জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বিজয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
শারকে চামান খান, নিউইয়র্ক: ১৬ ডিসেম্বর ”১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভ করে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় বিজয়ের পথে অগ্রসর হচ্ছে আর তা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জয় লাভ করা।”১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্থায়ী মিশনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন।
বিজয়ের এই বার্ষিকীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভিশন ২০২১’ সফল করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। ড. মোমেন মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য ভারত, ভূটান এবং রাশিয়া সরকারের প্রতিনিধিকে এবং মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে আগত বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ এইচ মাহমুদ আলী, এমপি ১৯৭১ সালে কিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষ অবলম্বন করে নিউইয়র্কস্থ তৎকালীন পাকিস্তান কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল পদ থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেন তার বর্ণনা করেন। ”বাংলাদেশের কাছে অন্যান্য দেশের অনেক কিছুই শেখার আছে” বললেন জাতিসংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মি. হরদীপ সিং পুরি (Mr. Hardeep Singh Puri)। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারা ভারতের জন্য গৌরবের বিষয়। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দু’দেশ ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির একই সুতায় গাঁথা।’ এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন দু’দেশের মধ্যেকার এই সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোকে কাজে লাগিয়ে দু’দেশের সাধারণ সমস্যাগুলো অর্থাৎ দারিদ্র্য এবং ক্ষুধাকে জয় করতে হবে। স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে ভারতে যাত্রাবিরতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতকে সম্মানিত করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-মধুসূদন-জীবনানন্দ দাস এর কাব্যধন্য বাংলাদেশ ও ভারত সর্বদা একই ঐতিহ্য ধারন করে। নানা বাধা বিঘন্ন পেরিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি মি. জ্ঞান চন্দ্র আচার্য্য (Gyan Chandra Acharya)। সাম্প্রতিক বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাশিয়ার উপস্থায়ী প্রতিনিধি মি. আলেক্সান্দার প্যানকিন (Alexander Pankin) তার সরকারের প থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে বাংলাদেশের প্রশংসাসূচক অবদানের উল্লেখ করেন তিনি। ভূটানের রাষ্ট্রদূত মি. লাতু ওয়াংচুক (Lhatu Wang Chuk) তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের উষ্ণ ও আন্তরিক ব্যবহারের উল্লেখ করেন।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ তথ্য কেন্দ্র পরিচালনার সাথে যুক্ত দু‘জন মার্কিন নাগরিক জেপি মর্গান ব্যাংক (JP Morgan) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড উইসব্রড (David Weisbrod) এবং ডা. ডেভিড নালিন (Dr. David Nalin) বক্তব্য রাখেন। ড. ডেভিড নালিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হোয়াইট হাউসের সামনে মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভে অংশ নেন। Dr. David Nalin ‘হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছো মহান তুমি মোরে দানিয়েছো খৃষ্ঠের সম্মান‘ আবৃত্তি করে বলেন ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ICDDRB তে কাজ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাথে তার হৃদ্যতার শুরু হয়। মি. উধারফ David Weisbrod ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং ড. ইউনূসের সঙ্গে ১৯৭১ সালে ওয়াশিংটনে ‘বাংলাদেশের তথ্যকেন্দ্র‘ স্থাপন এবং বাংলাদেশ এর স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তার কর্মকান্ডের কথা স্মরণ করেন তার বক্তব্যে।
ড. মোমেন উপস্থিত সকলকে জানান যে, নিউ জার্সি স্টেটের প্যাটারসন সিটির মেয়র মি. জেফরি জোনস তার সিটিতে বসবাসরত ১৪ হাজার বাঙালীর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৬ ডিসেম্বর সকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের বিজয় দিবস পতাকা উত্তোলন করেন। প্রতি বছর বাংলাদেশের বিজয় দিবসে এই পতাকা উত্তোলন করা হবে বলে তিনি জানান।
আলোচনা শেষে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। বিপুল সংখ্যক কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবাসী বিশিষ্ট বাঙালীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সমাবেশের দ্বিতীয় অংশে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।স্বপ্না কাওসার পরিবেশিত দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ভাষণ থেকে পাঠ করেন জি এইচ আরজু। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিলে মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মনজুর কাদের। এছাড়া তাহমিনা শহীদের দেশাত্মবোধক গান এবং লুৎফুন নাহার লতার আবৃত্তি শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ এর রচনা ও পরিচালনায় ”তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা” শীর্ষক শ্রুতি নাটকে অংশ নেন চঞ্চল, ইভা ও স্বপ্না।পরিশেষে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ এর পরিচালনায় উপস্থিত সুধী একটি ধাঁধাঁর আসরে অংশ গ্রহণ করে। ধাঁধাঁয় বিজয়ী রেখা আহমেদ,পাপিয়া সুলতানা এবং ড. জিয়া উদ্দিনকে পুরস্কার প্রদান করেন ড. মোমেন।
এর আগে সকালে মিশন প্রাঙ্গনে স্থায়ী প্রতিনিধির জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্থায়ী মিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু করে। এসময় মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বিকেলের অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজয় দিবস উপলে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্টমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এম.পি এর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে ইকনমিক মিনিস্টার মোঃ নজিবুর রহমান, কাউন্সিলর মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি