চার দশকের প্রেম,চলচ্চিত্র নির্মাতা কল্পনা লাজমিকে বিপুল সম্পদ দান করলেন ভূপেন হাজারিকা
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: প্রায় চার দশকের প্রেমের মূল্য দিলেন উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সুরস্রষ্টা ভূপেন হাজারিকা (৮৫)। তিনি এই দীর্ঘ সময় হৃদয়ের বন্ধনে জড়িত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কল্পনা লাজমির সঙ্গে।কল্পনা তার থেকে ২৮ বছরের ছোট। সেই প্রেমকে কেন্দ্র করে তাকে সহায়-সম্পত্তির ভাগ দিয়ে গেলেন একটি উইলের মাধ্যমে। কল্পনার বয়স যখন মাত্র ১৭ বছর, তখন ভূপেন হাজারিকার ৪৫। ওই বয়সেই প্রথম তারা প্রেমে পড়েন। এরপর এই দীর্ঘ সময়ে তাদের সম্পর্কে কোন টান পড়েনি। উল্টো একজন আরেকজনের কাছাকাছি এসেছেন। ভূপেন হাজারিকা আর কল্পনা একত্রে বসবাস করতে থাকেন তাদের মুম্বইয়ের বাড়িতে। এ খবর দিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস ও মাসালা ডট কম। ওই উইলে ভূপেন হাজারিকা তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, ১৯৭৭ সাল থেকে কল্পনা লাজমি আমার ব্যবসার অংশীদার। আমার যে ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে, তার পেছনে পুরো কৃতিত্ব তার। তার সঙ্গে যখন আমার যোগাযোগ হয়, তখন আমি ছিলাম কপর্দকশূন্য। আমার হাতে ছিল মাত্র ৩৫ রুপি। সে সময় থেকে তিনি আমাকে যত্ন সহকারে দেখাশোনা করেছেন। এমনকি যখন আমি প্রচণ্ড আর্থিক দৈন্যে পড়েছি, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি, তখন তিনি ছাড়া কেউই আমার কাছে এগিয়ে আসেননি। ভূপেন হাজারিকা ও কল্পনা লাজমির মধ্যে দীর্ঘদিনের জানাজানি নিয়ে অনেক কল্পকথা আছে। অনেকে মনে করেন তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভূপেন হাজারিকা আগামী ১২ই ডিসেম্বর ওই উইলে স্বাক্ষর করবেন তিনি। এই উইলের বলে কল্পনা লাজমি পাচ্ছেন তার যাবতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতের স্বত্ব, মুম্বইয়ের আন্ধরীতে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট, কলকাতার ৭৭ বি, গোল্ড ক্লাব রোডের একটি ফ্ল্যাট, পুনেতে ১২৪০ দশমিক ০১ বর্গমিটারের দুটি প্লট, হাজারিকার পেনশন, গাড়ি, বিদ্যমান ব্যাংক একাউন্ট, ছবি ও টেলিভিশন সফটওয়্যারের নগদ অর্থ ও চেক ভাঙানোর অধিকার। উইলে হাজারিকা বলেছেন, আমার আগে যদি কল্পনা মারা যায় তাহলে উইলে বর্ণিত সম্পদ আমার মৃত্যুর পরে চলে যাবে তার মা ললিতা জি. লাজমির কাছে। ললিতা যদি মারা যান তাহলে তা তার ছেলে দেবদাস জি. লাজমি পাবেন ওই সম্পদ। এতে কিছু সম্পদ রয়েছে হাজারিকার ভাই ও বোনদের মধ্যে অংশীদারিত্বে। কিছু সম্পদ তিনি দিয়েছেন নিউ ইয়র্কে বসবাসরত ছেলে পুনাং তেজ হাজারিকা (৫৯)-কে। ভূপেন হাজারিকা তার স্ত্রী প্রিয়াম্বদা প্যাটেল হাজারিকা থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করছেন। তিনি বসবাস করেন কানাডায়। হাজারিকার এ ধরনের উইলে ক্ষিপ্ত তার নিকটাত্মীয়রা। তার ছোটভাই নৃপেন হাজারিকা বলেছেন, ১৯৭৭ সালে শূন্য হাতে ছিলেন দাদা, এটা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। কারণ ততক্ষণে তিনি তারকা হয়ে গেছেন। জিতেছেন জাতীয় পুরস্কার। তিনি তো পুরোপুরি নায়ক তখন। আমার বিশ্বাস তাকে কোনভাবে চাপ দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে এমন উইল করিয়েছে কেউ। হাজারিকা পরিবারের অন্যরাও বলেন একই রকম কথা। সুপরিচিত সংগীত শিল্পী সমর হাজারিকা বলেন, আমাদের কিছু যৌথ মালিকানার সম্পদ আছে। তা আমাদের মধ্যে ভাগ করে নেয়ার কথা বলা আছে উইলে। কি করে ভূপেনদা আইনগতভাবে তার নয়- এমন সম্পত্তি আমাদের মাঝে ভাগ করে দেয়ার কথা বলতে পারেন ওই উইলে?
চার দশকের প্রেম
প্রায় চার দশক আগে ভূপেন হাজারিকা ও কল্পনা লাজমির মধ্যে প্রেমের সূত্রপাত। এ সম্পর্কে বার্তা সংস্থা আইএএনএস’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কল্পনা বলেছেন- ভুপসো (হাজারিকাকে এ নামেই ডাকেন কল্পনা) কয়েক বছর আগে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আমি তাকে না বলে দিই। কারণ আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, তাতে আমার স্ত্রীর মর্যাদা অত্যাবশ্যকীয় ছিল না। তিনি আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন হয়তো। কিন্তু তার সে প্রস্তাবে আমি আগ্রহী ছিলাম না। আমি মনে করি আমাদের মধ্যে বিয়ের চেয়ে বিশ্বাস ও আস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কল্পনা লাজমি তার ‘রুদালি’, ‘দামন’, ‘এক পল’, ‘চিঙ্গারি’ ও ‘ধর্মীয়ান’ ছবির জন্য সুপরিচিত। কল্পনা বলেন- আমার পিতৃব্য আত্মারামের মাধ্যমে ভূপেনের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। তখন তিনি দাগ কাটা কমলা রঙের একটি শার্ট পরেছিলেন। তার স্বাস্থ্য ছিল ভঙ্গুর। এর এক বছর পরেই দু’জনের প্রেম পোক্ত হয়ে যায়। হাজারিকার হৃদয় ও ঘর জয় করেন কল্পনা। কল্পনা লাজমি বলেন- গত প্রায় চারটি দশক আমরা একত্রে বসবাস করছি। আমার মা এ সম্পর্ক স্বীকার করেননি। মেনে নেয়নি ভুপসোর পরিবারও। এর কয়েক মাস পরে আমার মা তাকে বিয়ে করে নিতে বলেন। এটা ভারতীয় একটি রীতি। ভুপসোর জীবনে অনেক নারী এসেছিল। আমিও অন্য পুরুষের প্রেমে পড়েছিলাম। হাজারিকার পরিবার সম্পর্কে কল্পনা বলেন, তার সাবেক স্ত্রী মাঝে-মধ্যে ফোনে তার সঙ্গে কথা বলতেন। কখনও কখনও তিনি আমাদের মুম্বইয়ের বাড়িতে চলে আসতেন।
চার দশকের প্রেম
প্রায় চার দশক আগে ভূপেন হাজারিকা ও কল্পনা লাজমির মধ্যে প্রেমের সূত্রপাত। এ সম্পর্কে বার্তা সংস্থা আইএএনএস’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কল্পনা বলেছেন- ভুপসো (হাজারিকাকে এ নামেই ডাকেন কল্পনা) কয়েক বছর আগে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আমি তাকে না বলে দিই। কারণ আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, তাতে আমার স্ত্রীর মর্যাদা অত্যাবশ্যকীয় ছিল না। তিনি আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন হয়তো। কিন্তু তার সে প্রস্তাবে আমি আগ্রহী ছিলাম না। আমি মনে করি আমাদের মধ্যে বিয়ের চেয়ে বিশ্বাস ও আস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কল্পনা লাজমি তার ‘রুদালি’, ‘দামন’, ‘এক পল’, ‘চিঙ্গারি’ ও ‘ধর্মীয়ান’ ছবির জন্য সুপরিচিত। কল্পনা বলেন- আমার পিতৃব্য আত্মারামের মাধ্যমে ভূপেনের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। তখন তিনি দাগ কাটা কমলা রঙের একটি শার্ট পরেছিলেন। তার স্বাস্থ্য ছিল ভঙ্গুর। এর এক বছর পরেই দু’জনের প্রেম পোক্ত হয়ে যায়। হাজারিকার হৃদয় ও ঘর জয় করেন কল্পনা। কল্পনা লাজমি বলেন- গত প্রায় চারটি দশক আমরা একত্রে বসবাস করছি। আমার মা এ সম্পর্ক স্বীকার করেননি। মেনে নেয়নি ভুপসোর পরিবারও। এর কয়েক মাস পরে আমার মা তাকে বিয়ে করে নিতে বলেন। এটা ভারতীয় একটি রীতি। ভুপসোর জীবনে অনেক নারী এসেছিল। আমিও অন্য পুরুষের প্রেমে পড়েছিলাম। হাজারিকার পরিবার সম্পর্কে কল্পনা বলেন, তার সাবেক স্ত্রী মাঝে-মধ্যে ফোনে তার সঙ্গে কথা বলতেন। কখনও কখনও তিনি আমাদের মুম্বইয়ের বাড়িতে চলে আসতেন।
সর্বশেষ সংবাদ
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes