জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত,গাদ্দাফিপন্থিদের দখলে ব্রেগা শহর, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের যাত্রা শুরু
ই উএসএনিউজ ডেস্ক: হাতছাড়া হওয়া শহর মারসা আল ব্রেগা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গাদ্দাফিপন্থিরা।সেখানে একটি তেলের স্থাপনা আয়ত্তে নিয়েছে তারা। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ওদিকে লিবিয়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। এই জাহাজের নাম ইউএসএস কেয়ারসার্জ। লোহিত সাগর ত্যাগ করে এই জাহাজটি সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার কাছাকাছি অবস্থান নেবে।এতে রয়েছে হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান। লোহিত সাগরে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় অপেক্ষায় রয়েছে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ। তবে এখনও এটিকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়নি। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, সরাসরি সামরিক অভিযান না-ও করা হতে পারে। এই যুদ্ধজাহাজ স্থানান্তরের কারণ লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে সতর্ক করা। তার বিরোধীদের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনায় সমর্থন দেয়া। অন্যদিকে, আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তারা যুদ্ধের আশঙ্কায় পড়িমরি করে ছুটছেন বাঁচার আশায়। ফলে চারদিকে সৃষ্টি হয়েছে গুরুতর মানবিক সঙ্কট। ওদিকে গাদ্দাফিপন্থিরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সশস্ত্র অবস্থায়। কোথাও কোথাও তারা বোমা হামলা চালাচ্ছে। আকাশপথে বোমা ফেলা হয়েছে ব্রেগা শহরে। বিদ্রোহীদের কাছ থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর গাদ্দাফিপন্থিদের দেখা গেছে উল্লাস করতে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখানো হয়েছে- তারা গাদ্দাফির ছবি বুকে ধরে তাকে অভিবাদন করছে। কোথাও দেখা গেছে, পিছনে ট্রাক জ্বলছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে গাদ্দাফির শক্তি জানান দিচ্ছে তার ভক্তরা। ব্রেগা থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরের শহর আজদাবিয়া’র এক কর্মকর্তা মোহাম্মেদ ইউসুফ বলেছেন, এ কথা সত্যি যে- গাদ্দাফিপন্থিরা ব্রেগা শহরে বিমান থেকে বোমা ফেলেছে। তারা ওই শহরের দখল নিয়েছে। লিবিয়ায় জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার পর এটাই মুয়াম্মার গাদ্দাফির বড় অর্জন। ওই শহরের পর তারা পাশের শহর আজদাবিয়া’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে সর্বত্রই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বিদ্রোহীরা। এখন পশ্চিমারা দেখছে, গাদ্দাফিকে যদি ক্ষমতা থেকে সরানো না যায় তাহলে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে- এমন খবরে তাদেরকে সাবধান করে দিয়েছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ত্যাগ করবেন না, নির্বাসনেও যাবেন না। সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে দ্বিমত দেখা দিয়েছে লিবিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যেও। তারা আতঙ্কিত এই ভেবে যে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হলে লিবিয়া পরিণত হবে আরেকটি ইরাকে। এতে দেশের স্থিতিশীলতা থাকবে না। এ অবস্থায় ‘আমরা সামরিক শক্তি চাই না, বিদেশীদের হস্তক্ষেপ চাই না, আমরাই লিবিয়াকে গাদ্দাফিমুক্ত করতে পারবো’ লেখা ব্যানার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে কোন কোন ভবনের দেয়ালে।
মানবাধিকার কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত :জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। দেশটিতে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় সাধারণ পরিষদ মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেয়। লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে লিবিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার দিকে ষষ্ঠ নৌবহর পাঠিয়েছে। যুক্তরাজ্য দেশটির জনগণকে রক্ষায় একটি ‘নো ফ্লাই জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। জেনেভাভিত্তিক ৪৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯২ সদস্যের সাধারণ পরিষদ লিবিয়ার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। ওই অধিবেশনে দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব অপরাধ বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার মানবাধিকার কাউন্সিল লিবিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সাধারণ পরিষদের নেয়া ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সুসান রিচ বলেন, সাধারণ পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেসব সরকার তার জনগণের দিকেই অস্ত্র তাক করে, মানবাধিকার কাউন্সিলে তাদের স্থান নেই।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030