Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
সব ক্যাটাগরি

কোন অঘটন ঘটলে দশ জন নারীই বলবে মেয়েটাই ভালো না: নারী কথা নারী কাব্য কুসুম কলি হয়ে ওঠবে সে দিন!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 165 বার

প্রকাশিত: May 22, 2021 | 11:52 AM

জুলি রহমান: বহু প্রাচীন যুগ থেকেই নারী পুরুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পুরুষের মতো নারীর অঙ্গ প্রত্যঙ্গে কোন কিছুর কমতি না থাকলেও নারীকে পুরুষ কম বুদ্ধি সম্পন্ন কম শক্তি কম মেধা মনন ভাতেই বেশী পছন্দ করতেন। নারী অবরোধ বাসিনী। চাকুরী করা টাকার মুখ দেখা কস্নিন কালেও নারীর জন্য নয়। ও সবই পুরুষের কাজ। পুরুষ বসবে উঁচু আসন চেয়ারে। নারী বসবে পিরিতে। হাঁটু মোড়ে। এই যখন নারীর অবস্থান তখন স্বাভাবিক নিয়মেই নারীর ভেতর জমে ওঠে অভিমানের মেদ। সেই মেদে নারীই নারীর বিপক্ষে চলে যায়। কন্যা সন্তান জন্মালে সেই সন্তানের প্রতি মা হয়ে ওঠেন কর্তৃত্ব বজায় কারী স্বৈর শাসক। কন্যাটিকে পুরোপুরি নারী বানানোর জন্য মা উঠে পড়ে লেগে যান। শুধু যে শাসন তাই কিন্তু নয়।

শিক্ষিত খানদানী পরিবার হলে পুত্র সন্তানটিকে দেন ইংরেজী মাধ্যমে। কন্যাকে দেন অতি সাধারণ একটা স্কুলে। কারন ছেলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কন্যা যদি ইংলিশ মাধ্যমে পড়ে বেয়াদব হবে এই কন্যাকে পাত্রস্থ করতে দায় হবে। তাছাড়া মেয়ে মানুষ অত বিদ্যান হয়েই লাভ কী? ঠেলবে তো সেই হাড়ি। তাঁর জন্য এতো বিদুষি কী মানায়?

একটা ছেলে বিকেল হলেই তাঁর জন্য মুক্ত আকাশ। সেই আকাশের নিচে খেলবে ফুটবল। ভলিবল। আরা কন্যা কৈশোর তাঁর হাতে তুলে দিলেন মা সুঁই সূতো। খেলার জন্য লুডু। পিঠেপিঠি ভাইবোন। ছেলে শিশুটি যখন উন্মুক্ত মনে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে দৌড়াচ্ছে। বোনটি তখন তাঁর জমজকে কোলে নিয়ে আদরে সোহাগে সময় পাড় কছে। বাড়ির চার দেয়ালের ভেতর। মন তাঁর বৃহতের নাগাল কোথায় পাবে? তাঁর মাথা মুখ ঢেকে চলতে বলা হলো। হাসিতে নিরবতা চলাতে নিরবতা বিড়ালি পায়ে চলতে চলতে এক সময় মেয়েটি বিড়ালই হয়ে গেলো। ছেলেরা হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

ঐ যুগ পেরিয়ে এখন ডিজিটাল যুগ। নারী না-কি এখন খুব স্বাধীন। তাই হয় নারী দিবস। নারী পত্রিকা। তৈরী হচ্ছেন অগনন নারী লেখক কবি সাংবাদিক। সেই সাথে ডক্টরাল, ডাঃ,ইন্জিনিয়ার সরকারী আমলা অফিসার, আর্কিটেক্ট পাইলট। সাঁতারু কুম্ফোকেরাত কোথায় নাই নারী? সর্বত্রই নারীর বিচরণ।
কিন্তু নারী কি এখনো স্বাধীন?একজন পুরুষের মতো?নারী কি স্বাধীন তাঁর পুরুষ বসের কাছে?নারী কি স্বাধীন সাহিত্যাংগনে?নারী কী স্বাধীন সাধারণ পোশাক তৈরীর কারখানায় ?
নারী কি আজো স্বাধীন হতে পেরেছে নিজের সংসারে? হাতে গোনা দশ থেকে বারোজন নারী সংসারে স্বাধীন। বাকী সব পুরুষের বগল চিপায় বকনা বাজায়। হ্যা কিছু পুরুষও স্বাধীনতা বিকিয়ে বসে স্ত্রীর খড়গ চোখের কাছে। সমাজে তাঁরা স্ত্রৈণ বলে আখ্যায়িত। দুটো দিকই খারাপ। ভয়ে আর যাই হোক সংসার হয় না। একই ছাদের নিচে বসবাস হয়। নারী যদি অধিকারের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় সেই সংসার যেমন নরকে পরিণত হয়। তেমনি পুরুষ যদি সর্বক্ষেত্রে পুরুষালী ভাব দেখাতেই ব্যাস্ত। ওখানেও প্রেম জানালা খুলে পালাতে বাধ্য।

কথা হচ্ছে নারী কথা। পুরুষ কেনো?হুঁ সেই তো কথা লিঙ্গান্তর। নারী কবির সংখ্যা কনো এতো কম? বলেছিলেন এক পুরুষ কবি। তারপর থেকেই গুতোগুতি করছে কিছু কথে জুলি নারীর ভেতর। আজ তাঁর প্রকাশ করছি। এখন পত্রিকার পাতা ভরাট থাকে নারীদের ছবি কবিতা নারী কথা নারী দিবস। নারীর সম অধিকার। নারীর জীবনের কথা স্নৃতিচারণ।পত্রিকার বুক ভরাট এতো এতো নারী কথা।তা-ও নারী কবি হয়ে উঠছে না কেনো? পুরুষ কবিদের মনে প্রাণে এই প্রশ্ন উঁকি ঝুঁকি মারছে দিনরাত। পত্রিকায় এতো উল্টা সোজা নারী প্রতিকৃতি সৃজন দেখেও যারা নারী কবি খুঁজে পান না তাদের জন্যই আজকের নারী কথা।

এতো সহজ? পৃথিবীর প্রথম কবিই কিন্তু নারী! জানেন তো? আজ থেকে২০০ বছর আগে চন্দ্রাবতী গীতিকাব্য তা-ও নারীর হাতের লেখা। ভারত উপমহাদেশে প্রথম প্রবন্ধকার নারী ফয়জুন নেসা। স্প্যনিশ নারী কবি বুলবুলি কবিতা লেখার জন্য প্রাণঘাতি হন। নারী জন্মলগ্ন থেকেই বন্চিত। পুরুষের মতো ষোলোআনাই গড়া নয় কোনো ঘরেই কোনে কালেই নারীর জীবন। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে নারীর স্বাধীনতা ক্ষুন্নিবৃত্তি মাত্র। কোনো নারী কি বাংলাদেশ ভারতে রাত বারোটায় পুরুষের মতো সিনা টান টান করে হাঁটতে পারবে? তবে কিসের স্বাধীনতা? এই আমেরিকায়ই কী কোনো নারী নিরিবিলি কোনো পথে রাতের আঁধারের পথ বিলিকেটে এগুতে পারবে পুরুষের মতো নির্বিঘ্নে? কোন অঘটন ঘটলে দশ জন নারীই বলবে মেয়েটাই ভালো না। এতো রাতে কী দরকার একা বের হবার? আর একটা ছেলে নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে পথে হাঁটছে। এই জন্য আমি নারী আন্দোলন, নারী দিবস ,নারী পত্রিকার বিরুদ্ধে।নারী তো নারী ই তাকে আবার চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেখিয়ে দেবার নামই নারী দিবস।আমি মনে করি।নারীর ভেতরে এতো কথা যে কথা লিখে নারীগন কুল পাচ্ছে না।কারন তাঁরতো কথা বলার জায়গা নেই!তাঁর কথা শোনার তো কোনো মানুষ নেই। তাই সব কলমে উঠে আসে।যে কারনে নারীর সাহিত্য ও সাহিত্য হয়ে ওঠে না। কবিতা তো আরো দূরের পথ।ঘরই তো নারীকে ঠাঁই দিলো না।না বাবার বাড়ি না স্বামীর বাড়ি।কয়টা নারী যোগ্য বর পেলো?ঘর পলো?অফিস পেলো?আদালত পেলো?সামাজিকতায় ঊর্ধে থাকলো?সাহিত্যাঙ্গনে একজন পুরুষ কবির মতো সন্মান পেলো?বরন্চ নারীকে জিহবার চাবুকে দমিয়েই রাখে পুরুষ কলমধারী নবীসেরা।ঘাটে পথে সেই কলংকিত ইতিহাস।সুতরাং নারী কি ভাবে কবি হয়ে উঠবে?কোনো নরীর কবিতার বই কোনো পুরুষ কবি কিনেছে পড়েছে?তাদের কপিটি নারীর হাতে হস্তান্তর করতে পারলেই তারা বনদী হয়ে ওঠেন।

একবার বইমেলায় বেশ নাম করা কবির বইটি আমি কিনলাম।আর আমার চারশো কবিতার বইটি তিনি হাতে নিয়ে নাড়লেন চাড়লেন কভার থেকে শুরু করে খুব প্রশংসা করতেই করতেই বইটি আমার হাতের উপর ঢেলে দিলেন।তারপর ধীরে ধীরে ভীরের ভেতর শরীর টা লুকিয়ে নিলেন।কিন্তু তিনি যে আমার দৃষ্টির ভেতর আজবীন গেঁথে থাকলেন ।সে টি বোধ করি বেমালুম ভুলেই গেলেন।একজন পুরুষ কবির ভেতর এতোটাই দীনতা হীনতা থাকে যে তাঁরা নারী কবির মূল্যায়ন দূরে থাক পরিচয়টা দিতেই কুন্ঠা বোধ করেন। চলার পথে বিভিন্ন কবিতার আসরে বহবিধ ভোগান্তির চিত্র হৃদয়ে গাঁথা।নারীকে কবি হওয়ার পথে পরুষই অন্তরায়। ঘরে বাইরে সাহিত্যাঙ্গনে।কাজেই কোন পুরুষ কবি যখন আবার এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে খুঁজে মরে হা হুতাশ করে ।আমি বলবো ঐ সব পুরুষ কবিদের ল্জ্জা কম।

নারী কেনো কবি হয়ে উঠতে পারে না তাঁর জ্বলন্ত উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।এই পর্যন্ত যত পুরুষ কবি রাজকবি আধুনিক কবি প্রধান কবি হয়ে ওঠেছেন তাঁরা নারীর বস্ত্রের বাগান লুট করেই হয়েছেন।একজন নারী তো পুরুষের অন্তর্বাস খুলতে পারেন না।সুতরাং নারী কিভাবে কবি হয়ে উঠবেন?নারী যতই ছন্দ মাত্রা তাল লয়ে দৌড়াক না কেনো কবিতা কবিতা হয়ে উঠবে না।ছন্দের বারান্দায় দৌড়াতে দৌড়াতে হাত পা ভেঙে ফেললেও একজন নারী কবি হয়ে উঠবন না।কারন একজন পুরুষ কবির পক্ষে পুরুষই ।নারীর পক্ষে যাও দু একজন আছেন তাঁরাও নারীর সুন্দর আঁচলে ঘর্ম মুছেই জবান খুলেন।সে গুলোও একদিন গার্বেজ ই হবে।কারন তোষামোদি বেশীদিন ধূপে টিকে না।

একুশের পদকের পিছনে লম্বা লাইন পুরুষেরই বেশী।হাতে গোনা দু একজন নারী আছেন তা আবার সাহিত্যে ভীষণ দুর্বল।যা নিন্দাই বেশী ছড়ায়।
বাংলা একাডেমী কতোজন কবির দায়ভাড় নিয়ে বই করে দিচ্ছেন?দিলেও তা খুব গোপন।শেকড় বাকড়ের দরাদরিতে স্বদেশ মাতৃকার কবি হতে হবে।পরবাসী অনিবাসী যতই খুরধার লেখক হোক না কেনো পায়ের তলার মাটি যে ইট পাথরের।

যাক গে,বারবার নারী কথা থেক সরে যাচ্ছি।পুরুষ গনও নারীদের কথা এতো শুনতে চান যে ভাবতেই তাদের ভালো লাগে আহ কী চরম ঠকানোই না ঠকিয়ে যাচ্ছি আমরা নারীকুলকে।আর নির্বোধ অবোধ বালিকা নারী গন আহ -উহ -শুনেই প্রাণ শীতল করে গীতল হয়ে ওঠেন।ধরুন একদল ছেলে দূরে আমোদে প্রমোদে ঢেলে দিচ্ছে নিজেকে।এক্ষেত্রে কোন উচ্চবাচ্চ কিন্তু নাই।একদল নারী যখন বাইরে প্রমোদে ঢালে মন?ছিঃছিঃ স্বামী ছাড়া বাইরে একি ঢলাঢলি?স্বামী জানে তো?আচ্ছা এদের কোন সংসার টংসার নাই নাকি?হাজার কথার খুনসুটি।নারী স্বাধীন?

একজন নাম করা কবি একজন নারীর কবিতাও শুনছেন পুরুষের কবিতাও শুনছেন।পুরুষ কবিকে নানা উপাখ্যানে ভূষিত করলেন।কাছে বসালেন।দশকওয়ারী করলেন।বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন কবিতার আসরে হাইলাইট করলেন।নারী কবি এবং কবিতার জন্য কিছুই করলেন না।নারী কেমন করে কবি হয়ে উঠবেন?হ্যা নারী কবির জন্য সবাই যা করেন তিনিরাও তাই করেন কবিতা পড়ার নেমন্তন্য পাঠান !জন সংখা বাড়ানোর জন্য দর্শক সারি বাড়ান।কারন বিশেষ বক্তব্য দিবে মান্যবর পুরুষ কবিকুল।তখন যদি দর্শক সারি হয় গড়ের মাঠ?কেমন বেমানান।তাই দশটি চেয়ারে বসে গেলেন দশ পুরুষ কবি।নারীর জন্য কখনো কোনদিন কোনো কবিতার অনুষ্ঠানে কথা বলার জন্য একটি চেয়ারও চোখে পড়েনি।নারীর কথা তাই নারীর বুকের কন্দরেই গুমড়ে গুমড়ে মরে।নারী যেনো অপ্রস্ফটিত গোলাপ কলি।তাকে ফুটতেই দেয়া যাবেনা।যতক্ষণ অনুক্ত ততক্ষণেই পুরুষের জয়।সে ২০০ বছর আগেও যা !বর্তমান ডিজিটাল যুগেও তা।শুধু পরিবর্তন হয়েছে ব্যবহারের ধারা।পূর্বে যা ছিলো প্রতক্ষ ।এখন পরোক্ষ।

হ্যা কিছু নারীও কবি হয়ে উঠবেন মরনের পর।তখন তো বিচারের ভাড় পরবে বিশুদ্ধ মননে।বোদ্ধা পাঠকের চোখে।সাহিত্য সমালোচকের কলমে।তখনো তৈরী হতে হবে মন্বন্তরের দলিল।পথে পথে পায়ে পায়ে যতোটা ঝরলো রক্ত।না বলা কথার অব্যাক্ত যাতনা যতোটা ছিঁড়েছে বুকর জমিন।সব সব হবে ইতিহাস ।নতুবা হবে সংস্কৃত অঙ্গন ;কবিতার ভূবন ,হবে কলংকিত।নারী কথা নারী কাব্য কুসুম কলি হয়ে উঠবে সে দিন।

নিউইয়র্ক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV