জলবায়ুর পরিবর্তন:ক্যান্সারের ‘বীজ’ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাস ও পানিতে
তাপস দত্ত: বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের রেশ হিসেবে মেরু অঞ্চলের বরফের আস্তরণ ক্ষয়ে যাচ্ছে, গলে যাচ্ছে হিমবাহ। এ তথ্য এখন চর্বিত-চর্বণ হলেও এর হাত ধরে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য দিয়ে বলেছেন, বরফ আস্তরণ কিংবা হিমবাহ গলনের ফলে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাস ও মহাসাগরে। দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যচক্রের ভেতরে ঢুকে পড়ছে এবং মানুষের শরীরে টিউমার থেকে শুরু করে হৃদরোগ ও বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করছে।
জাতিসংঘের এনভায়নমেন্ট প্রোগ্রামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণাদল তাদের নতুন গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানবসৃষ্ট বিষাক্ত জৈব-রাসায়নিক পদার্থের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।গবেষণায় বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার চরমভাবাপন্ন অবস্থার কারণে সারা বিশ্বেই এসব দূষিত পদার্থের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে।বিজ্ঞানীরা ‘পারসিসট্যান্ট অরগানিক পলিউট্যান্টস’ (পপ্স) জাতীয় দূষক পদার্থের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, কয়েক দশক ধরে এসব বিষাক্ত পদার্থ পরিবেশ এবং মানুষের কোষ-কলায় পুঞ্জীভূত হয়েছে। এসব পদার্থের মধ্যে রয়েছে ডিডিটি এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত ‘পিসিবিএস’ রাসায়নিক।মেঙ্েিকার কানকুনে জলবায়ু সম্মেলনে জাতিসংঘের এনভায়নমেন্ট প্রোগ্রামের বিজ্ঞানী ডোনাল্ড কুপার বলেন, হিমবাহের গলন ও বরফ ক্ষয়ের কারণে সমুদ্র ও বাতাসে বছরের পর বছর আটকে থাকা পপ্স জাতীয় দূষক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে।অন্যদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে, আর এ রোগ ঠেকাতে ডিডিটি জাতীয় রাসায়নিক দূষকের ব্যবহার লাগামহীন হয়ে উঠছে।কুপার বলেন, ‘খাদ্যচক্রের ভেতরে খুব সামান্য পরিমাণ পপ্স জাতীয় দূষক পদার্থের আশ্রয় ঘটলেও একপর্যায়ে এই সামান্য অংশই খাদ্যচক্রের ওপর বিশাল মাত্রায় পুঞ্জীভূত হয়। অবশেষে সেই খাদ্যচক্র আমাদেরও গ্রাস করে। আমরা সেসব পপ্স দূষককে খুঁজে পাই মায়ের বুকের দুধে এবং আমাদের রক্তে।’
কুপারের মতে, এ সমস্যা বিশ্বের কোনো সীমানার তোয়াক্কা করে না। লাখ লাখ মাইল এলাকাজুড়ে এরা ঘুরে বেড়াতে পারে এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে সব প্রান্তেই। অতীতে বিভিন্ন দূষক জলপথে কিংবা বায়ুপথে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে মেরু অঞ্চলে এসে বিভিন্ন হিমবাহ ও বরফের আস্তরণে আটকে যেত। কিন্তু বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব হিমবাহ বা বরফ গলে গেলে তা পুনরায় সাগর এবং বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে তুমি বাংলাদেশ না ব্রিটেনে বসবাস করছ_সেটা কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়াবে না। কেননা জাতিসংঘের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মায়ের বুকের দুধে পপ্স দূষকের মাত্রা সারা বিশ্বেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘পিসিবিএস’ রাসায়নিক পদার্থ মানুষের বন্ধ্যাত্ব ও ক্যান্সার সৃষ্টির অনুঘটকের কাজ করে বলে এটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। খামারে ডিডিটি কীটনাশকের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়। জ্বালানি তেলের দহনে বায়ুবাহিত ‘পিএএইচএস’ দূষকের ব্যাপারেও কুপার সতর্ক থাকার কথা জানান। গবেষণাপত্রটি আগামী মাসে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হবে। সূত্র : ডেইলি মেইল।কালের কণ্ঠ।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি