Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
সব ক্যাটাগরি

গোটা আরব যেন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 103 বার

প্রকাশিত: February 4, 2011 | 12:10 AM

জন আর ব্রাডলি: মিশর গণবিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। প্রতিবেশী জর্ডান ও তিউনিসিয়াতেও জনগণ ক্রমশ শাসক সমাজের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে। গোটা আরব যেন এখন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড। সেপ্টেম্বরে মিশরে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পদত্যাগ করার ঘোষণাও ক্ষুব্ধ জনতাকে থামাতে পারেনি। এখনই তার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। রক্ত, মৃত্যু, হত্যা সত্ত্বেও তারা পিছু হটছে না। মিশরের দক্ষিণ ইয়েমেনেও জনবিক্ষোভ ফুঁসে উঠছে। জনতার মনোভাব বুঝতে পেরে দেশের বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ আরেক দফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছেন আগেভাগেই। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি জনতা। এর পাশাপাশি তিনি ছেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে পারিবারিক শাসনতন্ত্র চালু করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন। জনরোষের মুখে আরব বিশ্বের একের পর এক নেতার পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিউনিসিয়ার তথাকথিত জেসমিন বিপ্লবের পর থেকেই সমগ্র আরব বিশ্বে জনরোষ ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ে। গত মাসে জনগণের দু’সপ্তাহের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের মুখে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলি পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এ বিক্ষোভ এখন তিউনিসিয়া থেকে মিশরে ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি অল্প দিনের মধ্যেই মিশর থেকে ইয়েমেনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এরপর সেটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? গণতন্ত্রের দাবিতেই এসব দেশের জনবিপ্লবের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক রাজতন্ত্রের অধীন সৌদি আরবে এসবের কোন বালাই নেই। আরব বিশ্বে এখন যা ঘটছে তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। পরিস্থিতি আঁচ করে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বুধবার তার অজনপ্রিয় সরকার ভেঙে দিয়ে সংস্কার নিয়ে শোরগোল শুরু করেছেন। এ ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোতে গণতন্ত্রের সুবাতাস আসাটা বৃটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর জন্য খুশির সংবাদ বয়ে আনতে পারে। তবে আরব দেশগুলোতে যে গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে ইসলামপন্থিরাই সেখানকার ক্ষমতা দখল করছে। মরক্কোতে গণতন্ত্র এসেছে। প্রতি নির্বাচনের পরই দেখা যাচ্ছে ইসলামপন্থি পিজেডি দলের আসন সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাহরাইনে গণতন্ত্র এসেছে। সেখানেও দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামপন্থি দলগুলো বেশির ভাগ আসনে জয়ী হচ্ছে। গাজায় গণতন্ত্র এসেছে। আর ইসলামপন্থি হামাস সেখানকার শাসনভার গ্রহণ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে মিশরের প্রধান বিরোধী সংগঠন বলে পরিচিত মুসলিম ব্রাদারহুদ বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ আস্থার আভাস পাচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে তাদের সুদিন ঘনিয়ে আসছে। তাই আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী হলেও সত্য, এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বছর ধরে মুবারকের মতো একজন স্বৈরশাসককে মিশরে সমর্থন দিয়ে এসেছে। একই কারণে আরব শাসকদের দুরবস্থাতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। আরব বিশ্বে গণতন্ত্র শাসনতন্ত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সেই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য নিয়ে আসবে ইসলামপন্থি শাসনের দুঃস্বপ্ন। পুবে পাকিস্তান থেকে শুরু করে পশ্চিমে মরক্কো পর্যন্ত সমগ্র এলাকা ইসলামপন্থি শাসকদের সমন্বয়ে যেন প্যান আরব কমনওয়েলথের সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী নয়। সেখানে তাদের সরকারই যাবতীয় নীতিনির্ধারণ করবে। মিশরের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্পর্কে ইসরাইলের রাজনীতিবিদ এবং সেনা কমান্ডারদের দুশ্চিন্তার কাছে অবশ্য ইউরোপিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তা বেশ ফিকে মনে হয়। কেননা, মিশরে গণতন্ত্র এলে ইসরাইল বেশ ভালো করেই জানে প্রথমেই মুসলিম ব্রাদারহুড ১৯৭৯ সালের মিশর-ইসরাইল শান্তি চুক্তি ভেঙে দেবে। আর এর ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যই ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মুখে পড়বে।মানবজমিন।
জন আর ব্রাডলি- ‘ইনসাইট ইজিপ্ট : দ্য ল্যান্ড অব দি ফারাওস অন দ্য ব্রিঙ্ক অব এ রেভল্যুশন’ গ্রন্থের লেখক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV