Saturday, 6 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

চারটা কারণে আমি আমেরিকা থেকে আসি,পালিয়ে আসিনি-শামীমুন নাহার লিপি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 129 বার

প্রকাশিত: April 20, 2011 | 10:47 AM

স্টাফ রিপোর্টার,মানবজমিন : তিনি এসেছিলেন মানবজমিন-এ। শামীমুন নাহার লিপি। এসেছিলেন কাহিনী বর্ণনা করতে। তার আগে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের সবাইকে শেষ করে দেবো। আমি কাউকে ছাড়বো না। “লিপি’র সঙ্গে ওসি’র কি সম্পর্ক”-এ শিরোনামে মঙ্গলবার মানবজমিন-এ রিপোর্ট প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। এর মধ্যে শামীমুন নাহার লিপি (৪৭) কয়েকজন সঙ্গী সহ গতকাল আসেন মানবজমিন কার্যালয়ে। প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, আমি কোন জায়গা থেকে শুরু করবো? আ ক্যান নট ডিফেন্ড এভরিথিং। আমি যেটা জানতে চাই, সেটা হলো, ছবির দু’টো মাথা একসঙ্গে করলেন কিভাবে? আমি এর উত্তর চাই।
বাংলাদেশের মধ্যে যে ক’জন ভাল ওসি আছেন তার মধ্যে একজন তিনি। আর তাকে নিয়ে যে ধরনের লেখা হয়েছে যা ভাবতেও লজ্জা হয়। তার সঙ্গীদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ওরা আমাকে পুরো রিপোর্ট এখনও পড়তে দেয়নি। আমি এখানে এসেছি, তারপর এ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করবো। লিপিকে প্রশ্ন করা হয়, ওসির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তো আপনার মা-ই তার মামলায় উল্লেখ করেছেন। আর রিপোর্টে যা লেখা হয়েছে তাতো ওই মামলা থেকেই নেয়া। তিনি বলেন, ওরা আমার বাবাকে মেরেছে। এখন আমাকে মারতে চায়। আমি অবৈধ কাজ করবো কেন? আমার অমানুষ ভাইয়েরাই তো অবৈধ কাজে লিপ্ত।  আরিফুর রশীদ, যে আমার সো কলড বড় ভাই। সে ‘ডেসটিনি’র সাইনবোর্ড লাগিয়ে বাসার মধ্যে অবৈধ কাজ করছিল। এসবের প্রতিবাদ করায় ওরা নানাভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছিল। ওরা ইয়াবা দিয়ে আমাকে হাজতবাস করিয়েছে। আদালতে মামলা করেছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় না এসে র‌্যাবের কাছে কি করে যায়? এটা আমার প্রশ্ন। আর র‌্যাব এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এসব আমার ভাড়াটিয়া এবং মহল্লাবাসী সবাই জানেন। আর মামলার কথা বলছেন- ওই মামলা তো এখনও তদন্তই হচ্ছে।
আমি আমেরিকায় থাকতাম। সেখান থেকে পালিয়ে আসিনি। পাসপোর্ট দেখিয়ে বলেন, চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, কাল আমেরিকা গিয়ে আবার দু’দিন পর ফিরে আসতে পারবো। তবে চারটা কারণে আমি আমেরিকা থেকে আসি। বাবা (সাবেক সচিব এ কে এম রশীদউদ্দিন) তিন বছর আগে মারা যান। তার পেনশনের টাকা ওঠাতে পারছিল না মা। আমি এসে ৩ লাখ টাকা উঠিয়ে দেই। একই সঙ্গে পেনশন রানিং করে দেই। তখন মাকে বলেছিলাম, আবার তো চোখ ওল্টাবেন না। প্রকৃতপক্ষে আমার মা ছিল জমিদারের মেয়ে। তার চোখ পাল্টানো স্বভাব ছিল। বাবা ছিলেন সিম্পল পরিবারের ছেলে। মায়ের অত্যাচারে বাবা বাসার মধ্যে অসহায় হয়ে থাকতেন। আমি সব সময় বাবার পাশে থাকতাম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আমি তৃতীয়। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি। যেন তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমারও মৃত্যু ঘটে। আমি বাবার সঙ্গেই মারা গেছি। বেসিক্যালি আমি মৃত একটা মেয়ে। তারপরও বাবার একটা আদেশ ছিল- অনেক কষ্ট করে সম্পত্তি অর্জন করেছি। ওগুলো রক্ষা করতে হবে। ওই দায়িত্ব তিনি আমার ওপর দিয়ে গেছেন। তার দুই ছেলে আসিফুর রশীদ ও আরিফুর রশীদের কেউই মানুষ হয়নি। এ কারণে ওদের দু’জনকে ১৯৯৯ সালে স্ত্রী ও সন্তানসহ আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে আমেরিকা নিয়ে গেছি। ওখানেও আরিফ কিছু ঘটনার জন্য আমার ও আমার বাচ্চার গায়ে হাত তোলে। এ অপরাধে ২০০২-এর আগস্টের ১৪ তারিখে তাকে এফবিআই ধরে। আমার এগুলোর সব প্রমাণপত্র আছে। এখন প্রকাশিত এ খবরের বিরুদ্ধে আমি লড়বো। কারণ এখানে একটা লাইফ নয়, ৫-৬টা লাইফ নষ্ট হয়েছে। এসব ঘটনা ১৫ মাস ধরে চলছে। সকালে ওসি’র স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে চিৎকার করে ওঠেন। প্রশ্ন করে বলেন, কেন এমন হলো। আপনি আমার স্বামীর কেমন বোন?  আমি তাকে আশ্বস্ত করে বলেছি, বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিন। কেন পেপারে এমন খবর এলো। আমি এর শিকড়ে যাবো।
লিপি আরও বলেন, আমার স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্যাতনের সেলে আছে। আমার পক্ষে আমার পরিবার না গিয়ে উল্টো শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আপনারা যা লিখেছেন তার প্রত্যেকটি লাইন মিথ্যা।  আসলে বাচ্চার ভরণপোষণ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। ওর পুরো পরিবার করাপ্ট।  আমার স্বামী আমার বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাসহ স্বামীকে খুঁজতে আমার ১৮ মাস লেগেছে। পরে ক্যালিফোর্নিয়া কোর্টে রেজিস্ট্রেশন করে তাকে কোর্টে হাজির করি। বাচ্চাদের আমার হেফাজতে নেই। এরপরই আমাকে নিয়ে গেম শুরু হয়। আর এসব গেমের মূল ব্যক্তি হচ্ছে আমার স্বামী ড. মাহবুব হোসেন। আমাকে নিয়ে পত্রিকায় যা লিখেছেন তা আনবিলিয়েভল। একটা অভিযোগও সত্য প্রমাণ করতে পারবেন না। এটার পেছনে সবার আগে জড়িত মাহবুব হোসেন। অলরেডি তার নামে আমি ওয়ারেন্ট বের করেছি। আমি এখন আখেরি পায়ে দাঁড়িয়ে। এরপর আমার মা, আর ফুয়াদ হোসেন ও রমজান আলী নামে দু’জন উকিল আছে। ওরাই ক্রিমিন্যাল বুদ্ধি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছে। র‌্যাব-এর যে মেজর আমাকে মাদক ব্যবসায়ী প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন সেই মেজর রকিবের এখন চাকরি নেই। আমি ওদের কাউকে ছাড়বো না। শেষ করে দেবো।

ওসি’র প্রতিবাদ
ওদিকে গতকাল ডিএমপি’র মাধ্যমে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান একটি প্রতিবাদলিপি পাঠান। এতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। শামীমুন নাহার লিপি ও তার মা-ভাই-বোনদের মধ্যে বাড়ির জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক কলহ বিদ্যমান। উক্ত কলহের সূত্রে থানায় মামলা হয়, থানা কর্তৃপক্ষ মামলা তদন্তে উল্লেখিত বাড়িতে যায়। ওসি’র ওই বাড়িতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওই বাড়িতে একাধিক ভাড়াটিয়া রয়েছে। লিপি’র সঙ্গে ওসি বা থানার অফিসারদের আইনি সম্পর্ক ছাড়া আর অন্য কোন সম্পর্ক নাই। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করে, এসব বিষয় মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রিপোর্ট ইতিমধ্যেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছে। রাত-বিরাতে পুলিশ ওই বাসায় অবস্থানের প্রশ্নই আসে না। ২০১০ সালের মার্চে থানায় শামীমুন নাহার লিপি তার ভাই, ভাইপো, ভাই বউ-এর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। থানা পুলিশ সে মামলা তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। যার প্রেক্ষিতে লিপি’র মা, ভাই ও বোন পুলিশবিদ্বেষী হয়ে উঠেছে। পুলিশ যাতে শামীমুন নাহার লিপিকে পুলিশি সহায়তা না দেয় এবং পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রথমে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে যা মিথ্যা বলে তদন্ত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল হয়। অতঃপর তারা মিথ্যা মামলা করে। এর পরও যখন পুলিশ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট সেই কারণে পুলিশকে আরও নিষ্ক্রিয় ও অপদস্ত করার জন্য পত্রিকায় মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

খোঁজখবর
মানবজমিন-এ রিপোর্ট প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে সর্বত্র। নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসনও। খিলগাঁও জোনের এসি তারিক বিন আজিজের নেতৃত্বে একটি টিম ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। পুলিশের একাধিক সূত্র এর সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে কেউই নিজের জবানিতে বলতে রাজি হননি।

মানবজমিন এর সৌজন্যে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV