জাতিসংঘ পুরস্কার পেলো ঢাকার বস্তির মেয়ে শ্যামলার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
জাতিসংঘ পুরস্কার পেল শ্যামলার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সে গল্প লিখেছিলেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহতাব হায়দার ও নাদের রহমান। সোমবার অপরাহ্ণে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর রাত) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পক্ষে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন। পুরস্কার প্রদান করেন ইউএনডিপি প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক। এ সময় তার পাশে ছিলেন ইউএনডিপির প্রেসিডেন্ট ডিজিবুতির স্থায়ী প্রতিনিধি রোবেল ওলহাইয়ে।
এ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ইউএনডিপির প্রধান হেলেন ক্লার্ক বলেন, “এসব গল্পের মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো- দরিদ্রদের কল্যাণেই ইউএনডিপির সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।”
শ্যামলা বেগমের ভাগ্যের পরিবর্তনের গল্পের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের হতদরিদ্র্যদের স্বাবলম্বী হবার পথে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর নিরলস প্রয়াসের চিত্র পরিস্ফুট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইউএনডিপি প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি সফল হয়েছে। মানবিক উন্নতি ঘটেছে বিভিন্ন স্তরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের এ পুরস্কার গ্রহণের সময় রাষ্ট্রদূত ড. মোমেনের পাশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইকনোমিক মিনিস্টার বরুন দেব মিত্রও ছিলেন।
বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির কার্যক্রম অগ্রগতির যে স্বাক্ষর রাখছে তার ওপর লেখা গল্প নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক এ সংস্থা। প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি গল্পকে পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হয়। শ্যামলা বেগমের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্পটি সেখানে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। যুক্তরাজ্য ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আরবান পার্টনারশিপ ফর পোভার্টি রিডাকশনের (ইউপিপিআর) সহায়তায় দুই সন্তানের মা শ্যামলার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে ওই গল্পে। প্রায় তিন বছর আগের কথা, স্বামী রিকশাচালক জামালের হাত ধরে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে একটি বস্তিতে উঠেন শ্যামলা। ভালই কাটছিল দিন। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে হওয়ায় ‘ক্ষুব্ধ’ জামাল স্ত্রী-সন্তান ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। বিভিন্ন জায়গায় অনেক ঘুরাঘুরি করেও স্বামীর খোঁজ না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন শ্যামলা।
সে সময় আরবান পার্টনারশিপ ফর পোভার্টি রিডাকশনের দেয়া সহায়তার আড়াই হাজার টাকায় বস্তিতেই চায়ের দোকান দেন তিনি। দু’মাসের মাথায় লাভের মুখ দেখেন। এখন বেশ সচ্ছলতার সঙ্গেই চলছে তার সংসার। এনজিওর সহায়তায় তার মেয়েরাও যাচ্ছে স্কুলে।
ইউএনডিপি দ্বিতীয় বছরের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে বিশ্বের ৬৬টি দেশ থেকে ১২০টি গল্প চূড়ান্তপ্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়। সেগুলোর মধ্য থেকে ১২টি গল্পকে পুরস্কার দেয়ার জন্য বেছে নেন ১২ সদস্যের বিচারকমণ্ডলী, যাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও রাজনীতিবিষয়ক সাংবাদিক ও কূটনীতিকরা ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় পপ্রথম হয়েছে ব্রাজিলের একটি আদিবাসী পরিবারের আধুনিক প্রযুক্তির চুলা ব্যবহারের গল্প। ইউএনডিপির সরবরাহ করা পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে ওই আদিবাসী পরিবার কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়েছে তা উঠেছে গল্পে। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান লাভ করেছে চীনের আপেল উৎপাদনকারী কৃষকদের একটি গল্প। ইউএনডিপির একটি প্রকল্পের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে আপেল উৎপাদন করে কিভাবে তারা লাভবান হচ্ছে তা বলা হয়েছে ওই গল্পে।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি