম্ভব নয়। তবে বিশেষ দিবসগুলোতে আমি কথা বলবো। যেমন ঈদ, পূজা কিংবা অন্য কোন অকেশনে। এ সময় হঠাৎ স্মৃতিচারণ করে তিনি বললেন, বিএনপি দলীয় কয়েক নারী এমপি একবার অধিবেশন শেষে আমার অফিসে গিয়ে বললো, স্যার আপনি আজ সংসদে যেন না আসেন এজন্য দোয়া করেছি। অবাক হয়ে জানতে চাইলাম কেন। জবাবে তারা বললো, আপনি থাকলে আমরা আমাদের কথা আমাদের স্টাইলে কথা বলতে পারতাম না। সুযোগও পেতাম না। আপনি নেই দেখে আজ সুযোগ নিয়েছি। এ সময় সাংবাদিকরাও তাদের আক্ষেপের কথা জানালেন। বললেন, আপনি থাকলে আগে অনেক রসিকতা করতেন। সংসদ গ্যালারি নামে একটি কলাম লিখতে পারতাম। পাঠকরাও অনেক মজা পেতেন। এখন আর ওই কলাম লিখতে হয় না। সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে ইফতার করলেও এ নিয়ে কোনরকম নিউজ চান না প্রেসিডেন্ট। তিনি বললেন, আপনাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক অনেক আগে থেকেই। তাই বঙ্গভবনে এসেও আপনাদের ভুলিনি। প্রতিউত্তরে সাংবাদিকরাও প্রেসিডেন্টকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন, এভাবে ইফতার করানোর নজিরও হয়তো বঙ্গভবনে নেই। দেশের এই অভিভাবক কিন্তু এখনও জনবিচ্ছিন্ন নন। তার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জের মানুষ শত নিরাপত্তার মাঝেও বঙ্গভবনে এসে ভিড় করেন। তার সঙ্গে কথা বলতে, দেখা করতে বসে থাকেন ঘণ্টার পর ঘন্টা। প্রেসিডেন্টের পরিবারও চায় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের সঙ্গে আড্ডা দেন। তা না হলে মানসিকভাবে হয়তো কিছুটা ভেঙে পড়তে পারেন। প্রেসিডেন্টের ভাই আবদুল হাই জানালেন, এলাকার মানুষ নাছোড়বান্দা। তারা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে বলে আমাদের হামিদ ভাইকে দেখবো। তার সঙ্গে কথা বলবো। নিরাপত্তার কথা তারা মানতে চান না। তাদের দাবি একটাই, আমাদের হামিদ মিয়াকে কেউ দূরে রাখতে পারবে না। তাই দুপুরের পর থেকেই এলাকার সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করেন বঙ্গভবনের গেটে। তারা জানেন ডাক একসময় পড়বেই। হয়ও তাই। চেইন স্মোকার হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট ধূমপান নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আগে একটা সিগারেটের আগুন থেকে আরেকটি সিগারেট ধরাতেন। মাঝে চিকিৎসকদের কড়া নিষেধে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন। স্পিকার থাকার সময় অনেক কষ্টে একটা সিগারেট থেকে আরেকটি সিগারেট ধরানোর সময় ব্যবধান করেছিলেন ৪৫ মিনিট। কিন্তু এখন সে সময় আরও কমেছে বলে জানালেন। আড্ডা দিতে গিয়ে অনেক সময় সিগারেটের কথা ভুলে যেতেন। তবে এখন আড্ডার অভাবে সিগারেটের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ লক্ষ্য একটা সিগারেট থেকে আরেকটি সিগারেটের ব্যবধান এক ঘণ্টা করার। কিন্তু প্রশ্নÑ পারবেন কি তিনি? দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট। বললেন, এই চেয়ারে বসে সবকিছু বলতে পারি না। বলা ঠিকও নয়। তবে রাজধানীর যানজট নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি রাস্তায় নামছে। মানুষ বাড়ছে। রাস্তা বাড়ছে না। বললেন, আমার মন্তব্যটি অপ্রিয় হতে পারে। যদিও সংসদে আমি একথা বলেছি। রাজধানীতে যেভাবে প্রাইভেট কার চলে তাই মূলত সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে। গ্যাস ও ডিজেলের দাম যদি এক করে দেয়া হয় তাহলে সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। অথবা শুধু গ্যাসের দাম বাড়ালেও চলবে। কারণ, মাত্র ৪শ’ টাকার গ্যাস নিয়ে সারাদিন ঢাকা শহরে অনেকেই অযথা প্রাইভেট কার নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন। যদি ২ হাজার টাকা লাগতো তাহলে হয়তো অনেকেই সচেতন হতেন। কঠিন বিষয়কে রসিকতার মাধ্যমে হালকা করতে সিদ্ধহস্ত এ প্রেসিডেন্ট। অতীতে এ নিয়ে অনেক নজির রয়েছে। নিজে থেকেই বললেন, মাঝে মাঝে মৃত্যুর কথা চিন্তা করি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর ভাইয়ের আসনে তার ছেলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে আমাকেও আমার নির্বাচনী আসন ছাড়তে হয়েছে। সেখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছে আমার ছেলে। এসব দেখে মনে হয়, আমার মৃত্যুও কি জিল্লুর ভাইয়ের মতো হবে?
মি. প্রেসিডেন্ট সামনে আপনার কঠিন দায়িত্ব। রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে এদেশের মানুষ মুক্তি চায়। আপনার মতো সংসদীয় গণতন্ত্র অভিজ্ঞজনের কাছে পুরো জাতির প্রত্যাশা অনেক। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই লাইমলাইটে থাকবেন আপনি, আপনার ভূমিকা। সারা জীবন তিলে তিলে আপনি যে ইমেজ গড়েছেন তাতে আমরা দেশবাসী আনন্দিত। সামনের দিনগুলোতেও আপনি একই ইমেজের আবদুল হামিদ এডভোকেট থাকবেন- এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।মানবজমিন
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








