জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টি
জলবায়ুর পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার প্রভাবে এবার হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা অথচ দেশটি কার্বন গ্যাস নিঃসরণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ দিন গড়িমসি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস এ রকম দুই ডজন স্থাপনার তালিকাসহ একটি প্রতিবদেন প্রকাশ করেছে, যেগুলো দাবানল, উপকূলীয় ভূমিয় এবং বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংগঠনটি মনে করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তন এই ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিউইয়র্কের লিবার্টি আইল্যান্ডে হাডসন নদীর মুখে সোয়া শ’ বছরের পুরনো স্ট্যাচু অব লিবার্টির পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক হারবারের কাছে ‘অ্যালিস আইল্যান্ড’র নাম। এই দ্বীপ হয়ে ১৮৮৬ থেকে ১৯২৪ সালের মধ্যে এক কোটি ৪০ লাখ অভিবাসী আমেরিকায় প্রবেশ করেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত ১০০ বছরে নিউইয়র্ক শহর ঘিরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। ২০০২ সালে হ্যারিকেন স্যান্ডির সময় স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও অ্যালিস আইল্যান্ড জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হলে উভয় দ্বীপের বেশির ভাগ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংস্কারের জন্য দীর্ঘ দিন বন্ধ রাখা হয় এ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।
এ দু’টি দ্বীপের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা এখন এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০ ফুট উঁচু প্লাবনেও সমস্যা না হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভার্জিনিয়ার এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ জেমসটাউন আইল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলাইনার সবচেয়ে পুরনো শহর চার্লসটন, দাস ব্যবসার অবসান ও আমেরিকার গৃহযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ফোর্ট মনরোও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
কেবল ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, উপকূলীয় এলাকায় নাসার সাতটি রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও নভোচারী প্রশিণ কেন্দ্রের পাঁচটিই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
ভার্জিনিয়ায় নাসার রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৯৪৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ওই কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ১৬০০টি রকেট উৎপেণ করেছে নাসা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াকেই কেনেডি স্পেস সেন্টারের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে নাসার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর। এ কারণে ফোরিডা থেকে হিউস্টন পর্যন্ত এলাকার মধ্যে নাসার প্রতিটি স্থাপনার বাইরে উঁচু প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে। সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ভবনগুলো।
নাসার কর্মকর্তা রাসেল ডি ইয়ুং বলেন, এখান থেকে এককথায় উঠে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়? এখানকার স্থাপনাগুলো বিশাল। ফলে উপকূল থেকে আমাদের একটু একটু করে সরে আসতে হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঝুঁকি কমাতে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার ও প্রস্তুতিতে বহু অর্থ প্রয়োজন হবে ঠিক, তবে কিছু না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে মূল্য দিতে হবে অনেক বেশি।
ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস-এর পরিচালক অ্যাডাম মার্কহ্যাম বলেন, যে বিপদের কথা আমরা বলছি তা কেবল হিমশৈলের দৃশ্যমান অংশ। আমাদের এখন দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে; আর তা বাস্তবায়নে যেখানে যে পরিমাণ তহবিল লাগে, তার জোগান দিতে হবে। সূত্র : ডয়চে ভেল।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan