ক্রেতারা সরে যাওয়া সমাধান নয়
ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সাভার ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাকের ক্রেতারা অন্যত্র সরে গেলে তাতে সমস্যার সমাধান হবে না। তাতে বাংলাদেশের শ্রমিকরাই শুধু কর্মসংস্থান হারাবেন। ২রা মে বিবিসির অনলাইনে প্রকাশিত ‘ক্যান বাংলাদেশ ক্লথিং ফ্যাক্টরি ডিজঅ্যাস্টারস বি প্রিভেন্টেড?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাভার ট্র্যাজেডির পর কয়েক লাখ শ্রমিক তাদের কাজে ফিরে গেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো কিভাবে ভবিষ্যতে সাভার ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা এড়ানো যাবে? সাভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনার বিষয়ে বিবিসি অনলাইন অনুসন্ধান করে। তার ভিত্তিতে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা ও সৃষ্টিশীলতা বিভাগের ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ার প্রফেসর লিন্ড স্কট বলেছেন, সমস্যার সমাধানে নানামুখী চাপ প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়ে আসল চাপটি দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের মধ্যে আরেকটি পর্যায় আছে উৎপাদনকারী। তাদেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। সবচেয়ে কার্যকর দিক হলো পোশাকের সাধারণ ক্রেতার অবস্থান। কিন্তু এতে সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যা অন্যত্র স্থানান্তর হবে। শিল্প অন্য দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অর্থ দুর্গতি এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাওয়া। এতে কেবল বাংলাদেশের মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন লেবার বিহাইন্ড দ্য লেবেল-এর প্রচারাভিযানের সমন্বয়কারী আনা ম্যাকমুলেন বলেন, আমরা বর্জনে বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি, এটা খুব বাজে একটা ধারণা। মানুষ যদি সস্তা পোশাক কেনা বন্ধ করে দেন, তাহলে এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে। এটা ব্রান্ডের দায়িত্ব। তারা যদি বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনে, তাহলে তাদেরই শ্রমিকদের মজুরি, ভবনের উন্নত মান, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অন্য নিরাপত্তার মাপকাঠি ঠিক করে দিতে হবে। এ জন্য সব পর্যায়ের সবাইকে কাজ করতে হবে। দারিদ্র্যবিরোধী দাতব্য সংস্থা ওয়ার অন ওয়ান্ট-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা পল কলিন্স বলেন, আমরা আমাদের বাংলাদেশী অংশীদার জাতীয় পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিচ্ছি। তারা তাদের সমর্থন করা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নেয়। এখানে এসব সদস্য প্রধানত নারী। তারা বলছেন, পেশাটা পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হওয়া উচিত। মজুরি হওয়া উচিত জীবনধারণের উপযোগী। অতিরিক্ত শ্রম দিতে বাধ্য করা উচিত নয়। কিন্তু তারা আশঙ্কা করছেন, পোশাক বর্জনের প্রচারে শ্রমিকরাই চাকরি হারাবেন। তারা গ্রামীণ এলাকা থেকে এসেছেন। তারা চরম দরিদ্র। তাই আমাদের বর্জনের ডাক দেয়া উচিত নয়। যুক্তরাজ্যের ক্রেতা কোম্পানিগুলো যেসব কারখানা থেকে পোশাক কেনে, সে সব কারখানার শ্রমিকদের সঠিক মজুরি নিশ্চিত করেনি তারা। তাই বৃটিশ সরকারকে এই সমস্যার বিষয়ে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের বিষয়ে একটি মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা বৃটিশ আদালতে এর প্রতিকার চাইতে পারি। ব্রুকলিনভিত্তিক সাংবাদিক ও লেখক এলিজাবেথ এল ক্লিনের মতে, বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ। কারখানায় পরিবর্তন আনার মতো যথেষ্ট অর্থ তাদের নেই। প্রতিটি কারখানায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পাঁচ লাখ ডলার দরকার। ক্রেতা ব্রান্ডগুলো এই অর্থ দিতে পারে। কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশের পরিচালক জেমি তেরজির মতে, পদ্ধতিগত ব্যর্থতার জন্য এত বড় মাপের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ধরা হলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এই সমস্যা অনেক বড় ও জটিল। সরকার, জনগণ, কারখানার মালিক, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভোক্তা সবার ওপরই নির্ভর করছে সমাধান।মানবজমিনসর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি